somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নভঙ্গ!!

১১ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলহামদুলিল্লাহ আসসালাতু আসসালামআলা রাসুলিল্লাহ



রফিক অফিস থেকে বাড়ি ফিরতেই তার ছোট্ট মেয়ে বায়না ধরল।
: বাবা, দই আইসক্রিম খাবো। বাবা আমাকে একটা দই আইসক্রিম কিনে দাও।
: দেখো মেয়ের কান্ড ! বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই মর্জি আর দস্যিপনা শুরু। বলছিল রফিকের স্ত্রী নীলা।
: আচ্ছা ঠিক আছে, বাবা। তুমি না আমার সোনা মেয়ে। কাল তোমার জন্য অফিস থেকে ফেরার সময় দই আইসক্রিম নিয়ে আসব। বলে সান্ত্বনা দিচ্ছিল রফিক।
কিন্তু মেয়ের সেই আবদার কি আর থামে! না বাবা! তুমি এনে দাও। এনে দাও। এনে দাও।
রফিক সাহেবের খারাপ লাগে না। প্রতিদিন অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পর, তার ছোট্ট মেয়েটি সারা খন তাদের ঘর মাতিয়ে রাখে। এ যেন তাঁর পরম আনন্দের ব্যাপার।
রফিক ছোট্ট একটা বেসরকারি চাকরি করে। ছোট্ট মেয়ে তুলি, তিনি ও তার স্ত্রী এ নিয়ে তার সুখের সংসার। তার মা-বাবা মারা গিয়েছেন অনেক আগে। বসতভিটা ও নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এখন ঢাকায় ছোট্ট একটি ভাড়া বাড়িতে তারা থাকে। সুখেই কাটছে তাদের সংসার জীবন ।
রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় রফিক ও তার স্ত্রী। ছোট্ট মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়েছে।
: ওগো শুনছো মেয়ের তো পাঁচ বছর হতে চলল এবার তো তাকে একটা স্কুলে ভর্তি করাতে হবে।
: হ্যা তুমি ঠিকই বলেছ। এ নিয়ে আমিও চিন্তা করছি। কাছের স্কুলটা তেমন একটা ভালো শুনেছি নাকি ভালো পড়ায় না তাই একটু দূরের ওই স্কুল টাতে ভর্তি করাবো বলে ভাবছি।
: ওই স্কুলে তো অনেক খরচ। তাছাড়া যাতায়াতে অনেক খরচ হবে। তুমি কিভাবে দিবে?
: ও নিয়ে তুমি চিন্তা করো না। আমি এক ভাবে চালিয়ে নিতে পারব। একটা মাসিক রিকশা ভাড়া করব । তাতে করে প্রত্যেক দিন তুমি তুলিকে স্কুলে নিয়ে যাবে তাহলেই তো হলো।
: এত খরচ তুমি সামাল দিতে পারবে?
: আরে বললাম তো, এটা নিয়ে তুমি ভেবো না। আমি চালিয়ে নিতে পারব। আর ভালো কথা! তোমার জন্য একটা কানের দুল বানাতে দিয়েছি। ছয় বছর ধরে আমাদের বিয়ে হয়েছে। অথচ তোমাকে তো তেমন একটা কিছু দিতে পারলাম না। তাই এবারের ঈদে তোমাকে একজোড়া কানের দুল দিতে চাই।
: সত্যি! তুমি পারোও বটে! আমার দুল টুল চাইনা। মেয়ে বড় হতে চলেছে। তার ভবিষ্যতের কথা আমাদের চিন্তা করতে হবে না!
: ভালো একটা কথা মনে করেছ। ভাবছি আগামী মাসে মেয়ের নামে ব্যাংকে একটা ডিপোজিট করব।
: সত্যি তুমি আমাদের জন্য কতই না ভাবো।
নীলার মনে একটা গভীর প্রশান্তি বয়ে গেল। আমাদের এ সুখের সংসারে যেন কোনো অশুভ ছায়া না আসে। ভাবতে ভাবতে তার বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে।

পরদিন সকাল। যথারীতি রফিক নাস্তা সেরে হাসিমুখে তার মেয়ে এবং স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিল। এবার তার অফিস যাওয়ার পালা
অফিসে সারাদিন সে কাজ করলো। মাঝে মাঝে মেয়ের দই আইসক্রিম এর আবদারের কথা তার মনে পড়তে লাগলো।
অফিস ছুটি। এখন তার বাড়ি ফেরার পালা। মনটা তো তার বাড়িতেই পড়ে আছে। বাস স্ট্যান্ডে বাসের জন্য দাঁড়াল রফিক। রাস্তার ঠিক ওই পাড়ে আইসক্রিমের দোকান। সে ছুটে গেল সেখানে। একটা দই আইসক্রিম কিনল । দই আইসক্রিম এর দিকে তাকাতেই তার মেয়ের হাসি মুখ তার চোখে ভেসে উঠলো। ছোট্ট আইসক্রিম টির মূল্য তার কাছে অনেক। এটি তার মেয়ের মুখে হাসি । সে হাসির দাম রফিকের কাছে অমূল্য। এটি পেয়ে তার ছোট্ট মেয়েটি কি যে খুশি হবে এবং তার সাথে তার গালে আলতো করে একটি চুমু দিয়ে দিবে। অসাধারণ সে অনুভূতি।
হঠাৎ হর্ন এর শব্দে তার কল্পনার রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে।
আইসক্রিম টি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে পথে থাকা একটি সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। একদম রাস্তার মাঝামাঝি। বিপরীত দিক থেকে একটি বাস প্রচন্ড গতিতে আসছে।হাত দিয়ে সে ইশারা করলো বাস ড্রাইভার কে। আরেকবার ইশারা করল। কিন্তু বাসটি থামলো না। তার মাথা থেঁতলে দিয়ে চলে গেল। রক্তের ফোটায় মাখামাখি হলো দই আইসক্রিম। তার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। অনেকগুলো স্বপ্নের ইতি ঘটলো। সেগুলো কি আর কখনো পূরণ হবে?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:০৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×