somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাগলার প্রেম কথন কিঞ্চিত রম্য

০৯ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তড়িঘড়ি করে বাসে উঠেই বসে পড়লাম। পাশের সিটে একটা মেয়ে বসে আছে। ভদ্র এবং সুশীল মনে হচ্ছে। আমার দিকে ব্রু কুঁচকে বললো ....
- সমস্যা কি? এত নড়াচড়া করছেন কেন?
- আমি ব্রু কুচকে বললাম চুলকাচ্ছে।
- মানে?
-একটা লাল রংয়ের জাঙ্গিয়া কিনেছিলাম। সুপার ম্যান সাজবো বলে। কিন্তু শেষে ইচ্ছাটা মরে যায়! আজ প্যান্টের ভিতরে পড়েছি। খুব চুলকাচ্ছে! না ধুঁয়ে পরা উচিৎ হয় নাই।
- আজব লোক তো! আপনি কি পাগল!
- হুম! কয়দিন আগেই পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে আসছি।
- কেন?
- আমি সুস্থ হয়ে গেছি। তারা আমার বাসায় খবর পাঠায় না। উল্টা আমার পরিবার থেকে মাসে মাসে টাকা নেয়!
- এখন সুস্থ?
- হুম! পুরোপুরি সুস্থ! শুধু চুলকাচ্ছে! উফফ...উফফ ... :-/
- ধ্যাত! এই শব্দটা আমার সামনে বলবেন না।
- আচ্ছা! বলবো না।
- পাগল হলেন কি করে?
- আপনার জন্য।
- মানে?
-ওহ্! আপনার মতো একটা সুন্দরী মেয়ের কারনে।
-তাই? কি করলো আমার মতো সুন্দরী মেয়ে?
- সে অনেক কথা। শুনতে হলে মিস্টি খাওয়াতে হবে।
- কিহ্! মিস্টি! বাসে মিস্টি পাবো কোথায়!
- সামনে তো ফার্মগেট! ঐখানে নেমে যাই চলেন! ভালো মিস্টির দোকান আছে!
- আপনি মেয়ের জন্য পাগল হইছেন নাকি মিস্টি খাইতে খাইতে পাগল হইছেন?
- না! মেয়ের জন্যই হইছি! আপনি খাওয়াবেন না মিস্টি?
- না। খাওয়াবো না।
- ঠিকাছে। আমার খুব চুলকাচ্ছে! উফফ ...উফফ ... :-/
- আজব! খাওয়াবো! এখন চুপ থাকেন।

ফার্মগেট এসে নেমে একটা মিস্টি দোকানে ঢুকলাম। মিস্টি আজ খেতে ইচ্ছা করছে অনেক গুলা। মেয়েটা এভাবে রাজি হবে ভাবি নি কখনো! মেয়েটা বললো...
- কয়টা মিস্টি খাবেন?
- আমি অনেক মিস্টি খাই। আপাতত কাহিনী শ্যাষ না হওয়া পর্যন্ত মিস্টি খেতে থাকবো। খাওয়াবেন?
- এত খেলে পেট খারাপ করবে। আমি পাঁচটার বেশি খাওয়াবো না।
- পাঁচটাতে তো পুরো কাহিনী শেষ হবে না।
- সংক্ষিপ্ত করে বলবেন। আমার সময় বেশি নেই।
- ঠিকআছে। কালো রংয়ের একটা মিস্টি মুখে দিয়ে বললাম
" বোওওঝলেন সেই অনেক দিন আগের কথা প্রায় 1460 দিন মানে চার বছর আগের কথা। আপনার মতো একটা সুন্দরী মেয়ে নাম নিলিমা আমাদের পাশের বাসায় থাকতো। হরীনির চোখ আপনার মতো, কাজল কালো চুল আপনার মতো।
- আমার মতো আমার মতো করছেন কেন?বলতে থাকুন। X(
- আহা! বলছি তো! ডিসটার্ব করেন কেন! সেই মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই আমার ভালো লেগে যায়। তারপর বাসায় গিয়ে আমি একটা চিঠি লিখলাম।

প্রিয় নিলিমা,
ইচ্ছে ছিলো আকাশের নীল রং দিয়ে তোমার কাছে একটা চিঠি লিখবো। যে চিঠি পড়ে তুমি মুগ্ধ হবে। আমার কথা ভাবা শুরু করবে। কিন্তু আকাশ তো আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাই আমার কেনা নীল রংয়ের কলম দিয়েই লিখতে বসলাম। |-)

তোমাকে প্রথম দেখাতেই আমি মুগ্ধ হই। তারপর তোমার সম্পর্কে সবকিছু জানার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও করি। আলহামদুলিল্লাহ্! সবকিছু পজিটিভ পাইছি। এখন যে কথাটা বলতে চাই সেটা হলো তোমাকে আমি ভালোবাসি। আশাকরি তুমিও একই কথা বলবে।

ইতি
একজন ভালোবাসা প্রত্যাশী
পাশের বাসার তিন তলা। B-))

- তারপর?
- মিস্টি তো আর দুইটা আছে। আমার মনে হয় না কাহিনী শেষ হবে!
- উফফ! এগুলা শেষ করেন আগে।
- ঠিকাছে, তারপর চিঠি দিলাম পাঠিয়ে নিলিমার কাছে। নিলিমা চিঠি পড়ে তার মায়ের কাছে দিয়ে দেয়। তার মা পড়ে তার বাবার কাছে দিয়ে দিয়ে। তার বাবা আমার বাবার কাছে দিয়ে দেয়, আমার বাবা আমার কাছে দিয়ে দেয়।

বাবা আমাকে খুব ধমকাচ্ছিলো। মা এসে বললো থাক। ও ছোট মানুষ! এই বয়সে একটু আধটু প্রেমের সাধ জাগেই। গায়ে হাত দিও না।

একথা বলতে না বলতেই বাবা বললো " গায়ে হাত দিবো না মানে! আমার মাথা হেট করে দিলো সবার সামনে। " বলেই কয়েকটা চড় থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। আমি তো সেদিন খুব রাগ! মা এটা কি করলো! মার দেয়ার কথা মনে করায়া দিলো!!
- হি হি হি হি! বেশ মজার তো! =p~
- আপনার হাসিটাও অনেক সুন্দর ....
- থ্যাংকস। তারপর কি হইলো?
- তারপর মিস্টি শেষ!
- মানে?
- দুইটা মিস্টি আর কতক্ষন থাকে!
- ওহ্! আচ্ছা! আজকে সময় ও নেই আর। বাকী অংশ অন্যদিন শুনবো।
- অন্যদিন কিভাবে? আমাকে পাবেন কোথাও?
- নাম্বার দিয়ে যাচ্ছি। আপনার টাওও দেন। সময় করে জানাবো।
-ঠিকাছে।


(কি? চলবে? দৌড়াবে :D)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:১৯
২২টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×