
মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি ক্ষমা করে দিও। আমি আর বেশি দিন বাচবো না। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। আব্বার কথা আমরা কেউ সিরিয়াস ধরি নি। কিন্তু আব্বা ঠিকই মারা গেলো। অনেকেই আগে থেকে মৃত্যু টের পেয়ে যায়। সাধারণত মানুষ মৃত্যু নিয়ে ভাবে না। ভাবা উচিৎও না। মৃত্যু যখন আসে আসুক। এত ভাবনা চিন্তার কিছু নাই। মৃত্যু নিয়ে বেশি ভাবলে মৃত্যু তাড়াতাড়ি এসে যায়। মানব জীবন একবারই আসে। তাই যতটা পারা যায়- জীবনটা উপভোগ করে নেওয়াই ভালো।
মৃত্যু আগে থেকেই টের পাওয়া যায়।
অবচেতন মনে 'সত্য' এসে ধাক্কা দেয়—"তোর সময় শেষ। দুয়ারে আজরাইল দাড়িয়ে আছে"। ধর্ম মতে, বলা হয়- জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কথাটা সঠিক নয়। এসব কথা আদি যুগ থেকে প্রচলিত। তখন মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত ছিলো না। রসিকে সাপ মনে করতো। এদের চিন্তা ভাবনা উন্নত না। এরা পেছনে পরা মানুষের দলে। প্রতিদিন সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এবং জন্ম নেয়। এত জন্ম আর এত মৃত্যুর হিসাব আল্লাহ কেন রাখবেন? আল্লাহর কি আর কাজ নেই? আমাদের পাশের বাসার একলোক মৃত্যু শয্যায়। লোকটার নাম মোফাজ্জল। ডাক্তার বলেছেন, আমাদের কিচ্ছু করার নেই। তার সময় শেষ। মোফাজ্জল মানুষ হিসেবে উন্নত নয়। জাস্ট ইতর। তার জীবনে সে কখনও কোনো মানুষের উপকার করেনি।
মোফাজ্জলের মন খারাপ।
মসজিদের পেছনে সোলেমানের জমিটা কিনতে পারলেন না। আর সোবাহান মাস্টারের নামে মামলা দিতে পারলেন না। মোফাজ্জলের ছেলে সৌদি থেকে ফিরে এলো। মৃত্যুর সময় জন্মদাতা পিতার সাথে থাকা জরুরি। ছেলে সৌদিতে পুলিশের চোখ এড়িয়ে হাতঘড়ি, তজবি, জায়নামাজ আর আতর বিক্রি করে হাজিদের কাছে। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভ। যারা হজ্ব করতে আসে তারা দশ টাকার জিনিস ত্রিশ টাকা দিয়ে কিনে হাসিমুখে। যাইহোক, মোফাজ্জলেত ছেলে তার বাবার যত্ন নিয়ে সেবাযত্ন করে মৃতপথযাত্রী মোফাজ্জলকে সুস্থ করে তোলে। এরপর মোফাজ্জল আরো দশ বছর বেচে ছিলেন। অথচ ডাক্তার তাকে বলে দিয়েছিলেন, সময় শেষ।
আমাদের গ্রামে মিন্নি নামের একজন মহিলা ছিলেন।
তার বয়স ৮০। উনি একদিন ঘোষণা করলেন, তার সময় শেষ। হাতে একদম সময় নেই। ছেলেমেয়ে আত্মীয় স্বজন সবাই গ্রামে এলো। বড় ছেলে এলো কানাডা থেকে এলো। সবাই মিন্নির ঘরে জড়ো হয়েছে। উনি সবার সাথে কথা বললেন। কারো কারো মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন। এবং সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন। সবাই মিন্নিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। মিন্নি বললেন, গেলাম। মৃত্যু কঠিন কিছু না। যারা মৃত্যুকে ভয় পায়, তারা বোকা। মিন্নি বললেন, আমাকে নিতে এসেছে। অই তো আমার মা দাড়িয়ে আছে। মায়ের পেছনে আমার বাবা। যে ছোট বোনটা পুকুরে ডুবে মরলো, সেও এসেছে। তারপর মিন্নির মৃত্যু হলো।
আরেকটা মৃত্যুর ঘটনা বলি। ছেলে মায়ের খুবই ভক্ত।
মায়ের বয়স হয়েছে। প্রায়ই বুকে হাপানির টান উঠে। যায় যায় অবস্থা। ছেলে দৌড় দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, সময় শেষ। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। ছেলে অলরেডি কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছে সৌদি থেকে। কাফনের কাপড় মক্কা শরীফ ছুয়ে এনেছে। মায়ের বুকে টান উঠেছে। ছেলে বুঝে গেছে মা আজই মরবে। মাদ্রাসা থেকে হুজুরদের ডেকে এনেছে। তারা কোরআন খতম দিচ্ছে। দেখা গেলো মা আর মারা যায় না। এভাবে প্রতি মাসে দুই তিন বার এরকম হচ্ছে। মা মরে না। মা ছেলেকে ডাক দিয়ে বলে, তুই কি আমার মৃত্যু চাস? ছেলে বলে, নো নেভার। মা বলে তাহলে আমার জন্য আগেই কাফের কাপড় নিয়ে আসছিস কেন? আবার আমার জন্য কোরআন খতম দিস! ফাজিল পোলা। যা ভাগ আমার সামনে থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




