
ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক আশাক, চিন্তা ভাবনা বা ধর্ম বিশ্বাস, কি নেই যে পার্থক্য চোখে পড়ে না।
ইদানিংকালে এপার বাংলার টিভি চ্যানেলগুলো বস্তুত ওপার বাংলাকে অনেক বেশি ফলো করছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এপার বাংলার স্বকীয়তা বিলীন হোক সেটা কোন অযুহাতেই চাই না।
আমার চাই না লিস্ট খুব ছোট:
১). ওড়না ছাড়া শুধু থ্রি পিস বা ফতুয়া পড়া অবস্থায় বুক বের করে কোন নারী শরীর উপস্থাপিত হোক সেটা চাই না। সেটা এ্যাড হোক, নাটক বা সংবাদ পাঠীকা...
২). বাচ্চাদের দিয়ে সংবেদনশীল বক্তব্য উপস্থাপন বা আবেগময়ী ঘটনা প্রদর্শন বা বাকপটু ভাবে বাচ্চাদের উপস্থাপন দেখতে চাই না। কোন একটি ঘটনা সত্য হতে পারে। কিন্তু দেশের ২ কোটি বাচ্চার ভেতরে একটি মাত্র সংবেদশীল ঘটনা সব শিশু কিশোরদের মাঝে ছড়ানো ঠিক মনে করি না। ব্যবসায়ীক মনোভাব রাখুন কিন্তু বিপর্যয় ঘটিয়ে নয় বা কটু/উদ্ভট/অশালীন ভাবে নয়।
৩). কোন কোন টিভি চ্যানেলের সঞ্চালক/সংবাদ পাঠক/পাঠীকা বা অংশগ্রহনকারীদের দেখলে মনে হয়, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর কোন দেশ নয়, সারাবছর মাত্র একটি ঋতু: শীতকাল। এত এত মোটা ভারি কাপড় পড়ে যে বোঝা মুশকিল এখন গরমের সময়। বর্তমানে দেশে কোন কোন জেলায় ৩৮-৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রা। কিন্তু টিভির পর্দায় তাদের দেখলে মনে হয় তেঁতুলিয়ায় বসে অনুষ্ঠান করছে মাঘ মাসের শীতে। এরকম স্ট্যুপিড মানুষদের টিভির পর্দায় দেখলে মনে হয়, আমরা এপার বাংলার সবাই স্ট্যুপিড। পোশাকে কর্তৃপক্ষের এমন বিদেশিনী মনোভাব দেখতে চাই না। আমাদের পোশাক, আমাদের সংস্কৃতি বা কৃষ্টি কালচার আমাদের গর্ব।
৪). এখন আর ঐ সব টিভি সেট নেই যে, উঠে গিয়ে চ্যানেলের কট/নব ঘুরাতে হবে। এখন রিমোট কন্ট্রোল টিভি ঘরে ঘরে। তাই ১৫ সেকেন্ডের বেশি লম্বা এ্যাড হলে আমরা অন্য চ্যানেলে চলে যাই। আর ফিরি না। এখন আর ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ এ্যাড দেখার ধের্য্য শিশু বৃদ্ধ কারো নেই। তাই লম্বা এ্যাড চাই না।
খবর বা অন্য অনুষ্ঠানের মাঝে ১৫ সেকেন্ডের এ্যাড ৪ বার চলুক। বাকি এ্যাড বা বিজ্ঞাপন খবর বা অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১০-২০মিনিট ধরে দিক। যার ইচ্ছা সে বসে বসে দেখবে। কিন্তু বর্তমানে এমন অবস্থা যে সব টিভি এখন বিটিভি। এ্যাডের ফাকে ফাকে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের ফাকে ফাকে নয়। এসব চাই না...
৫). এ্যাডের একটা টাইমিং ক্যাটাগরি করা দরকার। সেই ক্যাটাগরি অনুসারে সেগুলো সম্প্রচার করতে হবে। যেমন, জন্ম-নিয়ন্ত্রন পিল বা কনডমের এ্যাড রাত ১০টার আগে দেখানো ঠিক না। বাচ্চারা আগ্রহ বসে অনেক সময় লজ্জাজনক প্রশ্ন করে বসে। বয়োবৃদ্ধরা অস্বতির ভেতরে পড়েন।
আবার যুদ্ধের বা ক্রাইমের লাইভ বা সংগৃহীত ফুটেজ যেমন, বম ফাটানো, ট্যাঙ্ক চালনা, বন্দুক থেকে গুলি বের হওয়া বা ড্রোন দিয়ে ফায়ার করা.. এ ধরনের ভিডিও ব্লার করে দেখানো উচিত। নয়ত বাচ্চারা ঐ ধরনের গেম খেলতে উদ্বুদ্ধ হয়। ক্লিয়ার ভিডিও রাত ১০ টার পরের খবরে বা অনুষ্ঠানে দেখাতে পারে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মনের উপর চাপ তৈরী হোক টিভির পর্দায় বসে, সেটা চাই না। টিভি চ্যানেলগুলো ইচ্ছে করলেই এসব ব্যবস্থা নিতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



