somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৫ঃ কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

১১ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবির উৎস

(শুরুতে নিবেদনঃ ‘ বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৫’ উপলক্ষে এই লেখাটি লিখেছিলাম। বরাবরের মত গত ৫ জুন বিশ্ব ব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। অনিবার্য কারনবশতঃ দিনটিতে 'সামু' বন্ধ থাকায় পরিকল্পনামাফিক লেখাটি পোস্ট করা সম্ভব হয় নাই। সকল পাঠক ব্লগারকে পরিবেশ দিবসের বিলম্ব শুভেচ্ছা)

"শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন,একটি বিশ্ব,করি না নিঃস্বঃ"
জুন মাসের ৫ তারিখ ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day)’। যে ধরণীতলে আমাদের বসবাস, জীবন-জীবিকার আচ্ছাদন তার দেখভাল করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য একটি ‘প্রতীকী দিন’। ‘জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী’ আয়োজিত এই দিনটি পরিবেশ সংরক্ষনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি আমদের সচেতন করতে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব ব্যাপী পালন করা হয়। এই বছরে এই দিবসের বিষয়বস্তু (Theme) হল ‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন,একটি বিশ্ব,করি না নিঃস্ব (Seven Billions Dream, One Planet, Consume with Care)’ । ৭০০ কোটির এই মানব বসতি বাসযোগ্য রাখতে আমাদের কে আরও ধৈর্যের সাথে আরও সচেতন ভাবে ও সাবধানতার সাথে সম্পদ ব্যাবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

প্রিয় পাঠক, মানুষ বরাবরই প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্দ অংশ, প্রতিবেশগত (Ecological) ভারসাম্য রক্ষায় এক জরুরী ও শক্তিশালী নিয়ামক। মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে ধরণীর এই সীমিত সম্পদ অপরিকল্পিত ও অস্থিতিশীল ব্যবহারের দরুন আজকে পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রতিবেশ অনেকাংশে হুমকির সন্মুখিন, এমতাবস্থায় প্রতিবেশের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী হিসাবে মানুষই পারে সীমিত সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উল্লেখিত অবক্ষয়কে প্রশমিত করে ধরণীর প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে।

আইপিসিসি (Inter-Governmental Panel for Climate Change – IPCC) আশংকা প্রকাশ করছে যে একবিংশ শতকের শেষ দশকের দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৮ থেকে ৪.০ ডিগ্রী পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ১ লক্ষ ৭৪ হাজার বর্গ কিলোমিটারের আমাদের এই ক্ষুদ্র দেশ আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ৯৪তম হলেও জন সংখ্যার দিক থেকে আমারা বিশ্বের ৮ তম দেশ। বাংলাদেশের অবস্থান ও ভূপ্রকৃতিও অত্যন্ত জটিল, হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশের ৮২ ভাগ ভূমিই নদী বিধৌত সক্রিয় প্লাবণভূমি, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ দুইটি নদীর নিন্ম অববাহিকা আমাদের এই ক্ষুদ্র দেশ। এই জন্য আমাদের প্রতিবেশগত বৈশিষ্ট্য গুলিও বেশ সংবেদনশীল। সেই সাথে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন ধরণের জলবায়ুগত ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর সমীক্ষায় বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর সাইক্লোন-জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং বন্যার দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নিন্ম প্লাবণভূমি হওয়ার কারনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলন জনিত বন্যা ও সুমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ভূখণ্ড ডুবে যাওয়ারও যথেষ্ঠ ঝুঁকি রয়েছে।

আমরা যারা এই দেশের বড় নগরী গুলোতে বসবাস করি তারা হয়তো মনে করি যে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয় থেকে আমরা অনেক অংশে দূরে আছি, আমরা যে প্রকৃতির অংশ অথবা নগরও যে প্রকৃতির এক ধরণের রূপান্তরিত রূপ তা আমরা ভুলে যাই। আমাদের মনে পড়ে যখন তীব্র তাপমাত্রায় আমাদের প্রান ওষ্ঠগত হয় অথবা হঠাত বৃস্টিতে আমদের রাস্তাঘাট তলিয়ে তীব্র যানজট ও জলজট সৃষ্টি হয়ে আমাদের চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমারা প্রকৃতির এই ভারসাম্যহীতা উপলব্ধি করতে পারি। তখন আমাদের মনে পড়ে দিনে দিনে প্রকৃতিকে কিধরণের ভারসাম্যহীন অবস্থায় আমারা নিয়ে যাচ্ছি? তখন হয়তো শুধুই অন্যের উপড়ে দোষ চাপানো ছাড়া কিছুই করার থাকে না । আমাদের নগরায়ণ আরও পরিবেশ সন্মত আর নগরের প্রতিবেশকে বিবেচ্য রেখে হওয়া উচিত। শুধু নগরায়নের জন্য নগরায়ন নয় অধীবাসীদের মানবিক ভাবে বসবাসের জন্য নগরায়ন হওয়া উচিত। একমাত্র প্রকৃতির ভারসাম্য বজায়ের মাধ্যমেই এই ধরণের মানবিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

আমরা একটু ঢাকার চারদিকে লক্ষ্য করে দেখি, দিনে দিনে চারদিকের অবারিত সবুজ প্রান্তর অথবা নিন্ম জলাশয় ও প্লাবণভূমি গুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিগত ভাবেই এইগুলো বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যার ফলে আমাদের এই নগর প্লাবণ থেকে অনেকাংশেই রক্ষা পেয়েছে। ঢাকাকে ঘিরে চারটি নদী রয়েছে (তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, বালু ও শীতলক্ষ্যা), এই নদীগুলোকে আমারা এতোও যথেচ্ছাই ব্যবহার করেছি যে সরকার বাধ্য হয়ে এই নদীগুলোকে “প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area – ECA)” হিসেবে ঘোষনা করেছে। সেই সাথে আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে (যদি আপনি না জেনে থাকেন) এই চারটি নদীর সীমানা চিহ্নিতকরনের জন্যে সরকার নদীগুলির দুই তী্র বরাবর স্থায়ী পিলার বসিয়ে দিয়েছে। আজকে নদীমাতৃক এই দেশে নদীগুলোকে দখলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে পিলার দিয়ে চিহ্নিত রাখতে হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা !

প্রিয় পাঠক! এই বিষয়গুলো জেনে আমরা হয়ত বেশ হতাশ হয়ে যাই। জাতিগত ভাবে বিভিন্ন অস্বভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক ভাবে ফিরিয়ে আনার সফলতার ইতিহাস আমাদের আছে। আর আমাদের এই ইতিহাস, জীবনযাপনের ঐতিহ্য ও লড়াকু স্বভাব আমাদেরকে সব সময়ই সাহস যোগায়। আমরা প্রকৃতির সাথে অভিযোজিত হতে হতে আর বংশপরম্পরায় সফল ভাবে বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা করে এই ভূখন্ডে বসবাস করছি। আমরা চেষ্টা করলে অবশ্যই পরিবেশ, প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই সবধরনের উন্নয়ন পক্রিয়া চালাতে পারব। তাহলে আসুন আমরা এখন থেকেই শুরু করি গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে আর দলগত ভাবে তো করবই সেই সঙ্গে চেষ্টা করি একক ভাবেও এমন কিছু করতে যা এই ধরণীর পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকতে কিছুটা হলেও যেন সাহায্য করে। ধরণীর এই সীমিত সম্পদ আমরা টেকসই ভাবে ব্যাবহার করি, সব সময় মনে রাখি আমাদের স্বপ্ন ও সম্পদ ব্যবহারের ইচ্ছা অসীম কিন্তু আমাদের ধরণীর সম্পদ সীমিত। তাই “শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন,একটি বিশ্ব,করি না নিঃস্ব” আজকের এই শ্লোগানই হোক আগামীর পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:০৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×