somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আমাদের একমাত্র নোবেল বিজয়ী, তিন শূন্যের তত্ত্বের জনক, সামাজিক ব্যবসার মাস্টারমাইন্ড, ক্ষুদ্রঋণের কিংবদন্তি। একজন মানুষকে এত ভয় পাওয়ার কী আছে? পরপর দুইটা ভিন্ন সরকারই বা কেন তাকে নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ল?

শেখ হাসিনা তাকে রক্তচোষা বলতেন, নদীতে চুবানোর কথা বলতেন। তারপর একদিন দেখা গেল, শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় নেই। ক্ষমতার কী অদ্ভুত পরিহাস! এরপর সেই ইউনূস সাহেবই দেশের হাল ধরলেন। প্রধান উপদেষ্টা হলেন। ক্ষমতায় বসে নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে পাঁচ বছরের কর অব্যাহতি দিলেন, নিজের নোবেল পুরস্কারের অর্থও আইন করে করমুক্ত করার ব্যবস্থা হলো। মনে হলো, এবার বুঝি পুরনো সব ঝামেলার ইতি। নতুন সরকার এলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী এলেন, আর সেই পুরনো ৬৬৬ কোটি টাকার কর মামলাটাও আবার সামনে চলে এলো। গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার নিয়েও রিট হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তও এখন প্রশ্নের মুখে।

তাহলে শেখ হাসিনার ভূত কি নতুন সরকারের ঘাড়েও এসে বসেছে, নাকি এতদিনে আমরা বুঝতে পারছি যে করের মামলাটা আসলেই সহি ছিল? সন্দেহ হওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ ইউনূস সাহেব তো আর যেমন তেমন মানুষ নন। পৃথিবীর কত বড় বড় মানুষ তার পক্ষে কথা বলেছেন। কত আন্তর্জাতিক চিঠি এসেছে। কতজন বলেছেন, এই মানুষটাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সুতরাং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলেই আগে আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে, নিশ্চয়ই কোথাও নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

লীগের আমলে যতগুলো রায় দেওয়া হয়েছে, তার সবটাই তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছিল। এখন নতুন সরকারের আমলেও যদি একই রায় আসে, তাহলে সেটাকে নিছক কাকতালীয় বলা যাবে কি? অবশ্য একটা অসম্ভব ব্যাখ্যাও থাকতে পারে। ফাইলটা হয়তো আসলেই একটা ফাইল। তার কোনো দল নেই, কোনো আদর্শ নেই, কোনো নোবেল নেই। একটা নোটিশ হয়েছে, নিরীক্ষা হয়েছে, মামলা হয়েছে। ফলে সরকার বদলালেই সে হঠাৎ নিজের হিসাব পাল্টে ফেলবে, এমন তো হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু ইউনূস সাহেবের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণ হিসাব দিয়ে কীভাবে চলি? তিনি নোবেল বিজয়ী। কাজেই তার বেলায় একটু বিশেষ ধরনের হিসাব হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের করের হিসাব যেখানে শুধু টাকার অঙ্কে হয়, সেখানে ইউনূস সাহেবের হিসাবের পাশে নোবেল, আন্তর্জাতিক সম্মান আর বিশ্বনেতাদের চিঠিও রাখতে হবে। আর তিনি ক্ষমতায় গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানকে কর সুবিধা দিয়েছেন বলেই বা এত প্রশ্ন কেন ? তিনি তো আর সাধারণ মানুষ নন। এতদিন যদি তাকে অন্যায়ভাবে করের মামলায় হয়রানি করা হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষমতায় এসে নিজের প্রতিষ্ঠানকে একটু নিরাপদ করার অধিকার তার থাকতেই পারে। নিজের নোবেল পুরস্কারের অর্থটাও করমুক্ত করা হলো, সেটাও নিশ্চয়ই নিপীড়িত একজন মানুষের আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সাধারণ মানুষ হলে বলা হতো, নিজের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিলেন কেন? কিন্তু নোবেল বিজয়ী হলে একই কাজকে একটু বড় দৃষ্টিতে দেখতে হয়। নোবেল পুরস্কার তো আর প্রতিদিন পাওয়া যায় না। শোনা যায়, শেখ হাসিনা অনেক তদবির করেও একটা নোবেল যোগাড় করতে পারেননি। সবাই আসলে সব পুরস্কার পায় না। তাই যারা নোবেল পুরস্কার পান, তাদের করফাঁকির মামলার অভিযোগে হয়রানি করা নিশ্চয়ই খুব একটা ভালো দেখায় না।

আমি অবশ্য সবসময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষেই থাকতে চাই। ইউনূস সাহেবকেও একজন নিপীড়িত মানুষ মনে করি। শেখ হাসিনার আমলে যারাই জেলে গিয়েছেন, তারা সকলে নিপীড়িত ছিলেন। কেউ রাজাকার, কেউ জঙ্গি, কেউ সন্ত্রাসী, কেউ রাষ্ট্রের শত্রু। কত কুৎসিত ট্যাগ দিয়ে মানুষকে জেলে রাখা হয়েছিল। শেখ হাসিনার পতনের দিন যখন জেলের তালা ভেঙে অনেক মানুষকে বের করে আনা হলো, তখন মনে হয়েছিলো, অবশেষে নিপীড়নের অবসান হলো।

তাহলে ইউনূস সাহেবের ক্ষেত্রেও একই মানবিকতা দেখানো যায় না কেন? একজন প্রবীণ মানুষ, নোবেল বিজয়ী, পৃথিবীর এত মানুষের শ্রদ্ধার মানুষ। তার ঘাড়ে আবার ৬৬৬ কোটি টাকার করের বোঝা চাপিয়ে এত কষ্ট দেওয়ার কী দরকার? তার ওপর ৬৬৬ কোটি টাকা এমন কী টাকা! এই দেশে তো ১৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগও উঠেছে। এত বড় বড় অঙ্কের গল্প যেখানে ঘুরে বেড়ায়, সেখানে ইউনূস সাহেবের ৬৬৬ কোটি টাকা নিয়ে এত মাতামাতি কেন ?

বড় ডাকাতদের হিসাব বাদ দিয়ে একজন নিপীড়িত মানুষের আয়করের হিসাব নেয়ার পিছনে রাষ্ট্রের কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? মানুষটির বয়সও তো কম নয়। এই বয়সে এসে আদালত, কর, মামলা, রায় এসব নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে কেন? তিনি নোবেল পেয়েছেন, পৃথিবী তাকে চেনে, বিশ্বনেতারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন একজন মানুষকে একটু সম্মান দেখিয়ে ৬৬৬ কোটির হিসাবটাকে নোবেলের মর্যাদা অনুযায়ী মাফ করে দিলেই তো হয় !


ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট-জাগো নিউজ

https://www.jagonews24.com/law-courts/news/1155788


ফটোকার্ড ক্রেডিট : বিবিসি বাংলা


সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৩
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×