somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"লাঞ্ছনা" ------- (আজকের তরতাজা ঘটনা)

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বের কথাঃ সময়টা গোধূলি বেলা। সাড়ে ৬ টার পরে। রাস্তায় তখন আধো আলো, আধো অন্ধকার। স্থান হল ভার্সিটির ডাবল ডেকার বাস। কোন রুটের তা বললাম না।

মূল কাহিনীঃ অনেক জ্যাম আজ রাস্তায়। আমি বসে বসে গান শুনছিলাম। যেহেতু ডাবল ডেকার বাস, তাই নিচে মেয়েরা এবং উপরে ছেলেদের জন্য জায়গা বরাদ্ধ। আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলাম পরিবেশ, গাছপালা আর মানুষ।

যেহেতু জ্যাম, সবকিছুই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। এতো জ্যামের ভিতর দিয়ে গাড়িটা শম্বুক গতিতে এগিয়ে চলছিল। থেমে থেমে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটা মোড়ে বাস থামলো। বাসের সবাই জ্যামের ঠ্যালায় অতিষ্ঠ। কেও কেও ঘুমাচ্ছে, কেও কেও তাস খেলছে। কেও বা দূরালাপনি যন্ত্রে দুরালাপন করছে।

আমি রাস্তার সব মানুষকেই দেখছি। হঠাৎ দেখলাম আমাদের ভার্সিটির বাসের সাইডে কয়েকটা ছেলেপেলে এসে দাঁড়ালো। এদের মধ্যে একটা ছেলে নিচে থাকা মেয়েদের দিকে তাকিয়ে অশ্লীল ভঙ্গি করতে লাগলো। হ্যাঁ, অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে রাস্তার কয়েকটা সাধারণ ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদের বাসের ভেতরেই টিজ করেছে।

আমি এতোটাই হতভম্ব হয়েছি যে, ব্যাপারটা সাথে সাথে ধরতে পারি নি। জ্যাম ছোটার সাথে সাথেই বাসটা টান দিল জোরে। হারিয়ে ফেললাম সেই ছেলেটাকে। নিজের উপর অজান্তেই প্রচণ্ড রাগ উঠছিল।

আমি জানিনা যাকে উদ্দেশ্য করে অঙ্গভঙ্গি করা হয়েছিল, তিনি দেখেছেন কিনা। কিন্তু এতোটুকু ঠিকই বুঝতে পারছি যে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার ইত্যাদির কোন মূল্য নেই। আমরা যদি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে সহপাঠীদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিতে না পারি, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

ধিক্কারটা শুধু আমাদের জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য। যেখানে আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, যেখানে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সেখানে এখনো আমাদের দেশের নারীদের প্রতি সম্মান দেখানোর আদব-লেহাজ শিখাতে পারিনি।

আপাতত কিছু বলার মুখ নেই, বাকিটা আপনারা আন্দাজ করে নিবেন আমাদের মন মানসিকতা এখন কিসের রুপ ধারণ করেছে।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×