somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাগলা নিমাই।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'মেয়েটাকে বিয়ে দিলাম আজ কতদিন হয়ে গেল! এখনও কোন
চিঠিপত্র দিচ্ছে না কেন? বড় অভাগা মেয়েটা! পৃথিবীতে আসার
পরই মাকে হারিয়েছে। শৈশব কেটেছে এই অধম বাবার জন্য
রান্না করে। বাবার জন্য মেয়েটা আমার কত কিছুই করল। কিন্তু ওর
এই অধম বাবা ওর জন্য কিছুই করতে পারল না।'
...
...
১০ বছর আগের কথা। মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে
গেছিলাম। এর মধ্যে মেয়েটার মুখে বাবা ডাক শুনে চমকে উঠলাম।
পিছনে ঘুরে দেখি, কয়েকজন লোক ধরাধরি করে মেয়েটাকে
নিয়ে এসেছে। প্রচন্ড অসুস্থ মেয়েটা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন
যৌতুকের টাকার জন্য পাশবিক অত্যাচার করেছে। টাকার জন্য
হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলাম না। চোখের সামনে ধুকে ধুকে
মারা গেল। যাবার আগে শুধু একটা কথাই বলল,
"বাবা, টাকা চেয়ে তোমাকে কত চিঠি লিখলাম! টাকাও
পাঠালে না আর চিঠির উত্তর ও দিলেনা।"
কথাটা শুনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। আমার মেয়ে আমাকে
এতগুলো চিঠি লিখেছে আর আমি তার একটাও পেলাম না। অথচ
প্রতিনিয়ত আমি কত মানুষের চিঠি পৌছে দেই। লজ্জায়, ঘৃনায়
সিদ্ধান্ত নিলাম আর কখনও ডাকপিয়নের কাজ করব না। এক
আকাশ কষ্ট বুকে নিয়ে মেয়েটাকে কবর দিলাম। তারপর থেকে
মাথার মধ্যে শুধু ওই কথাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে,
"বাবা, টাকা চেয়ে তোমাকে................................"
...
...
প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রনায় ঘর ছাড়লাম। ডাকপিয়ন নিমাইচন্দ্র
থেকে হয়ে গেলাম নিমাই পাগলা। এখন আমি মাথাভর্তি চুল আর
লম্বা দাড়িগোঁফের অধিকারী। পুরো ব্যাপারটা বেশ উপভোগ
করি আর শুয়ে শুয়ে শুধু মৃত্যুর দিন গুনি।
...
...
এখন যে জায়গাটায় শুয়ে আছি সেটা একদম নিরাপদ নয়। আকাশে
বেশ মেঘ জমেছে। চারিদিকটা ভয়ংকর অন্ধকার।
মধ্যরাত বলে কেউ নেই। হয়ত একটু পরেই বৃষ্টি নামবে। ঝুম বৃষ্টি।
প্রচন্ড শব্দে বাজ পরবে দূরে কোথাও। কিন্তু আমার গায়ে
পরবেনা। আল্লাহ্ এত তারাতারি আমার দুঃখের অবসান ঘটাবেন
না। কেননা যতবারই মরতে চেয়েছি আল্লাহ্ ততবারই বাঁচিয়ে
তুলেছেন। মানুষের জীবনের গল্পগুলো এমনই। যার বেঁচে থাকা
দরকার সে খুব দ্রুত মরে যাবে। আর যার মারা যাওয়া দরকার সে
মরতে মরতেও বেঁচে উঠবে।
...
...
কষ্ট পেতে পেতে অনেক আগেই বদলে গিয়েছি। নিজের কাছেই
নিজেকে এখন বিস্ময় লাগে। চিনতে কষ্ট হয়। মাঝেমাঝে ভাবি,
আজকের এই নিমাই পাগলাই কি সেদিনের ডাকপিয়ন নিমাই?
অনেকদিন হল আয়না দেখিনা। বড্ড ভয় হয়। হঠাৎ করে যদি ১০ বছর
আগের সেই গরীব নিমাইকে আবার দেখে ফেলি! গরীব নিমাইকে
আর দেখতে চাইনা। লুকিয়ে রাখতে চাই পাগলা নিমাইয়ের মধ্যে।
...
...
নিমাই পাগলা আর ডাকপিয়ন নিমাইয়ের মধ্যে পার্থক্য খুব
সামান্য। ডাকপিয়ন নিমাই মানুষের কাছে চিঠি পৌছে দিয়ে
টাকার জন্য হাত পাতত। আর পাগলা নিমাই চিঠি ছাড়া টাকার
জন্য হাত পাতে। তবে চিঠি না দিলে কেউ টাকা দিতে চায়না।
মানুষগুলো সব সার্থপর। কেউ কারো কথা ভাবেনা। যদি ভাবত
তাহলে সারাদিন না খেয়ে থাকতে হতনা।
...
...
প্রচন্ড বাতাস বইতে শুরু করেছে। চারিদিকটা সব উল্টেপাল্টে
যাচ্ছে। এরই মধ্যে কোথা থেকে যেন হলুদ রংয়ের একটা খাম এসে
পরল আমার সামনে। অনিচ্ছাকৃত ভাবে খামটা খুললাম। নীল কালি
দিয়ে লেখা অল্প কয়েকটা লাইনের একটা চিঠি।
"বাবা,
হঠাৎ চিঠি লেখার দুটো কারন,
১) তোমাকে চমকে দেয়া।
২) তোমার নাতি হচ্ছে এই খবরটা দেয়া। মুখে বললে লজ্জা লাগবে
বলে চিঠির আশ্রয়।
নাতি হবার কথা শুনে তোমার কেমন লাগছে তা খুব শীগ্রই
জানাবে কিন্তু।
ইতি,
তোমার মা।"
...
...
ইশ! মেয়েটার চিঠিটা হয়ত ডাকপিয়ন হারিয়ে ফেলেছে।
অন্যদিকে মেয়েটা না জানি কত আশা নিয়ে বসে আছে। আমার
ভেতরটা এমন করছে কেন? তবে কি আমি আবার ডাকপিয়ন হয়ে
যাব!!!
...
...
প্রচন্ড বৃষ্টি আর বাতাস। এত ঝড়ঝাপটায় হেঁটে যাওয়া খুব মুশকিল।
তবু আমি সবকিছু উপেক্ষা করে নিজের অজান্তেই হেঁটে চলেছি।
খুঁজে চলেছি একটি ঠিকানা।
...
...
লেখক: অ্যালেন সাইফুল।
উৎসর্গ: জামি জাহান। (লাড্ডু)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×