somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আলী নওয়াজ খান
আমি ভবঘুরে মানুষ । ভবের ঘরে প্রবেশের নেশায় ঘুরে ফিরি দিবানিশি।

হাদীসের আলোকে শাবে_বরাত উদযাপন

০১ লা মে, ২০১৮ দুপুর ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উপমহাদেশে শাবে বরাত উদযাপনের ইতিহাস অনেক পুরাতন। বর্তমানে উপমহাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েগেছে। আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অর্ন্তভুক্ত হওয়ার একটি মুল কারণ হল এদেশে ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে #১৫ই_শাবান বা শাবে বরাতের কালচারও মুসলিম সমাজে প্রচার ও প্রসার লাভ করে । ফলে আজ এশাবে বরাত সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে মিশে গিয়েছে।
কিন্তু আরব বিশ্বে বিশেষ করে জাজিরাতুল আরব আলে সউদের দখলে আসার পর যখন ওহাবী মতাদর্শকে রাষ্ট্রিয় ভাবে গ্রহণ করা হল তারপর থেকে ওহাবী মতবাদকে বিশ্বায়নের প্রতিযোগীতায় নামে আমেরিকা+বৃটিশ ও সৌদি আরবের রাষ্টিয় শক্তি। ঠিক এসময়ই সৃষ্টি হয় ইসলামী অন্যান্য মাজহাব গুলোর বিভিন্ন কৃষ্টি কালচারের সাথে ওহাবী চিন্তাদর্শের দ্বন্দ্ব ও পারশপারিক বির্তক। এ বির্তক সমূহের একটি হল শাবে বরাত, যা এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ উদযাপন করে থাকেন। অথচ সৌদি আরবের রাষ্ট্রিয় মাজহাব ওহাবী মতাদর্শের আলেমগণ ঐ ওহাবী চিন্তার আলোকেই শাবে বরাতকে বিদ;আত বিদ’আত বলে মাইকিং করে যাচ্ছেন।
আজও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শাবে বরাত উদযাপিত হয়ে থাকে বিভিন্ন নামে । যেমন :
ইরানে বলা হয় : শাবান মাসের মধ্যম রজনী [ নিমে শাবান]
সৌদি আরবে বলা হয় : لیلة منتصف شعبان
দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে বলা হয় : মুক্তি রজনী
তুরস্কে বলা হয়: Berat Kandili
আর উপমহাদেশে বলা হয় : শাবে বরাত
আবার কেউ কেউ মুনাজাতের রজনীও বলে থাকেন।

আরবী সনের অষ্টম মাস হল #শাবান_মাস । পবিত্র শাবান মাস অত্যান্ত বরকতপূর্ণ ও #ফজিলতের_মাস। মহানবী (স.) এমাসকে নিজের মাস হিসাবেই আখ্যায়িত করেছেন।১৫ই শাবানের ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্নিত হয়েছে আমরা এখানে একটি রেওয়ায়েত উপস্থাপন করছি।

মহানবী (স.) বলেন : ১৫ই শাবানের রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম এমন সময় জীব্রাইল (আ.) আমার শিয়রে এসে উপস্থিত হয়ে বললেন: হে মুহাম্মদ আজ রাতে ঘুমিয়ে আছেন কেন ?
জিঙ্গেস করলাম কেন হে জীব্রাইল ? আজকের রাত কোন রাত? বললেন : শাবান মাসের মধ্যম রজনী! উঠুন ! এরপর তিনি আমাকে জান্নাতুল বাকীর দিকে নিয়ে গেলেন এবং বললেন আপনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন ! আজ রাতে আসমানের দ্বার সমূহ খুলে রহমতের দ্বার সমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে । খুলে দেয়া হবে সন্তুষ্টি,ক্ষমা, রিজিক, কল্যাণ ও দানের দরজা।...... অতএব হে মুহাম্মদ আজকের এরাতে যে ব্যক্তি প্রতিপালকের গুনকীর্তন করবে [তাসবিহ পাঠ], একত্ববাদের সাক্ষ্য দিবে, [তাহলিল] মহত্ব বর্ণনা [তাকবীর ] এবং মোনাজাত করবে , নামাজ ও কুরআন পাঠ করবে, নফল নামাজ আদায় করবে, এবং সকাল পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা [ ইস্তেগফার ] করবে তার স্থান হবে বেহেশত । ঐব্যক্তির পূবের সকল পাপকর্মকে ক্ষমা করে দিবেন মহান আল্লাহর রব্বুল আলামীন। [ হাদীসটি সংক্ষেপে দেয়া হয়েছে]
১.[ইবনে তাউস, আলি ইবনে মুসা, ইকবালুল আমাল গ্রন্থ, পৃ: ২১১, প্রকাশক মুয়াছাছাতুল ইলমি লিলমাতবুয়াত, বৈরুত, ১৪১৭ হি: ]
২.[আল্লামা বাকের মাজলেসী, বিহারুল আনোয়ার, ৯৮ তম খন্ড, ৪১৩ পৃ: প্রকাশক, মুয়াছাছাতুল ওয়াফা, বৈরুত, ১৪০৩ হি:]
অতএব মহানবী (স.)এর যুগ থেকেই ১৫ই শাবান একটি বিশেষ ইবাদতের রজনী ছিল।
১৫ শাবান উপলক্ষে মহাকবি হাফেজ শিরাজীর প্রশিদ্ধ কবিতা ।
[http://ahlolbait.com/…/شعر-حاÙ%8…]

শাবান মাসের ১৫ তারিখ আগে থেকেই #ইসলামী_কৃষ্টিতে একটি বিশেষ ফজিলতপূর্ণ #ইবাদতের_রাতস্বরূপ স্বীকৃত ছিল । এহিয়া উলুমুদ্দীন গ্রন্থে ১৫ই শাবানের বিশেষ ইবাদতের কথা ইমাম আবু হামেদ গাজ্জালীও বর্ণনা করেছেন। মাসনবী শরীফে মাওলানা জালাল উদ্দীন রূমীও কাব্যেও ফুটে উঠেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ দুপুর ২:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×