
পড়া, টিভি, মুভি এগুলো- এগুলো বেকারদের অবলম্বন। বেশীরভাগ বয়স্কদের পছন্দ- ডিসকভারি চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, বিবিসি আর্থ ইত্যাদি ইত্যাদি চ্যানেল। আমার হাতে টিভির রিমোট থাকা মানে- গোটা বিশ্ব চষে বেড়ানো। তার উপর আমার বাসায় আমি ছাড়া কেউ টিভি দেখে না। বেশ কিছুদিন যাবত টিভি চ্যানেলের বাইরেও ইউটিউব চ্যানেলে মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল- এর উপর বেশ কয়েকটা ডকুমেন্টারি ফ্লিম দেখেছি।
মাউন্টেন গোট (Mountain Goat) বা পার্বত্য ছাগল উত্তর আমেরিকার এক অনন্য ও পাথুরে অঞ্চলের স্তন্যপায়ী প্রাণী। বৈজ্ঞানিক নাম Oreamnos americanus। এদের অসাধারণ আরোহণ দক্ষতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
মজার ব্যাপার হলো, নামের সাথে 'গোট' বা ছাগল যুক্ত থাকলেও এরা প্রকৃত ছাগল নয়, বরং অ্যান্টিলোপ বা হরিণজাতীয় প্রাণীদের একটি বিশেষ উপগোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
একই প্রজাতির আরও একটি প্রাণীর নাম আইবেক্স (Ibex)। আইবেক্স মূলত ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এক প্রজাতির বন্য ছাগল। মাউন্টেন গোটের চেয়ে এদের প্রধান পার্থক্য হলো- পুরুষ আইবেক্সদের মাথায় বিশাল, পেছনের দিকে বাঁকানো এবং খাঁজকাটা চমৎকার শিং থাকে। আইবেক্স সাইজে পার্বত্য ছাগলের চাইতে দুই তিনগুণ বড়ো।
মাউন্টেন গোটের জীবনচারিতা বিস্তারিতঃ
(১) শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যঃ মাউন্টেন গোটের সারা শরীর ঘন, সাদা বা হালকা ক্রিম রঙের লোমে ঢাকা থাকে। এই ডাবল-কোটের পশম তাদের মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তীব্র শীত ও হিমবাহের বাতাস থেকে রক্ষা করে। বসন্তকালে এরা অতিরিক্ত পশম ঝরিয়ে ফেলে।
শিংঃ পুরুষ এবং স্ত্রী- উভয় মাউন্টেন গোটেরই কালো রঙের শিং থাকে। এই শিংগুলো সোজা এবং সামান্য পেছনের দিকে বাঁকানো থাকে, যা কখনোই খসে পড়ে না।
খুর (পায়ের পাতা): এদের খুরগুলো প্রকৃতির এক বিস্ময়। খুরের ভেতরের অংশটি নরম ও রাবারের মতো প্যাডযুক্ত, যা খাড়া পাহাড়ে চমৎকার গ্রিপ বা ঘর্ষণ তৈরি করে। খুরের বাইরের অংশটি শক্ত, যা পাথরের খাঁজে পা আটকে রাখতে সাহায্য করে।
(২) বাসস্থান ও বিচরণক্ষেত্রঃ
মাউন্টেন গোট সাধারণত উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা এবং ক্যাসকেড পর্বতমালায় বাস করে। মূলত আলাস্কা, পশ্চিম কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো ও মন্টানা রাজ্যে বেশি দেখা যায়। এরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,০০০ ফুট বা তারও বেশি উঁচুতে, যেখানে সাধারণ কোনো শিকারি প্রাণী পৌঁছাতে পারে না, এমন খাড়া পাহাড়ি ঢালে বাস করতে পছন্দ করে।
(৩) খাদ্য ও পুষ্টিঃ
এরা সম্পূর্ণ তৃণভোজী প্রাণী। এদের খাদ্যাভ্যাস মূলত আল্পাইন অঞ্চলের উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল।
পাহাড়ি ঘাস এবং ওষধি গাছ, ফার্ন এবং শ্যাওলা (Moss & Lichens) বিভিন্ন ছোট গুল্ম ও গাছের ছাল-বাকল খায়।
শরীরে খনিজের ঘাটতি মেটাতে পাহাড়ি লবণের খনি (Mineral Licks) খুঁজে বেড়করে খায়।
(৪) স্বভাব ও জীবনধারাঃ
এরা সাধারণত ছোট দলে বাস করে, যেগুলোকে 'ব্যান্ড' বলা হয়। স্ত্রী ও বাচ্চা ছাগলগুলো দলবদ্ধভাবে থাকে, তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছাগলরা প্রযোজন সময় ছাড়া বেশিরভাগ সময় একাকী জীবনযাপন করে।
আরোহণ দক্ষতাঃ এরা বিনা দ্বিধায় ৬০-৭০ ডিগ্রি বা তার চেয়েও খাড়া পাথুরে দেয়ালে অনায়াসে লাফিয়ে চলতে পারে। এক লাফে ১২ ফুট দূর পর্যন্ত পার হতে পারে।
(৫) প্রজনন ও জীবনকালঃ এদের প্রজননকাল সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে হয়। এই সময়ে পুরুষ ছাগলদের মধ্যে স্ত্রী ছাগলকে পাওয়ার জন্য মৃদু লড়াই হয়।
সন্তান জন্মদানঃ মে-জুন মাসে স্ত্রী মাউন্টেন গোট সাধারণত একটি (কদাচিৎ দুটি) বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাচ্চা ছাগলটি মায়ের সাথে খাড়া পাহাড়ে হাঁটা ও আরোহণ করা শিখে যায়।
জীবনকালঃ বন্য পরিবেশে এরা সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর বাঁচে। তবে বন্দি অবস্থায় (চিড়িয়াখানায়) এরা ১৬ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
(৬) প্রাকৃতিক শত্রুঃ
এদের বাসস্থান এত উঁচুতে হওয়ায় শত্রু সংখ্যা বেশ কম। তবে মাউন্টেন লায়ন (পুমা), নেকড়ে এবং ভাল্লুক এদের শিকার করে। এছাড়া Golden Eagle পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট বাচ্চাদের ধাওয়া দিয়ে নিচে ফেলে শিকার করে। তবে শিকারির চেয়েও এদের বড় শত্রু হলো পাহাড় ধস এবং তুষারধস (Avalanche)।
Mountain Goat সত্যি অভিভূত হওয়ার মতো একটি প্রাণী! ৬০-৭০ ডিগ্রী খাড়া পাথুরে পাহাড়ে তাদের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলাফেরা করার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। কখনো কখনো ১৫-২০ ফুট দূরত্বে ৬০-৭০ ডিগ্রী খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠে যায়। ওদের জীবনচারিতায় কিছু রোমাঞ্চকর আচরণের পেছনের আসল রহস্যগুলোঃ
(১) কেন এরা কখনো পাহাড় থেকে পড়ে যায় না?
ডকুমেন্টারিতে হয়তো অনেকেই দেখেছেন এরা একদম খাড়া দেয়ালে ঝুলে আছে। এর মূল কারণ এদের শারীরিক ভারসাম্য এবং অনন্য দৃষ্টিশক্তি।
এদের কাঁধ এবং পেছনের পায়ের পেশি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়, যা তাদের পুরো শরীরের ওজনকে ওপরের দিকে ঠেলে তুলতে সাহায্য করে।
এদের চোখগুলো মাথার দুই পাশে এমনভাবে থাকে যে, না ঘুরেই এরা চারপাশের ৩২০ ডিগ্রি কোণ পর্যন্ত দেখতে পায়। ফলে পরবর্তী পা-টি কোথায় ফেলবে, তা এরা নিখুঁতভাবে হিসাব করতে পারে।
(২) লবণের জন্য বিপজ্জনক অভিযান (Salt Licking):
মাউন্টেন গোটরা হাজার ফুট উঁচু খাড়া বাঁধ বা ব্রিজের দেয়াল বেয়ে নিচে নেমে আসছে। এটা করে খনিজ লবণের খোঁজে। বরফ গলে যাওয়া পাহাড়ে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা দিলে এরা পাথরের গায়ে জমে থাকা নোনতা খনিজ চাটতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতল গিরিখাতের দেওয়ালে নেমে আসে।
(৩) নারীতান্ত্রিক সমাজ (Matriarchal Society);
পাহাড়ি ছাগল সমাজে স্ত্রী ছাগলদের (Nannies) আধিপত্য বেশি। দলের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ চারণভূমিগুলো স্ত্রী ও বাচ্চাদের দখলে থাকে। পুরুষ ছাগলরা (Billies) আকারে বড় হলেও তারা স্ত্রী ছাগলদের সমীহ করে চলে এবং প্রজনন ঋতু ছাড়া বাকি সময় দলের সীমানার বাইরে থাকে।
(৪) তুষারধস থেকে বাঁচার কৌশলঃ
এরা ইন্দ্রিয় শক্তিতে বুঝতে পারে কখন পাহাড়ে তুষারধস বা ধস (Avalanche) নামতে পারে। শীতকালে যখন তীব্র ঝড় বা তুষারপাত হয়, তখন ওরা পাহাড়ের চূড়া ছেড়ে একটু নিচের দিকের সুরক্ষিত পাথরের গুহা বা খাঁজে আশ্রয় নেয়।
তুষার ঝড় আর পাহাড়ি ধসের মতো চরম প্রতিকূলতার মধ্যে মাউন্টেন গোটদের টিকে থাকার লড়াই সত্যিই অবিশ্বাস্য! প্রকৃতির সবচেয়ে হিংস্র রূপের মুখোমুখি হয়েও এরা যেভাবে বেঁচে থাকে, তার পেছনে রয়েছে কোটি বছরের বিবর্তন এবং কিছু চমৎকার প্রাকৃতিক কৌশল।
ডকুমেন্টারিতে দেখা সেই টিকে থাকার লড়াইয়ের পেছনের মূল রহস্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ
(১) প্রাকৃতিক থার্মাল স্যুট (ঘন ডাবল-কোটের পশম)
তুষার ঝড়ের সময় যখন তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি বা তার নিচে নেমে যায় এবং হিমশীতল বাতাস বয়, তখন এদের শরীরকে উষ্ণ রাখে বিশেষ পশম। ওদের শরীরে দুই স্তরের পশম থাকে। ভেতরের স্তরটি অত্যন্ত নরম ও ঘন তুলোর মতো, যা শরীরের চামড়ার কাছের তাপকে আটকে রাখে। বাইরের স্তরটি লম্বা এবং ওয়াটারপ্রুফ। এটি বরফ এবং হিমবাহের বাতাসকে সরাসরি চামড়ায় পৌঁছাতে দেয় না। ফলে প্রচণ্ড ঝড়েও এরা জমে যায় না।
(২) ভূখণ্ড চেনার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি (Micro-habitat selection):
এরা বছরের পর বছর একই পাহাড়ে বাস করার কারণে সেখানকার প্রতিটি খাঁজ এবং গুহা নিখুঁতভাবে চেনে। যখনই তুষার ঝড় শুরু হয়, এরা পাহাড়ের উন্মুক্ত চূড়া ছেড়ে দ্রুত এমন সব পাথরের খাঁজ, গুহা বা খাড়া দেওয়ালের নিচে (Overhangs) আশ্রয় নেয়, যেখানে ঝড়ো হাওয়া বা তুষার সরাসরি আঘাত করতে পারে না।
(৩) তুষারধস এড়ানোর আগাম কৌশলঃ
মাউন্টেন গোটের মৃত্যুর অন্যতম কারণ তুষারধস। তবে এরা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মৃত্যু ঝুকি এড়াতে কিছু কৌশল খাটায়।
★ খাড়া ঢালে অবস্থানঃ তুষারধস সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি কোণের ঢালু পাহাড়ে বেশি জমা হয় এবং ধসে পড়ে। মাউন্টেন গোটরা চালাকি করে আরও বেশি খাড়া ৬০/৭০ ডিগ্রি পাথুরে দেওয়ালে গিয়ে অবস্থান নেয়। এত খাড়া জায়গায় বেশি বরফ জমতে পারে না, ফলে সেখানে ধস নামার ঝুঁকিও থাকে না।
★Tree line বা বনের কাছাকাছি চলে আসাঃ চরম শীত ও ধসের মৌসুমে এরা অনেক সময় পাহাড়ের একদম উঁচুতে না থেকে কিছুটা নিচে, যেখানে বড় বড় পাইন গাছ আছে (Tree line), সেখানে চলে আসে। গাছপালা প্রাকৃতিকভাবেই তুষারধসের গতি রোধ করে এদের সুরক্ষা দেয়।
(৪) বরফ খুঁড়ে খাবার খোঁজার ক্ষমতাঃ
তুষার ঝড়ের পর যখন চারপাশ কয়েক ফুট বরফের নিচে ঢাকা পড়ে যায়, তখন এরা এদের শক্ত খুর (Hooves) দিয়ে বরফ সরিয়ে নিচে চাপা পড়া ঘাস, শ্যাওলা বা লাইকেন বের করে খায়। এদের পাকস্থলী অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় ফ্রোজেন বা জমে যাওয়া উদ্ভিদ থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি শোষণ করে নিতে পারে।
মাউন্টেন গোটদের জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকঃ মাত্র ৭ থেকে ৮ ইঞ্চির একটি সরু পাথুরে খাঁজে (Ledge) কোনো খাবার বা নড়াচড়া ছাড়াই তারা যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ২/৩ দিন কাটিয়ে দেয়, তা অবিশ্বাস্য। একেবারে শুষ্ক, গাছপালাহীন পাথুরে পাহাড়ে দুর্যোগের সময় তাদের এই অলৌকিক টিকে থাকার পেছনে বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক কিছু কারণ রয়েছেঃ
(১) শারীরিক স্থবিরতা এবং 'এনার্জি সেভিং মোড'
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা তীব্র তুষার ঝড়ের সময় মাউন্টেন গোটরা তাদের শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া চরম মাত্রায় কমিয়ে দেয়। তারা জানে- এই সময় নড়াচড়া করলে শরীরের শক্তি (Calorie) নষ্ট হবে এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তাই তারা পাথরের দেয়ালে আটকে থেকে এক ধরণের 'অর্ধ-ঘুম' বা স্থবির অবস্থায় চলে যায়। এই সময় তাদের হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমে যায়, যার ফলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট খুব ধীরগতিতে খরচ হয়। কোনো খাবার না খেয়েও তারা এই চর্বির ওপর ভরসা করে বেশ কয়েকদিন পার করে দিতে পারে।
(২) মাধ্যাকর্ষণকে জয় করার অনন্য শারীরিক গঠনঃ
৭-৮ ইঞ্চির জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে আমাদের পায়ের পেশি অবশ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না কারণ-
★লকিং মেকানিজমঃ এদের পায়ের হাড় এবং জয়েন্টের গঠন এমন যে, তারা যখন দাঁড়িয়ে থাকে, তখন পেশির ওপর চাপ না ফেলে হাড়ের ওপর পুরো শরীরের ভর লক করে দিতে পারে। এতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের পেশি ক্লান্ত হয় না।
★খুরের অনন্য গ্রিপঃ এদের খুরের মাঝখানের অংশটি চোষক বা ভ্যাকিউম কাপের মতো কাজ করে। যা পাথরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খসখসে অংশকেও এমন শক্তভাবে কামড়ে ধরে রাখে যে, তীব্র ঝড়ো হাওয়াতেও তারা পিছলে নিচে পড়ে যায় না।
(৩) ঠান্ডা পাথর থেকে নিজেদের রক্ষা করাঃ
পাথরের ওপর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা পাথর শুষে নিতে পারে (Conduction)। কিন্তু মাউন্টেন গোটের খুরের নিচের চামড়া এবং বসার জায়গার পশম এতটাই পুরু যে, তা চমৎকার ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। ফলে পাহাড়ি বরফ-শীতল পাথর তাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কেড়ে নিতে পারে না।
(৪) কেন তারা পাহাড়ের চূড়া বা নিচে না গিয়ে মাঝখানের দেয়ালে থাকে?
দুর্যোগের সময় তারা ওই ৭-৮ ইঞ্চির খাড়া দেয়ালে অবস্থান নেয় কারণ সেটিই সবচেয়ে নিরাপদ। পাহাড়ের চূড়ায় থাকলে ঝড়ের তীব্র বাতাস তাদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। আবার একদম নিচে নেমে এলে নেকড়ে বা ভাল্লুকের মতো শিকারি প্রাণীদের আক্রমণের ভয় থাকে।
তাই মাঝখানের এই খাড়া দেওয়ালগুলো তাদের জন্য একাধারে ঝড় থেকে বাঁচার ঢাল এবং শত্রুমুক্ত নিরাপদ দুর্গ হিসেবে কাজ করে।
প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টি দুর্যোগ কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চরম ধৈর্য আর অবিশ্বাস্য শারীরিক ক্ষমতা নিয়ে সেই ছোট্ট পাথরের খাঁজেই কামড়ে পড়ে থাকে।

আইবেক্স)
একটি পূর্ণাঙ্গ মাউন্টেন গোটের ওজন ৪৫ থেকে ১৪০ কেজি (১০০-৩০০ পাউন্ড) পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ মাউন্টেন গোট (Billies): সাধারণত আকারে বড় হয় এবং এদের গড় ওজন ৭০ থেকে ১৩৫ কেজি (১৫০ থেকে ৩০০ পাউন্ড) হয়ে থাকে। পূর্ণ যৌবনে কোনো কোনো পুরুষ ছাগলের ওজন ১৪০ কেজি বা তারও বেশি হতে পারে।
স্ত্রী মাউন্টেন গোট (Nannies): পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১৫% ছোট হয়। এদের গড় ওজন ৫৫ থেকে ৮০ কেজি (১২৫ থেকে ১৮০ পাউন্ড) পর্যন্ত হয়ে থাকে।
চরম জেদ ও টিকে থাকার তাগিদঃ আইবেক্সরা যেমন শরীরে খনিজের ঘাটতি মেটাতে ৯০ ডিগ্রী খাড়া পাহাড়ের দেওয়ালে ওঠা-নামার ঝুঁকি নেয়, ঠিক তেমনি মাউন্টেন গোটরা তুষার ঝড় ও ধস থেকে বাঁচতে ইঞ্চির হিসাব করে খাড়া দেয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জমে থাকে। প্রকৃতির যে পরিবেশকে আমাদের কাছে অসম্ভব ও মৃত্যুদূত মনে হয়, সেটাই এই প্রাণীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




