somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

CloseUp দূরে চলে যাওয়ার গল্প- When Someone Rape Ur Love and Trust!

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসা দিবস অনাগত প্রায়..
বাতাসে এখন শুধুই ভালোবাসা-বাসির গল্প ভেসে বেড়াচ্ছে, যেখানে আমার গল্পটা কেবলই কান্নার... আর বাঁধ ভাঙ্গা যন্ত্রণার!
সবাই কেবল কি ভালবাসার গল্পই বলবে?... প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতার বেদনা টা কি শুধুই আমার?

মনটা খারাপ... খুব খারাপ! মানুষ মানুষ কে কষ্ট দেয়, আঘাত করে, মিথ্যা বলে, ধোঁকা দেয়... কিন্তু এভাবে? সদা সত্য কথা বলবে, কাউকে কষ্ট দিতে নেই, কারো ক্ষতি করতে নেয়, এই শিক্ষাগুলো বোধ হয় আজকাল আর অভিভাবকেরা সন্তানদের দেয় না। তাই তোমার মত ছেলেগুলো নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলে, আঘাত করে, কষ্ট দিয়ে হেলায় অন্যের জীবন নষ্ট করে দেয়ার খেলায় মেতে থাকো!
রুহি, আমি তোমার সাথে ৮ বছর ছিলাম। এই সময়টা আমি অন্য কারো সাথে ভাগ করি নি যেটা তুমি আমার সাথে করেছ... তুমি এক দিকে আমাকে মিথ্যা বলে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে অপেক্ষা করিয়েছ... আরেক দিকে অসংখ্য মেয়েকে আমার মত করেই বোকা বানিয়ে গিয়েছ, যাচ্ছ! একবারের জন্যও তুমি আমার কথা ভাবো নি। ভাবো নি আমি তোমাকে বিশ্বাস করে পুরো জীবনটা নিয়ে বাজি ধরেছিলাম! তোমার চরিত্র ভালো না, এটা সবাই বলেছে আমাকে। ইউনিলিভারে তোমার কলিগরা, তোমার কলিগের বাবা, তোমার মিথিলা, তোমার কাছের বন্ধু... সবাই! সবাই বলছে তুমি একটা নিকৃষ্ট চরিত্রের ছেলে... আমি কারো কথা বিশ্বাস করি নি। শুধু তোমাকে বিশ্বাস করেছি। তোমার ব্যাপারে হাজার টা সব কুৎসিত কথা শোনার আর জানার পরও তোমার দিকে তাকিয়ে তোমার কথায় ভরসা করেছিলাম... এতকিছুর পরও তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস পাহাড়ের মত অটল আর অবিচল ছিল। কিন্তু না, এই বিশ্বাসের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও শুধু আমার বিশ্বাসের দিকে তাকিয়েও তোমার একবারও ভালো হয়ে যেতে ইচ্ছা করে নি! ইচ্ছা করে নি মিথ্যা, টু টাইমিং করা ছেড়ে দিতে। তোমার কখনও ভালো হতে ইচ্ছায় করে নি। ... তোমাকে তোমার মা কখনও ভালো হয়ে যেতে বলে নি, তোমার প্রিয় বন্ধুরা কখনও ভালো হতে বলে নি, তোমার কাছের কলিগেরাও কখনও ভালো হয়ে যেতে বলে নি... তোমার চারপাশের জগত টায় কেমন যেন অদ্ভুত! ওরা বরং তুমি বহু মেয়েকে বোকা বানিয়ে ব্যবহার করতে পারো বলে তোমাকে উৎসাহ দিয়েচে.. জীবন ধংসের খেলায় যেন তুমি এক আর অদ্বিতীয়! তোমার কোন ঈশ্বর নেই, তোমাকে আটকানোর কেউ নেই! ওরা তোমাকে এপ্রিসিয়েট করেছে যেন এ তোমার অনেক বড় অর্জন...তুমি মন নিয়ে, চোখের জল নিয়ে, ভালোবাসা নিয়ে, জীবন নিয়ে খেলো, ওরা তোমাকে ‘সাবাস’ ‘সাবাস’ বলে উৎসাহ দেয়! ওরা কান্না দেখতে পায় না, ওরা দেখতে পায় না তোমার এই বীভৎস ভালবাসার নাটক আর রসিকতা কি করে একটা জীবন কে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে দ্বার করিয়ে দেয়!
রুহি,
কখনও মিথ্যা বলার সময় তোমার বুক কাঁপে না? কখনও অনুতাপ হয় না? তুমি কি জানো তুমি যখন দরজা বন্ধ করে গোপন কোন জায়গায় গোপন কোন অভিসারে মত্ত থাকো, সেই সময় আমিও কোন এক অন্ধকার কোনায় নিরবে নিভৃতে চোখের জল ফেলি!? জানো তুমি?
সেই কোনাটা অন্ধকার হলেও আমি স্পষ্ট দেখতে পাই, আমাকে ৮ বছর ধরে যে কথাগুলো, যে স্বপ্নগুলো দেখিয়ে এসেছ, তা তুমি এখন আরেক জন কে দেখাচ্ছ! যেই কাঁধে তুমি আমার মাথাটা টেনে নিতে এতদিন, সেখানে এখন অন্য কারো মাথা একই ভাবে টেনে নাও তুমি...আমাকে কি সুন্দর স্বপ্ন দেখাতে তুমি... আটপৌরে একটা সুখী জীবনের স্বপ্ন! সেই স্বপ্নগুলো একই ভাবে আরেক জনকে দেখাও এখন তুমি... কি করে পারো বলতো? তোমাকে মাঝে মাঝে মঞ্চ নাটকের নট মনে হয়! কি নিখুঁত অভিনয় তোমার... শুধু তোমার অভিনয়ের মঞ্চ টা সময়ে সময়ে বদলে যায়!
তুমি অভিনয় করে চলে যাও, মঞ্চ টা পরে থাকে খালি! ... শুন্য!
তোমার কি কখনও অশুচি লাগে রুহি? কখনও ঘৃণা হয় না নিজের উপর? অপবিত্র লাগে না নিজেকে? তোমার একটাবারও আমার কথা মনে হয় না? যখন ব্যভিচারে মত্ত থাকো, তখন একবারও মনে পড়ে না কি করে ঠকিয়েছ আমাকে!??
ভালোবাসতাম তো রুহি তোমাকে! খুউব! কি করে পারলে এমন বেঈমানি করতে? একবারও ‘বিবেক’ নামের বস্তুটা আটকাল না!!? ...
আমার ভাগ্যটায় খারাপ জানো তো। আমি এমন একটা মানুষ কে ভালবেসেছিলাম যার মন, বিবেক, ভালবাসা, সব কিছু একটা জায়গা তে থাকে! সেখানে কামের আধিপত্য এত বেশি প্রকট যে আর সব কিছুর ভূমিকা সেখানে গৌণ হয়ে যায়...
আমি তোমার বদলে যাওয়া দেখেছি রুহি... সে বদলে যাওয়া বড্ড ভয়ঙ্কর! আমার ৮ বছরের পরিচিত মানুষ টা, যার জন্য আমি নিজের হাতে জীবন টা নষ্ট করে দিয়েছি, তাকে আমি একদমই চিনতে পারি না আজ!
রুহি,
জীবন উপভোগে কোন দোষ নেই। দোষ টা তখন হয় তোমার সেই ভোগের বলি হতে গিয়ে কারো জীবন নষ্ট হয়ে যায়! বিশ্বাস জিনিসটা জীবনে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! তুমি ৮ বছর অজস্র মিথ্যা বলে, ঠকিয়ে আমার সেই ভিতর থেকে বিশ্বাস জিনিস টা এমন ভাবে নষ্ট করে দিয়েছ যে আমার আজকাল আর বাঁচতেই ইচ্ছা করে না!
তোমার খুব বাঁচতে ইচ্ছা করে তাই না রুহি...? বেঁচে থেকে শুধু ঠকিয়ে যাবা যারা তোমাকে ভালবাসবে তাদের! কি অদ্ভুত! মানুষ শত্রুর ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আর তুমি... যে তোমার জন্য সব করতে পারতো, যে তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতো, তার এত বড় ক্ষতি করে দিয়েছ যে তার জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল! আমাকে ৮ বছর ধরে মিথ্যা বলে ঠকাতে পেরে, বোকা বানাতে পেরে কি ভীষণ আত্মগৌরব আর তুষ্টি তোমার... এ যেন একবিংশ শতাব্দীর কোন মীরজাফরের বেঈমানি করে আরেকটা পলাশীর যুদ্ধ জয়ের কাপুরুষত্বের গাঁথা!

তোমার বদলে যাওয়া রূপ টা বড্ড ভয়ঙ্কর রুহি... বদলে যাওয়া একটা মানুষ তুমি, যে সব সময় এক মহাসাগর কাম নিয়ে ভালবাসার জাল ফেলে শিকার ধরার আশায় উন্মাদ হয়ে থাকে...
সেই মানুষ টাও এক সময় মানুষ ছিল! সেই মানুষ টা আমিনার কাছে ছিল এক আর অনন্য! তোমাকে আমার দরকার নেই রুহি, কিন্তু সেই রুহি কে আমার খুব দরকার যেই রুহিকে বিশ্বাস করে ভালোবেসে আমি ৮ বছর আগে তার হাত ধরে বেরিয়ে পড়েছিলাম। ...
আমি আর একটা বার জীবনে তার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই, সে আসলে কে? কোন রুহি টা আসল! ইউনিলিভারের চরিত্রহীন মেয়েবাজ ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাহিদ, যার চরিত্রহীনতার গল্প সবার মুখে মুখে ফেরে? নাকি সে সেই ‘রুহি’ যাকে আমিনা নামের মফস্বলের মেয়েটা ভালো মানুষ জেনে পাগলের মত ভালোবাসতো!
রুহি, কোন রুহি টা তুমি?

সবাই কাছে আসার গল্প বলে। কাছে আসার গল্প শুনতে চায়! অথচ কারও কারও জীবনও তো হয় আমার মত বিবর্ণ! অপরিমেয় ভালোবাসা থাকলেও আমাদের ভালোবাসা, স্বপ্ন কখনও পূর্ণতা পায় না... তোমার মত রুহিদের কামের আর ভোগের কাছে আমরা হেরে যাই, আমাদের ভালোবাসা হেরে যায়!
ঘুমাতে চাই রুহি! গভীর ঘুমে ডুব দিতে চাই! যেই ঘুমের ভেতর কেউ এসে বলবে না নান্দুসে তুমি কোন মেয়ের সাথে পহেলা বৈশাখে খেতে গেছ, রাজপথের কোন ফুল বিক্রেতা এসে বলবে না ‘ ভাবি, ভাইয়া কে দেখি আরেকটা মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়ায়, তাকে ফুল কিনে দেয়’, কোন কিবরিয়া এসে বড় গলায় মেয়েদের ব্যবহার করা আর বোকা বানানোতে রুহির দক্ষতার কথা বড় গলায় বলবে না, কোন কলিগের বাবা এসে বলবে না ‘এই ছেলের তো অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক’, কোন এইচ আর বলবে না, ‘এই লোকটার চরিত্র বলে কিছু নেই’, কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তোমার কথা শুনে বলবে না, ‘রুহিকে দেখতাম এক এক দিন এক এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যেতে’, কোন মিথিলা এসে বলবে না, ‘রুহিকে চাইলে আমি কুত্তার মত নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে পারি’, কোন মেয়ে ফোন দিয়ে বলবে না, ‘ও আমাকে বিয়ের কথা দিয়ে ফেলে চলে গেছে’...
নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবেসেছি যাকে, তার ব্যাপারে এত সব কথা শুনে বেঁচে থাকাটা যে কেমন নরকসম যন্ত্রণার তা আমার চেয়ে ভালো আর কে জানে... ঘুনপোকার মত মানুষের কাছ থেকে শোনা তোমার এই চমৎকার মূল্যায়নগুলো আমাকে প্রতিদিন একটু একটু করে ক্ষয় করে দিচ্ছে..
কিন্তু আমারও তোমার মত বাঁচতে ইচ্ছা হয় রুহি... তুমি কেন বাঁচতে দিলে না আমায় বলতো? কেন দিলে না? :(



সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×