somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দূরের ভবিষ্যতে (কোন জাতের সাইন্স ফিকশন বলতে পারবো না)

২৫ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাল ২০৪৩। আমি বসে আছি একটা রেস্টুরেন্টে। এখানে পুরনো দিনের খাবারগুলো নিয়ে মেলা হচ্ছে। বর্তমানের স্বাদ-গন্ধহীন ক্যাপস্যুল খেয়ে খেয়ে জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেছে। তাই সেই ছোটবেলার খাওয়া খাবারগুলো অনেকদিন পর চেখে দেখার জন্যই আমার এখানে পদার্পণ। গত ২০২৩ এর ভীষণ খরার দরুন, খাবারের আকাল থেকেই স্বাদ-গন্ধহীন ক্যাপস্যুলের জন্ম। কথায় আছে, ‘প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক’।

আমরা সরকারী চাকুরী করি। আজকের খাদ্য-মেলা ভীষণ গোপনীয়তার সাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা শুধু সরকারী কর্মচারীদের জন্য। অনেক কষ্ট করে এসব বিলুপ্তপ্রায় উপকরন আমাদের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আমার মতো অনেকেই এসেছে। খাবার খেতে, খাবার দেখতে। এখনও দেরী হচ্ছে কেন ঠিক বুঝতে পারছি না। পাশের লোকটি বলল যে ‘প্রেসিডেন্ট এরশাদ’ নাকি মেলা শুরুর আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। এখনও আসেননি তিনি। এদিকে খাবারের গন্ধ ক্ষণে ক্ষণে প্রবল হচ্ছে। একপর্যায়ে টিকতে না পেরে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলাম। দূর থেকে দেখছি রান্নাঘরের চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গেটের বাইরের ২ জন রোবট সিপাহী সরে যাওয়ার পর আমি দরজায় উঁকিঝুঁকি দিতে লাগলাম।

সময়ের খেয়াল নেই, কখন থেকে যে আমার পিছনে ২ জন রোবট সিপাহী দাড়িয়ে আছে দেখতেই পাইনি। আমাকে ক্যাঁক করে গর্দান পাকড়াও করলো। তারপর শুরু হল চেকিং। একবার শার্টের পকেটে, আরেকবার প্যান্টের পকেটে হাত দিচ্ছে। আমি যতই বলি সুড়সুড়ি লাগছে, তারা আরো বেশি করে করতে লাগলো। রোবটরা অবুঝ প্রাণী। তারা কোনো মানুষের কমান্ড বোঝে না। সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে কিছুক্ষণ পর ছেড়েও দিল। এসে দেখি খাদ্য-মেলা শুরু হয়ে গেছে। কখন যে এরশাদ এসেছে আর চলে গেছে টের পাইনি......। ভালই টাইম পাস হল রোবট সিপাহীদের সাথে।

এখন সবাই খাচ্ছে। আমিও প্লেট নিয়ে বসে পড়লাম। একবার এটা খাচ্ছি তো আরেকবার খাচ্ছি ওইটা। অনেকগুলো খাবার নতুন করে চিনছি। অনেক দিন খাদ্য যাদুঘরে যাওয়া হয় না। ওইখানে সব বিলুপ্ত খাবারের নাম ছবিসহ দেয়া আছে। বাচ্চাদের নিয়ে একদিন যেতে হবে। আমি খেয়ে খাবার চিনেছি। আর ওদের ছবি দেখিয়ে চেনাবো।

অনেকগুলো খাবার একসাথে দেখছি। ইচ্ছামত খাচ্ছি। অপেক্ষার তর শইছিল না। পোলাও-চিকেন কারি-খাসির রেজালাও দুর্দান্ত হয়েছে। মেইন কোর্সের পর মিষ্টি খাবার গুলো বেশ ভাল লাগছে। দুধের তৈরি মিষ্টান্নগুলো তো চোখ, জিব, মন জয় করে ফেললো। সবচেয়ে ভাল লাগলো সিদ্ধ চাল ও ঘনদুধের মিশ্রণ। লোকে বলে এটার নাম নাকি পায়েস, মতান্তরে ফিরনি। জর্দা দিয়ে পান খেলাম। মনে আছে আগে দিদা, ঠাকুমারা আগে পানের পিক ফেলতেন। অনেকদিন পর পান দেখে পান খেয়ে ঠোঁট, জিব লাল করে রেস্টুরেন্টের দেয়ালে দেয়ালে পানের রস ছিটিয়ে দিলাম। খাবার খেয়ে আমরা সবাই স্লোগান দিলাম, “জয় এরশাদের জয়”।

উৎসর্গ করলাম চির তরুন প্রেসিডেন্ট এরশাদ এবং আমার মেধাবী ক্লাসমেট এরশাদকে.....................

৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×