somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ । কিন্তু আজকালের মুসলমানদের এ বিশেষ দিবস উদযাপন নিয়ে এত উদাসীনতা কেন?

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনাকে নিয়ে আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই অবহেলার। কোনো পত্র-পত্রিকা মিডিয়া ফলাও করে বলে না, লিখে না যে আজ পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ। বলে না যে, আজকের আমলে মুসলমানদের জন্য এই এই ফযীলত। তুলে ধরে না এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য।
কোনো স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক গংও শিক্ষার্থীদের জানায় না যে, আগামীকাল বা আজ মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ। তোমরা বাড়িতে গিয়ে এটা-সেটা করবে। পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনকে উৎসাহিত করবে। এছাড়া অভিভাবক মহলও কেমন যেন, তারাও খবর রাখে না আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ কি, কখন, কেমনইবা তার আমল। মূলত, এগুলোর মাধ্যমে মুসলমান উনাদের হীনতা-দীনতা তথা হীনম্মন্যতাই ফুটে উঠেছে। নাঊযুবিল্লাহ। মুসলমান উনাদের ঐতিহ্য ভুলে যাবে, স্বকীয়তাকে বিনষ্ট করে দিবে, শুধু দুনিয়া তালাশে ব্যস্ত থাকবে, আবার নিজেকে মুসলমান ঈমানদার বলে দাবি করবে, সেটা হতে পারে না। উনাদেরকে অবশ্যই নিজেদের পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং সেগুলোকে যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনের কোশেশ করতে হবে।

‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ বলতে পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ বুধবার উনাকে বলা হয়। পবিত্র ছফর শরীফ মাস ব্যতীত আর কোনো মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবারকে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ বলা হয় না। যেমন ‘আশূরা’ শব্দটি আরবী ‘আশরাতুন’ শব্দ হতে এসেছে; যার অর্থ দশ বা দশম। কিন্তু ইছতিলাহী বা পারিভাষিক অর্থে ‘আশূরা’ শরীফ বলতে শুধুমাত্র পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ১০ তারিখ দিনটিকে বুঝানো হয়ে থাকে। অন্য কোনো মাস উনার ১০ তারিখকে পবিত্র আশূরা শরীফ বলা হয় না। মূলত, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ১০ তারিখ দিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাম-িত হওয়ার কারণে যেমনিভাবে উক্ত দিনটি ‘আশূরা’ শরীফ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তদ্রƒপ পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়ায়ি বা বুধবার দিনটিও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাম-িত হওয়ার কারণে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। আর সে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাম-িত বিষয়টি হলো, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থতাকে গ্রহণ করার পর পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ দিনে সুস্থতাকে গ্রহণ করেন।
অতঃপর গোসল মুবারক করত খাওয়া-দাওয়া করেন। পরে পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে মুবারক তাশরীফ রাখেন। তিনি সুস্থতা মুবারক উনাকে গ্রহণ করার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং এ উপলক্ষে উনাদের সাধ্যমতো আখিরী রসূল, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাদিয়া পেশ করেন। আর আলাদাভাবে গরিব-মিসকিনদেরকেও দান-ছদকা করেন।
কাজেই এ দিনটিতে উম্মতের জন্য উনাদের নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিয়া এবং দান-ছদকা করা ও খুশি প্রকাশ করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×