
একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের লীলাভূমি। আবার যখন শিক্ষিত সমাজই চাটার দলের পোষ্য হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্রের সবই ধ্বংসের দিকে গড়ায়।
এখন আসল কথায় আসি। দেশের কবি সাহিত্যিকদের বলা হয় আলোকবর্তিকা, যারা অন্ধকারে পথ দেখান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি সত্যিই আলো বহন করে, নাকি ক্ষমতার অন্ধকারে নিজেদের ছায়া বড় করে?
ধরুন, আনিসুল হকের কথা। নিঃসন্দেহে তিনি শব্দের কারিগর, কিন্তু সেই কারিগরি যেন অনেক সময় ক্ষমতার দরবারে সাজানো প্রদর্শনী হয়ে ওঠে। যখন তিনি লিখলেন, মেঘের উপর মেঘ, তার উপর বত্রিশ নম্বর বাড়ি।
এই কবিতাটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা গেল, হামাস-ইসরাইলের মিসাইল ভুল নিশানায় আঘাত করতে পারে, কিন্তু আনিস সাহেবের পদক পাওয়া মিস হবে না। পদক যেন তার জন্য অপেক্ষায় ছিলো, যেন রাষ্ট্রের পুরস্কার নীতির গোপন দরজায় তার নাম খোদাই করা আছে। হয়েছেও তাই।
দেশে মদখোর, জুয়াখোর, নারীখোর যেমন আছে, তেমনি আছে পদকখোর। এই শ্রেণী দিনকে দিন ফুলে ফেঁপে উঠছে। প্রশ্ন হলো, বত্রিশ ভাঙার আগে বা পরে তিনি কি কোনো অবস্থান নিয়েছিলেন? কোনো শব্দ উচ্চারণ করেছেন? নীরবতা ছাড়া আর কিছুইতো দেখা যায়নি।
এখন কেনো উনি বেগম মুজিব বন্দনা করেন না? আগে তো করতেন। কারণ খুব সহজ। এখন লিখলে মব হতে পারে, কিছু বললে, তাওহীদি জনতা আপনার --- --- ছিঁড়ে ফেলতে পারে। এত ভয় থাকলে লেখালেখির পথ বেছে নিলেন কেনো? সাহসতো দেখছি তসলিমার ধারে কাছেও নেই।
আপনি কখনোই হুমায়ূন আহমেদের মতো লিখতে পারবেন না তুই রাজাকার! এই উচ্চারণের সাহস আপনার নেই। আপনার কলমে আছে শুধু তেল মারার নৈপুণ্য, আছে ধরি মাছ না ছুঁই পানি এ ধরনের সতর্কতা। আপনার কাছ থেকে এর বেশি আশা করাও ভুল।
আপনি এবং ফারুকী গং মিলে দেশের সংস্কৃতিকে এমনভাবে বলাৎকার করেছেন যে, তা এখন ক্ষমতার পোষ্য সংস্কৃতি। যেখানে শিল্পের স্বাধীনতা নেই, আছে শুধু অনুমোদিত অভিনয়। আপনার সাধু সাজা দেখে বিস্ময় লাগে!
যখন হামে হাজার শিশু মরছে, তখন আপনি টাকি মাছের মতো গর্তে লুকিয়ে আছেন। এ নিয়ে কি লিখেছেন? কোনো অবস্থান নিয়েছেন? ফারুকীকে বলেননি কেনো এ নিয়ে একটি চলচ্চিত্র বানাতে?
আপনাদের মতো মেরুদণ্ডহীন সুশীলদের কারণেই দেশ আজ নানাভাবে বিভক্ত এবং দিশেহারা। আপনারা নৈতিকতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন কিন্তু বাস্তবে নৈতিকতা আপনাদের কাছে শুধু পুরস্কারের সিঁড়ি।
রুদ্র মোহাম্মদের কথায় শেষ করি
“বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে!
আপনাদের নয়"
ছবি- ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




