somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীন বচন

২৮ শে আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্সিটিতে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা দিনাতিপাত করে ২ ঘণ্টার বাস জার্নি করে বাসায় আসতে সমর্থ হই। বাসায় এসে দেখি আমার মামাতো ভাই (মাঝারি সাইজের পিচ্ছি) জুতো পায়ে দিচ্ছে। মানে এতক্ষণ বাসায় বেরিয়েছে। আর এখন চলে যাবে। আমাকে দেখে ডাক দিলো, “অই অমিট। কই সিলি টুই? আমি এতক্ষণ কম্পুটারে গ্যাম (গেম) খেলচি।” আমি ছিলাম ক্লান্ত। বললাম ভালো করেছ। এখন রাত হয়ে গেছে। আমি তোমাকে দিয়ে আসছি বাসায়। পরে আবার এসো। একসাথে গেম খেলবো। এমন করে হাল্কা কথা হল দরজায় দাড়িয়েই। সে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে গেলো। আমি ব্যাগটা কাঁধ ঠেকে নামাতে গেলাম। ও আবার ডাকল, “অই অমিট, আমি সিমস (SIMS 3) খেলচি। তকে বানিয়েচি। এখন ঠেকে কম্পুটারে বসে হাডু টরবি ;) (If you know what he meant !!!)”। বলে টয়লেটে বসার মতো করে মাটিতে বসে পড়লো আর হাসতে লাগলো।

এতক্ষণে তাহলে বুঝতে পারছেন কার কাহিনী বলছি। আমার পিচ্ছি মামাতো ভাই স্বাধীন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি আজ তুলে ধরবো।

সে তার মার সাথে বাইরে গেছে। দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলল, “মা আমি চিপস খাবো। ওর মা বলল, “নাহ বাবা, এখন না। পরে কিনে দিব। এখন একজায়গায় যাচ্ছি। এখন রিকশাতে উঠো”। “সে রেগে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে দৌড় দিয়ে চলে গেলো আর চিৎকার করতে লাগলো, “অই রিসসাওয়ালা (রিকশাওয়ালা) আমার উপর দি রিসসা (রিকশা) উডি নিয়া যা। আমি বাঁচতে চাই না। মারিয়ালা আমারে মাইয়ালা”। ওর মুখে এই কথা শুনে ওর মা স্তব্ধ হয়ে গেলো !!!
আরেকদিন রাতে ঘুমানোর সময় কি হল বলি। ওর মা ওকে ঘুম পারাচ্ছে। সবার আগে মশারি টাঙ্গানো হল। হঠাৎ ওর অবজেকশন, “আমি আমি মশারিতে ঘুমাবো না। ওর মা বলল, “নাহ বাবা, মশা কামড় দিবে কিন্তু”। এটা শুনে সে কান্না শুরু করে দিলো। ওর মা ওকে বকা দিয়ে বলল, “জেতা বলসি সেতাই, এত জিদ করে না”। সাথে সাথে ওর উত্তর, “ধ্যাত। আমি আর বাচতে চাই না। মারিয়ালা আমারে মারিয়ালা। মরি যামু, কিন্তু মশারিতে ঘুমাব না”। ওর উত্তর শুনে ওর মা আবার হতবাক !!!

আরেকবার স্বাধীন শুয়ে শুয়ে সঙ্গীত বাংলায় গান শুনছিল। এমন সময় ওর বাবা এসে চ্যানেল চেঞ্জ করলো। “বাবা গান দাও। গান দাও”। “দারাও বাবা, একটু খবরটা দেখে নেই আমি”। এরপর সে কান্নাকাটি করতে লাগলো, “গান না দিতে পারলে মারিয়া ফেল আমারে। আমি বাঁচতে চাই না এই দুনিয়াতে আমি বাঁচতে পারবো না”। এই কথা শুনে ওর বাবা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এবং সঙ্গীত বাংলা দিয়েই দ্রুত প্রস্থান করলেন।

বাবার সাথে কনফেকসনারি দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বলল, “আমাকে চকলেট দেও”। ওর বাবা বলল, বাবা তুমি বিস্কুট নাও”। “নাহ আমি চকলেট নিবো। ওই দোকানদার চকলেট দে আমারে”, বলে জিদ করতে লাগলো। দোকানদার মজা পেয়ে বলল, “তোমার বাবাতো না করসে, তোমাকে আমি চকলেট দিবো না। বিস্কিট নিয়া যাও”। এই কথা শুনে স্বাধীন কেঁদে বলল, “কথিন (কঠিন) দুনিয়াতে আমি বাঁচতে চাই না। মারিয়ালাও আমারে মারিয়ালাও। অই দুকান্দার (দোকানদার) টুইও (তুইও) মরি যা। চকলেটের বক্স তর উপর পরবে। টুই (তুই) তাড়াতাড়ি মরি যা”। ওর কথা শুনে দোকানদার আর বাবা দুইজনই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেলেন।


ভার্সিটিতে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা দিনাতিপাত করে ২ ঘণ্টার বাস জার্নি করে বাসায় আসতে সমর্থ হই। বাসায় এসে দেখি আমার মামাতো ভাই (মাঝারি সাইজের পিচ্ছি) জুতো পায়ে দিচ্ছে। মানে এতক্ষণ বাসায় বেরিয়েছে। আর এখন চলে যাবে। আমাকে দেখে ডাক দিলো, “অই অমিট। কই সিলি টুই? আমি এতক্ষণ কম্পুটারে গ্যাম (গেম) খেলচি।” আমি ছিলাম ক্লান্ত। বললাম ভালো করেছ। এখন রাত হয়ে গেছে। আমি তোমাকে দিয়ে আসছি বাসায়। পরে আবার এসো। একসাথে গেম খেলবো। এমন করে হাল্কা কথা হল দরজায় দাড়িয়েই। সে দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে গেলো। আমি ব্যাগটা কাঁধ ঠেকে নামাতে গেলাম। ও আবার ডাকল, “অই অমিট, আমি সিমস (SIMS 3) খেলচি। তকে বানিয়েচি। এখন ঠেকে কম্পুটারে বসে হাডু টরবি ;) (If you know what he meant !!!)”। বলে টয়লেটে বসার মতো করে মাটিতে বসে পড়লো আর হাসতে লাগলো।

এতক্ষণে তাহলে বুঝতে পারছেন কার কাহিনী বলছি। আমার পিচ্ছি মামাতো ভাই স্বাধীন। তার উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি আজ তুলে ধরবো।

সে তার মার সাথে বাইরে গেছে। দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বলল, “মা আমি চিপস খাবো। ওর মা বলল, “নাহ বাবা, এখন না। পরে কিনে দিব। এখন একজায়গায় যাচ্ছি। এখন রিকশাতে উঠো”। “সে রেগে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে দৌড় দিয়ে চলে গেলো আর চিৎকার করতে লাগলো, “অই রিসসাওয়ালা (রিকশাওয়ালা) আমার উপর দি রিসসা (রিকশা) উডি নিয়া যা। আমি বাঁচতে চাই না। মারিয়ালা আমারে মাইয়ালা”। ওর মুখে এই কথা শুনে ওর মা স্তব্ধ হয়ে গেলো !!!
আরেকদিন রাতে ঘুমানোর সময় কি হল বলি। ওর মা ওকে ঘুম পারাচ্ছে। সবার আগে মশারি টাঙ্গানো হল। হঠাৎ ওর অবজেকশন, “আমি আমি মশারিতে ঘুমাবো না। ওর মা বলল, “নাহ বাবা, মশা কামড় দিবে কিন্তু”। এটা শুনে সে কান্না শুরু করে দিলো। ওর মা ওকে বকা দিয়ে বলল, “জেতা বলসি সেতাই, এত জিদ করে না”। সাথে সাথে ওর উত্তর, “ধ্যাত। আমি আর বাচতে চাই না। মারিয়ালা আমারে মারিয়ালা। মরি যামু, কিন্তু মশারিতে ঘুমাব না”। ওর উত্তর শুনে ওর মা আবার হতবাক !!!

আরেকবার স্বাধীন শুয়ে শুয়ে সঙ্গীত বাংলায় গান শুনছিল। এমন সময় ওর বাবা এসে চ্যানেল চেঞ্জ করলো। “বাবা গান দাও। গান দাও”। “দারাও বাবা, একটু খবরটা দেখে নেই আমি”। এরপর সে কান্নাকাটি করতে লাগলো, “গান না দিতে পারলে মারিয়া ফেল আমারে। আমি বাঁচতে চাই না এই দুনিয়াতে আমি বাঁচতে পারবো না”। এই কথা শুনে ওর বাবা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এবং সঙ্গীত বাংলা দিয়েই দ্রুত প্রস্থান করলেন।

বাবার সাথে কনফেকসনারি দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বলল, “আমাকে চকলেট দেও”। ওর বাবা বলল, বাবা তুমি বিস্কুট নাও”। “নাহ আমি চকলেট নিবো। ওই দোকানদার চকলেট দে আমারে”, বলে জিদ করতে লাগলো। দোকানদার মজা পেয়ে বলল, “তোমার বাবাতো না করসে, তোমাকে আমি চকলেট দিবো না। বিস্কিট নিয়া যাও”। এই কথা শুনে স্বাধীন কেঁদে বলল, “কথিন (কঠিন) দুনিয়াতে আমি বাঁচতে চাই না। মারিয়ালাও আমারে মারিয়ালাও। অই দুকান্দার (দোকানদার) টুইও (তুইও) মরি যা। চকলেটের বক্স তর উপর পরবে। টুই (তুই) তাড়াতাড়ি মরি যা”। ওর কথা শুনে দোকানদার আর বাবা দুইজনই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেলেন।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩



মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×