
কথায় বলে দুর্যোগে পূর্ব প্রস্তুতি ভালো থাকলে, ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। আসামের ' বৈধ নাগরিক তালিকা ' নামের ঝড় আমাদেরকে যে কোন সময় আঘাত করতে পারে। সে হিসেবে আগেভাগে পূর্ব প্রস্তুতি নিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমতে পারে।
আসামে বর্তমানে এন আর সি বা বৈধ নাগরিকপঞ্জিতে প্রায় ৪০ লক্ষ বাংলা ভাষাভাষী লোক বাদ পড়েছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের স্বার্থসিদ্ধি অর্থাৎ আসামে বিজেপির ভোট ব্যাংকে স্থায়ী সুবিধা প্রাপ্তির অন্যতম হাতিয়ার এ নাগরিকপঞ্জী। যার ফলে সমস্যা দিনে দিনে কেবলই প্রকট আকার ধারণ করছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল এতগুলো মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ভারত সরকার তাদেরকে কি ভারতে বসিয়ে রাখবে? কি গ্যারান্টি আছে যে আজ না হয় দু'বছর পর বা পাঁচ বছর পর ভারত সরকার তাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করবে না!!
অর্থাৎ এ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের মাথা ঘামাতেই হবে। শুধুমাত্র ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে নিশ্চিন্ত থাকা কোন মতেই ঠিক হবে না।
এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে আসামের অনেক লোক বা তাদের পূর্ব পুরুষেরা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের এক সময়কার অধিবাসী। তারা আমাদেরই ভাই আমাদেরই বোন। একসময় বাংলাদেশ তাদের আমাদের মতই জায়গা জমি বাড়িঘর ছিল। তারা মোটেও রোহিঙ্গাদের মতো না। তাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা শুরু করলে আমাদের আবশ্যক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে তাদেরকে জায়গা দেয়া।
সুতরাং আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি নিতেই হবে।

পূর্ব প্রস্তুতি সরকারি পর্যায় থেকেই নিতে হবে। কিভাবে প্রস্তুতি নিবে তা নির্ভর করে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। আসামের বাঙালি জনসংখ্যার দিকে সরকার ৩ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে পারে।
১. কঠোর অবস্থান: ভারত থেকে কোনভাবেই কোন লোককে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
২. নমনীয় ও যৌক্তিক অবস্থান: ভারতকে সমঝোতা ও সতর্ক দুটোই করা। বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানো। এবং একান্ত বাধ্য হলে তাদেরকে গ্রহণ করা
৩. নতজানু নীতি: ভারতের প্রতি নতজানু হয়ে তাদের কথা মতো আসামের লোকদের গ্রহণ করা।

তিনটি অবস্থান ও এ সংক্রান্ত পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আমার বিশ্লেষণ থাকছে আগামী পর্বে।
ছবিসূত্র: google
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



