আলহামদু লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ
আগামীকাল ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস। জাতীয় ভাবে পালিত হবে শোক দিবস। অপরদিকে বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি এই দিন এই দিন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবে সারাদেশে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হন। অপরদিকে ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া ( সূত্র উইকিপিডিয়া)
ইসলাম ধর্মে মৃত্যুদিন বা জন্মদিন পালন মহানবী সাঃ এর সময় অথবা সাহাবীগণের সময় দেখা যায় না। এমনকি সাহাবীদের পর অনেক বছর পর্যন্ত কোন আরবের কোন রাজাদের ও জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালন করা উল্লেখ করা যায় না। অর্থাৎ জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালনের রীতি মুসলিম বা আরবদের মধ্যে ছিল না। অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে মৃত্যু দিন বা জন্মদিন পালনের রীতি নেই। বরং দিবসভিত্তিক বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে।
তবে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে অথবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে(ধর্মীয় আওতার বাইরে) মৃত্যুদিন বা জন্মদিন পালন করেন, তাহলে সে ব্যাপারে ইসলাম ধর্মে কোন বাধা নিষেধ নেই।
২
শোক দিবস পালন যদি ধর্মীয় আওতার বাইরে হয় তবে তাতে কোন দোষ নেই।
তবে মৃত ব্যক্তির জন্য ইসলাম ধর্মে করনীয় অনেক কিছু রয়েছে। যা দিবস কেন্দ্রিক নয়। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মৃত আত্মীয় স্বজন দের জন্য আমাদের মন কাঁদে। সেজন্য ইসলাম ধর্মে মৃত ব্যক্তির জন্য সাদকায়ে জারিয়া র ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনেরা অথবা যে কেউ যদি মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য কোন কিছু দান করেন বা কোন কল্যাণমূলক কাজ করেন তবে তা মৃত ব্যক্তির সওয়াবের উপলক্ষ্য হবে। অর্থাৎ কবরে বসে মৃত ব্যক্তি সেই সওয়াব লাভ করতে পারবে।আমাদের দেশে জাতীয় শোক দিবসে বিভিন্ন ধরনের সভা আলোচনা, সিম্পোজিয়াম হয়। এসব ব্যাপারে ইসলাম ধর্মে তেমন কোনো বাধা-নিষেধ নেই। এছাড়াও শোক দিবসে নানা জায়গায় খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। সওয়াবের উদ্দেশ্যে এসব কাজ সামান্যই ফল দেবে। যারা খেতে পায় না তাদের খাবার দিলে সওয়াব হবে । তবে শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় রক্তদান কর্মসূচি র আয়োজন করা হয় ও সারাদেশের দোয়ার আয়োজন করা হয়। যা অনেক সাওয়াবের। এসব কাজে ধর্মীয়ভাবে লাভ পাওয়া যাবে।
অপরদিকে জন্মদিন কেন্দ্রিক কোন আয়োজন অথবা কোন ধরনের ইসলামী নিয়ম নেই। বিভিন্ন আলেম উলামারা জন্মদিন পালনে নিরুৎসাহিত করেন। অর্থাৎ ধর্মীয়ভাবে জন্মদিন পালনের কোন ফায়দা নেই। জন্মদিন কেন্দ্রিক কেক কাটা আর অন্যান্য অনুষ্ঠান একান্তই দুনিয়াবী বিষয়।
৩
একই দিনে একই বাড়িতে যদি কারো জন্মদিন ও মৃত্যু দিন থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই আমরা সেই জন্মদিন কে এড়িয়ে চলি। শোককে উপরে রাখি। এটা আমাদের সহানুভূতির জায়গা থেকে আসে।ঠিক তেমনি জাতীয় ভাবে যদি জন্মদিন বা মৃত্যুদিন পালন এর প্রশ্ন আসে, তবে আমার মনে হয় শোকের এই দিনে জন্মদিন পালন না করাটাই মানবিক হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



