somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন পূরন

০৩ রা জুন, ২০১৫ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিডি জবস, প্রথম আলো জবস, পত্রিকার পাতায় চাকরীর খবর সব ভাজা ভাজা হয়ে গেল। তবু চাকরীর দেখা মেলেনি হাবীবের। গত প্রায় দেড় বছর চেষ্টা করেছে একটা চাকরীর জন্য। কোন লাভ হয়নি। ছাত্র অবস্থায় অনেকেই আশ্বাস দিয়েছিল বটে। কিন্তু, দরকারের সময় কারোর দেখা পায়নি ও। সপ্তাহে অন্তত পঞ্চাশটা জায়গায় সিভি দেয় ও। হঠাত কোন এক জায়গা থেকে কল করে ইন্টারভিউ এর জন্য। সেবারতো একটা চাকরী পেয়েও গেল! আইটি কম্পানি। তারা সিকিউরিটি মানি চেয়েছিল দশ হাজার টাকা। এর ওর কাছে ধার নিয়ে আর সাধের মোবাইলটা বিক্রি করে সেটা দিয়েছিল ও। কিন্তু, জয়েন করতে গিয়ে দেখে কোথায় কম্পানি?? কেউ নেই সেখানে!! এলাকার মানুষ বলল, এখানে এক মাসের জন্য ভাড়া এসেছিল কয়েকজন লোক। তারা চলে গেছে দু’দিন আগে!! টিকিটিও আর খুঁজে পাওয়া গেল না তাদের!
কঠিন শিক্ষা হওয়ার পর এখন বেশ সতর্ক হাবীব। মাঝে মাঝে ইমেইল আসে ওর কাছে। কখনও কাতারের ওয়ার্ক পারমিট। কখনও সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পারমিট! এগুলো যে ভুয়া, সেটা বেশ বুঝতে পারে ও। তাই এসবে কান দেয় না ও।
সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতেই আননোন নাম্বার থেকে কল আসলো।
:Are you Mr. Habibur Rahman?
হাবীবঃ Yes.
:We are calling from Heaven Incorporation. You dropped your CV here for the post of “Customer Relationship Officer”.
হাবীবঃ Yes.
: We have arranged an interview for you. Will you please come tomorrow at 3 p.m.?
হাবীবঃ Yes. I can. Please, let me know your address.
: Thanks a lot. We will text the address to you .
হাবীবঃ Ok, Thank you.
: Thank you too. See you. Bye.
হাবীবের মোবাইলে মেসেজ আসলো
Heaven Incorporation
Heaven city
Road number #21
House NO: #32
Banani, Dhaka
ঠিকানাটা খটকা লাগার মতই। হেভেন সিটিটা কি জিনিষ? যাইহোক,বনানীর একুশ নম্বর রোড খুঁজে বের করাটা কঠিন হবে না।
পরদিন একটু তারাতারিই বের হল হাবীব। নির্দিষ্ট সময়ের বেশ আগেই পৌছে গেল একুশ নম্বর রোডে। বত্রিশ নম্বর বাসাটাও বের করতে পারল ও। সেখানে ঢুকতেই বড় করে লেখা “Heaven City” । আজব কম্পানিতো! নিজেদের বাসার নাম রেখেছে হেভেন সিটি! যাহোক, ইন্টারভিউ হলো। এবং সেই সাথে চাকরীটাও কনফার্ম হয়ে গেল হাবীবের! কাজটা খুব সহজ। হাবীবকে এখানে কাস্টমার রিলেসনশীপ রক্ষা করতে হবে। সেটা অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই। একটাই সমস্যা, কম্পানি একেবারে নতুন। এখনও নিজেদের জিনিষপত্র সব যোগাড় হয়নি ওদের। তাই আপাতত শুরুর কয়েকটা দিন হাবীবকে নিজের ল্যাপটপটাই নিয়ে আসতে হবে। মাস শেষে ইন্টারনেট বিল সে কম্পানি থেকেই পাবে। সব মিলিয়ে চাকরীটা কিন্তু মন্দ না!
এক সপ্তাহ পরেই অফিস জয়নিং। জুলাই মাসের এক তারিখ সকালে মহা উতসাহে ল্যাপটপ ঘাড়ে নিয়ে বাসা থেকে বের হল হাবীব। অফিসে ঢুকলো । ওর বসার জায়গা আগেই দেখিয়ে দেয়া হয়েছিল ওকে। তাই, নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসল হাবীব। ওর বস ওর সামনে এসে বসল।
বসঃ চাকরী পেয়ে তাহলে খুব খুশি?
হাবীবঃ হ্যা অবশ্যই। আসলে, চাকরীটা খুব দরকার ছিল আমার।
বসঃ বেঁচে থাকার জন্য কত চেষ্টা আমাদের, তাই না? অথচ বেঁচে থাকতে গিয়ে যে কষ্টটা আমরা করি, তাতে কি বেঁচে থাকাটা অর্থহীন হয়ে যায় না?
হাবীবঃ তা ঠিক স্যার।
বস ইজ অলওয়েজ রাইট, মনে মনে বলল হাবীব!
বসঃ এটা হচ্ছে হেভেন কম্পানি। মানে একদম স্বর্গ বলতে পারেন। স্বর্গে যেতে চান?
কথাটার মানে ঠিক বুঝলো না হাবীব। হঠাত ডান পাশের দরজা থেকে কেউ একজন ঢুকল। কাস্টমার নাকি? হাবীব সামনে তাকিয়েই আঁতকে উঠল! একটা রড হাতে নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে লোকটা। বসের গলা শোনা গেল, “এই এই! কি করছেন কি?” হাবীব দেখতে পেল রডটা ঠিক ওর মাথার উপরেই নেমে আসছে! তারপর অন্ধকার!
হাসপাতালের বেডে ঘুম ভাঙলো হাবীবের। পাশে বসে আছে হাবীবের বন্ধু তন্ময়। হাবীব চোখ মেলে তাকাল। একটু একটু মনে পরছে ওর। তন্ময়কে বলল, “দোস্ত, আমার ল্যাপটপটা কি নেই?” তন্ময় হতাশ ভঙ্গিতে বলল, “কীসের ল্যাপটপ? তোর পকেটে মানিব্যাগ পর্যন্ত নেই!” হাবীব একটা ছোট্ট দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে ওর। মাথাটা চেপে ধরে বলল, “আমাকে কোথায় পেলি? আর ওরা কোথায়?”
তন্ময় বলল, “তোকেতো এক রিকশাওয়ালা এখানে দিয়ে গেছে। তুই নাকি রিকশায় বসে হঠাত অজ্ঞান হয়ে পরেছিলি, এই হাসপাতালের সামনেই। তারপর এখানকার কয়েকজন কল রেকর্ড থেকে আমার নাম্বার বের করে আমাকে ফোন করেছে।”
মাথাটা গুলিয়ে গেল হাবীবের। রিকশা কোথা থেকে আসল? আচ্ছা এমনওতো হতে পারে যে, এইটা একটা দূঃস্বপ্ন? নাহ! অসম্ভব। সহ্যের একটা সীমা আছে। এবার মামলা করবে ও। এই কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করবে। চাকরী এমনিতেও কপালে নেই ওর। পরিশ্রম করে টাকা উপায় করা ওর হবে না। সৎ পথে পরিশ্রম করার সুযোগটাই যে কেউ দিচ্ছে না!
সুস্থ হয়ে বাসায় আসার পর অবশ্য আরেক দফা অবাক হল হাবীব। পেপারে আবার চাকরীর বিজ্ঞাপন চোখে পরল ওর। গ্রেফতারী পরোয়ানা ওর নামে! ও নাকি হেভেন সিটি নামক কম্পানিতে চাকরী করতে গিয়ে অর্থ চুরি করে পালিয়েছে! ও কি মামলা করবে! এখনতো মামলা ঠেকাতে হবে ওকে।
*********
শেষ কথা হচ্ছে এই, হাবীব অবশেষে কাজ পেয়েছে একটা। দিব্যি কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে ও। পোস্টিং হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওকে। পেপারটা পড়ার সুযোগ হয় অবশ্য। চাকরীর খবর অবশ্য এখনও দেখে ও। মাঝে মাঝেই নতুন নতুন পোস্টের জন্য সার্কুলার হয়। কম্পানির নাম পরিবর্তন নতুন। কিন্তু ঠিকানাটা সেই একইঃ
Road number #21; House NO: #32; Banani, Dhaka
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×