মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
আমি অত্যন্ত অথেনটিক সূত্র থেকে বেশ কয়েকবার শুনেছি বর্তমান সরকারের আমলের সবচেয়ে সৎ মন্ত্রী আপনি। এমন কি মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী যাকে অনেকেই হিন্দী 'Nayak' ফিল্মের অনিল কাপুর ভেবে আনন্দ পান, তার ভেতরও নাকি খানিকটা কিন্তু আছে যা আপনার ভেতর নেই। সৎ মানুষ বলেই কিনা আপনার সব ভালোর ভেতর থেকে শুধু কাঁকড়ই বেড়োচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী ভেজালে আবার আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে কি না!......
ডিজিটালাইজেশন এক্সপেরিয়েন্স করতে গিয়ে আপনি শিক্ষার্থীদের ভেতর মোটামুটি এক প্রকার জুজুর ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন। শৈশব পেরোতে না পেরোতেই মেট্রিক পরিক্ষার ভয় যা কিনা ১৫-১৬ তে সয়, তা আপনি জেডিসি, জেএসসি পরিক্ষা গুলোর মাধ্যমে ১০/১২ বছরের বাচ্চাগুলোর উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। মেট্রিক পরিক্ষার সময় আমাদের অভিভাবকেরা হলের বাইরে যেমন চিন্তাক্লিষ্ট কাঁচুমাঁচু মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকতো, আজ একটা ৫ আর ৮ পড়ুয়া বাচ্চার অভিভাবকেরা একই ভাবে স্কুলের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। কি অমানবিক দৃশ্য ভেবে দেখুন তো একবার! এতটুকু বয়স থেকে বাচ্চাগুলোর উপর যে ভয়াবহ মানসিক চাপ আপনি উদ্ভট পরিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি করে দিচ্ছেন, এর ফলে তারা তো আর শেখার জন্য পড়ছে না। পড়ছে কেবলমাত্র এক্সাম হলে বসার জন্য আর ভালো ফলাফলের জন্য। অভিভাবকের প্রত্যাশা পূরণের জন্য পড়বে।... যে পদ্ধতিতে পড়াশুনা করে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হতে পারলেন, যে পদ্ধতিতে পড়াশুনা করে এফ. আর. খান বিশ্বজয় করতে পারলেন, ডঃ ইউনুস নোবেল পেলেন, ফজলে হাসান আবেদের মত শিক্ষিত গুণী মানুষ উদোক্তা ও পাটের জিন তত্ত্ব আবিস্কারক মাহবুবুল হক কে পেল এ দেশ, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা কি এতটাই অনুপোযোগী এনালগ মনে হয়েছে আপনার কাছে?...... শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে যাচ্ছে তাই এক্সপেরিমেন্ট করে আপনি দেশকে বেশ বড় সড় একটা ঝামেলার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব এখন ছোটখাট আকারে দেখা দিলেও ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে দেখা দেবে।
মাননীয়মন্ত্রী, স্টুডেন্টরা কোন গবেষণাগারের গিণিপিগ নয়। তাদের শিক্ষাজীবন আর ভবিষ্যত নিয়া দয়ে করে আর পরিক্ষা নিরিক্ষা চালাবেন না। শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসায় অনেক সময় ব্রান্ডি কাজে লাগলেও, গ্রীষ্মপ্রধান মানুষের জন্য কিন্তু তা কোন কাজে আসে না, বরং হিতে বিপরীত হয় একথাটা মাথায় রাখবেন।
আপনি নকলের মহৌৎসব বন্ধ করেছেন। কিন্তু তার substitute হিসাবে দাঁড়িয়ে গেছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। পরিক্ষার আগের রাতে ছাত্ররা আজ বই খাতা ফেলে প্রশ্নপত্রের খোঁজ ব্যতিব্যস্ত থাকে। মেডিকেলের সবাই কিন্তু ফাঁসকৃত প্রশ্নের জোরে চান্স পায় না। তবুও অভিযোগের তীরটা সবার মেধাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এদের কেউ কেউ এতে করে পড়াশুনার আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলে। কারো বা আবার প্রশ্নপত্র খোঁজার ফেরে পড়ে কৈশোরেই নৈতিকতা বোধ নষ্ট হয়ে যায়।
আপনার সততা আছে। দরকার শুধু আরেকটু চিন্তাশক্তির প্রয়োগ। এই দুটোর সমন্বয় ঘটাতে পারলে এদেশ আর আগামী প্রজন্ম আপনার কাছে চিরঋনী হয়ে থাকবে।
মাননীয় মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ-ইউনিটের পরিক্ষায় ৯০% শিক্ষার্থীর ফেল করার খবরটা কিন্তু সত্যিই অত্যন্ত ভীতিকর....অাশা করি এই বোধোদয়টুকু আপনার হবে!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




