somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের ছাত্রী খুব কম ছিল। এই আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন কার্জন হলে একেকটা সায়েন্সের সাবজেক্টে ছাত্রী ছিল ১০-১১ জন, মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬৭, আমাদের ক্লাসে, কোন ডিপার্ট্মেন্টে ৭০ জন, ৯০ জন বা এরকম। ফিজিক্সে মনে হয় ১০০ র উপরে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ছিল। আবার আলাদা করে হিজাব পরা মেয়ে বা মুসলিম পরিবার থেকে বিজ্ঞানে পড়তে এসেছে, বাড়ি ছেড়ে ঢাকা শহরে বা চট্টগ্রামে বা সুদূর খুলনা বা রাজশাহীতে, তাহলে এ সংখ্যা আরো কমে যাবে।
তবে বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, যেমন মেডিকেল, বোটানি, জুওলজি, এরকম সাবজেক্টগুলোতে ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, কোথাও কোথাও ছেলেদের চাইতেও বেশি।

আমি গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেকশনে ক্লাস নিতে গেলাম। ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সার্কিট এনালাইসস। এটা কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি সহযোগী বা মাইনর সাবজেক্ট হিসেবে পড়াচ্ছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে বা এর আগে যেটাতে জব করেছিলাম, উত্তরায় অবস্থিত, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব বা বোরকা পরিহিত ছাত্রীর আধিক্য বেশি। মানে হলো যে, উত্তরার বিভিন্ন সেকটরে হিজাব পরা নারীর বা পরিবারের সংখ্যাধিক্য আছে। এছাড়াও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাইরে থেকে পড়তে আসে, সেসব ছাত্রীদেরও বেশির ভাগ হিজাবি। অন্যান্য পোশাকের মানে, সালোয়ার কামিজ পরা, হাল আমলের শর্টস, ফতুয়া, প্যান্ট পরা এরকম ছাত্রীও আছে। তবে কালকের ক্লাসে ছাত্রোর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল এবং আমি লক্ষ্য করলাম হিজাব পরা বা বোরকা পরা মেয়ে বেশি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রী নেকাবও পরে। আমি ব্যাপারটা লক্ষ্য করে আমোদ এবং খুশি, দুটোই হয়েছি। সেটা তাদের সাথে বললামও। এ অর্জন টু ফোল্ড। এক হচ্ছে আইটিতে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, আরেকটা হচ্ছে হিজাব বা বোরকা পরা নারীদেরকে তাদের পরিবার বিজ্ঞানভিত্তিক বা ইঞ্জিনিয়ারিংভিত্তিক বিষয় পড়তে পাঠিয়েছেন। আবার পরীক্ষার হলে ইভিনিং শিফটের বাচ্চাসহ এক মা ছাত্রীকে বাচ্চা নিয়েই পরীক্ষার হলে আসতে দেখি। বিয়ে হয়েছে এরকমও আছে, এটা আমাদের সময়ও ছিল। কিন্তু, যেটা বিশেষভবাএ উল্লেখ করতে চাচ্ছি, আজকাল মুসলিম পরিবারগুলো মেয়েদের আর আটকাচ্ছে না। বা আর্টসে পড়, ডিগ্রী পড়, কোন রকমে সার্টিফিকেট নিয়ে আসো, এ ধারণা থেকে ধীরে ধীরে বের হচ্ছে। এবং অগ্রসরই হয়েছে। আমি উত্তরা ইউনিভার্সিটি এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি – এই দুটোকে এই সাফল্যের মাত্রাকে আলাদাভাবে ক্রেডিট দিতে চাই। হয়তো মানারাত ইন্টারন্যাশানাল এ গেলেও এ চিত্র চোখে পড়বে।
একসময়ে আমরা একজন ইঞ্জিনিয়ার নারীর সাফল্য নিয়ে অনেক আলোচনা করতাম। এনার্জিপ্যাক-এর শার্ট প্যান্ট পরিহিত ইলেক্ট্রক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, বিভিন্ন দেয়াল টপকে টপকে কেবল কানেকশান দিতেন। এরকম সাহসী নারী হওয়া সত্যিই একটা অর্জন। আর আমি বলবো হিজাবী নারীর আইটি ইঞ্জিনিয়ার হতে এসেছেন, সার্কিট কানেকশন দিচ্ছে, প্রজেক্ট করছে, কোডিং করছে, এলগরিদম নিয়ে লেখা পড়া করছে, এটা প্রাথমিকভাবে বড় সাফল্য, এরপর কে কতো ভাল ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে, কত রিমোর্ট এরিয়ায় গিয়ে কাজ করতে পারবে, কত পাহাড় পর্বত ডিঙাবে, সেই হিসেব না হয় পরেই করি! তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হওয়াতে এই সুযোগগুলো তৈরী হয়েছে, যেখানে মেধাগত প্রতিযোগিতা কম, অনেকটাই এটা নারীর বিজ্ঞান শিক্ষায় কোটার মতো কাজ করে। সাধুবাদ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়! নারীদের এগিয়ে চলার পথা সহায়ক!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×