নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও মাঝের সিট্ দুটো আমাদের, তাই উনাকে গুড মর্নিং বলে আইলে আমার স্ত্রী এবং মাঝের সীটে আমি বসলাম। ভদ্রলোক একটু নড়ে চড়ে বসলেন, সামান্য কুশল বিনিময় ব্যাতিত তেমন কোনো কথা বললেন না, আমিও আর তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে টেলিফোনে চোখ রাখলাম। অল্পক্ষনেই বোর্ডিং শেষ করে প্লেন গেট ছেড়ে রানওয়ের দিকে চলতে শুরু করলো।
এরোপ্লেনের স্বল্প আলো আঁধারের মাঝে পাশের ভদ্রলোককে আমাদের কাছে একজন সাদা আমেরিকানেরই মত মনে হয়েছে। আমাদের ফ্লাইটের সময় ঘন্টাখানের চেয়ে সামান্য বেশি। স্বল্প সময়ের এই ফ্লাইট আমার স্ত্রীর সাথে সাধারণ দুই একটি কথা বার্তা ছাড়া মোটামুটি চুপচাপই কেটে গেলো। প্লেন থামার পর যখন নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি পাশের ভদ্রলোক হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, আর ইউ ফ্রম বাংলাদেশ ? একটু অবাক হয়েই বললাম, yes! তখন উনি বললেন, আই'ম ফ্রম ইন্ডিয়া ! I used to work in Calcutta, তখন আমি ভালোই বাংলা বলতে পারতাম, সে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের কথা। এখন আর তেমন ভালো বলতে পারি না, তবে বুঝতে পারি !
মুহূর্তে মাথায় এলো, আমি ও আমার স্ত্রীর মাঝে কি কি কথা হয়েছে? মনে হলো বেশির ভাগ সময়ই চুপ চাপ ছিলাম, অল্প দুই একটা কথা হয়েছে যা অতীব সাধারণ, দৈনন্দিন কথা বার্তারই অংশ ! মনে হলোনা তেমন কিছু ব্যাক্তিগত বা আপত্তিকর কিছু বলেছি। মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম !
গেট থেকে বেরিয়ে টার্মিনালের এক্সিটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ভাবছিলাম, পাশে লোকজন থাকলে, সে কোন দেশের না ভেবে, কথা বার্তা কম বলা ভালো, বিশেষ করে ব্যাক্তিগত বিষয়াদি আলোচনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




