
বাংলা সিনেমা মুক্তি পাবার আগে নায়ক-নায়িকা, পরিচালক এবং বিভিন্ন মিডিয়ার কল্যানে আমরা যে কথাটি সবচেয়ে বেশি শুনতে পাই,
"আমাদের এই ছবির গল্প গতানুগতিক না। এ কারনেই সবার ভালো লাগবে।"
মজার ব্যাপার, সব ছবিই গতানুগতিক হচ্ছে। আর ছবির নামগুলোর তো যাচ্ছেতাই অবস্থা। জানিনা পরিচালকরা কী মনে করে এসব ছবি বানানোর কাজে মন দেয়।
আমার মনে হয়, সিনেমা বা ছবি এমন একটা ব্যাপার যার মাধ্যমে একটা জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে রঙ্গিন পর্দায় দেখে দেখে জানতে পারে। কিন্তু ইদানীং কালে আমাদের দেশে এমন ছবি খুব কমই তৈরি হচ্ছে। যার মাধম্যে আমরা আমাদের সংস্কৃতি কে জানতে পারি।
আমাদের পরিচালকরা এখন নিজস্ব মেধাকে কাজে না লাগিয়ে নকল নির্ভর হয়ে গেছে। বলতে গেলে ৮০% ছবির থিম চুরি করা হচ্ছে। আর যে ২০% মেধা খাটিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেসব ছবিগুলো আসলেই খুব ভালো হচ্ছে।
এই যেমন গত বছরে মুক্তি পাওয়া "জালালের গল্প" ছবিটার কথা চিন্তা করি। ছবিটাতে পরিচালক আমাদের সংস্কৃতি কে ঠিক তুলে ধরতে পেরেছেন। যেখানে কুসংস্কার আছে, মোড়লদের শোষণ আছে আর সবচেয়ে বেশি যেটা আছে সেটা হল, এক নিষ্পাপ কিশোরের জীবনের গল্প। পরিচালক দেখিয়েছেন যে, এতিম একটা শিশু কিভাবে তলিয়ে যায় সমুদ্রের স্রোতের অতলে।
পাশাপাশি "মৃত্তিকা মায়া" ছবিটার কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, গাজী রাকায়েত স্যার গ্রাম্য একটা মেয়ের পুরো জীবনকে তুলে ধরেছেন। আমার জানামতে ছবিটা ১৭ টা পুরষ্কার ও জিতেছে। (ভুল হতে পারে)
উল্লেখযোগ্য নকল ছবি কেউই দেখতে চায়না। সবাই চায় নতুন কিছু দেখতে। মানুষরা নতুন কে পছন্দ করে। তারা নকলের মাঝে ডুবে থাকতে পছন্দ করেনা।
আমরা বিদেশী ছবির নকল চাইনা। আমাদের বিদেশীদের মত অত উন্নত প্রযুক্তি নাই। তবে আমরা আমাদের যা আছে তার সঠিক ব্যবহার চাই। আমরা আমদের সংস্কৃতিকে পর্দায় দেখতে চাই। ভালো কিছু গল্প চাই, মানুষের জীবনের গল্প দেখতে চাই।
অশ্লীল কিংবা নকল কিছু আমরা দেখতে চাইনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



