বলুন তো ভারতের দেবতা কয়জন?
-৩৩ কোটি
-ধুর মিঞা পারলেন না?
- তা হলে আপনি বলুন কয়জন?
- ৩৩ কোটি + ১ জন।
এই হিসাবটা কিন্তু হিন্দুদের জন্য না। এই হিসাবটা সকল ভারতীয়দের জন্য। কি দিন্দু, কি মুসলিম... এই অতিরিক্ত দেবতাটি সবার। এটা নিয়ে কারো কোন আপত্তি ও নেই। এবার বলুন তো এই অতিরিক্ত একজন দেবতার নাম কি?
- শচিন............ টেন্ডুলকার।
ঠিক ধরেছেন। তিনি আর কেউ না শচিন টেন্ডুলকার। একবার শচিনকে একটি মদ কোম্পানির ব্রান্ড এম্বাসিডর হতে বলা হয়েছিল। তিনি জবাব দিয়েছিলেন- ভারতের ২৫ কোটি তরুন আমাকে আইডল মানে। আমি তাদের মদ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারি না। (স্যালুট বস)
শচিন কে নিয়ে বছর খানিক আগে একবার কথা উঠেছিল। কেউ বলেছিল শচিন মহত্তা গান্ধী থেকে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন ভারতীয়দের উপরে। সুতরাং শচিনই হবে ভারতের জাতীর জনক। কেউ বলেছে শচিনের নামে টাকা ছাপা হোক। কের মতে শচিন হল ভারতের ইতিহাসে সব থেকে বড় মোটিভেটর।
.
আরেকজন মানুষ। নাম শুনলেই আমার মাথাটা আলগোছে তার পায়ের কাছে চলে যায়। এপিজে আবুল কালাম আজাদ। তিনি যদি আজ সন্ধ্যায় ঘোষণা করেন যে- আজ ভারতের সকল শিক্ষার্থী সারা রাত পড়ালেখা করে পার করবে। তবে ভারতের একটি বাড়িতেও আজ রাতে লাইট বন্ধ হবে না।
,
মোদী সরকার গঠনের পরেই রস্তায় নেমে গেল "ক্লিন ইন্ডিয়া" শ্লোগান নিয়ে। অমনি ভারতের সিংহভাগ মানুষ নেমে গেল ভারতকে ধুয়ে মুছে প্রবিত্র করতে। সে হোক বিজেপির সাপোর্টটার, হোক কংগ্রেসের সাপোর্টটার। দল এখানে বড় না। কে ডাক দিয়েছে সেটা বড় না। বড় হল ইন্ডিয়া। সুতরাং ইন্ডিয়ার উন্নতিতে দল-মত-ব্যাক্তি মিশে একাকার হয়ে যায়।
..........................................
কি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিলাম? বলুন তো কেন দিলাম?
গত কয়েকদিন যাবত পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের মাঝের নোংরা ফেসবুকিয় যুদ্ধ দেখছি। যুদ্ধ গড়াতে গড়াতে কম গড়ায়নি। আমি খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে সাধারন মানুষের এই ছোট খাট ঘা বড় হয়ে যাচ্ছে। এটা অদুর ভবিষ্যতে উভয় দেশের সরকারকে ইফেক্ট করবে। কারন ভোট তো সাধারন জনগণই দেয়। বাংলাদেশের অনেক সম্মানিত মডেল, সাংবাদিক, অভিনেতা, ফেসবুকিয় সেলিব্রেটি, আরজে দেরও দেখেছি ইন্ডিয়াকে অপমান অপদস্ত করে লিখতে। পশ্চিম বঙ্গ ও পিছিয়ে নেই। গায়ক রুপমের বক্তব্যের সত্যতা জনাই না। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি বিবাদটা শুধু মাত্র আর সাধারনের থাকছে না। এই বিবাদে মিডিয়া ব্যাক্তি থেকে সুশীল সমাজ সবাই জড়িয়ে পড়ছে। অবশ্যই এর পরিনাম খারাপ।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া নিয়ে দক্ষিণ ভারতের মানুষের কোন খ্যামটা নিত্য দেখিনি। যেমন দেখেছি বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের। বাংলাদেশের ৭০% মানুষই কোলকাতাকে পুরনাজ্ঞ ভারত ভেবে ভুল করে। তারা ভারতের সব কিছু বিচার করে পশ্চিম বঙ্গের উপরে বিচার করে। এটাই হল সমশ্যার মূল বিন্দু।
মোদী, শচিন, এপিজে র মত অভিভাবক ভারতের আছে। আদের নেই। এই নেই বলেই আমরা বড় উশ্রিংখল। আমাদের বেড়ে ওঠা, আমাদের মানসিক বিকাশ, আমাদের গঠন সব কিছুতেই গলদ। কারন একটাই শচিনের মত সর্বজন গৃহীত অভিভাবক আমাদের নেই। আমাদের দেশে গুনির কদর হয়না। হয়না বলে অনেক অনেক গুন নিয়ে জন্মেও জাফর ইকবাল, মুহাম্মাদ ইউনুস, আনু মুহাম্মাদ রা আমাদের অভিভাবক হয়ে উঠতে পারেন না।
সাইবার ৭১ নামের একটা হ্যাকার গ্রুপের কাজ হল ভারতের সাইট হ্যাক করা। আমি অবশ্য পৃথিবীর এই একমাত্র ক্রাইমকে সমর্থন করি। কিন্তু ক্রাইমের তো একটা সীমা থাকবে। এরা যে উস্রিংখলতায় মেতেছে সেটা যথেষ্ট নিন্দার দাবিদার। ভারতীয় ক্রিকেটারদের নাম্বার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নাম্বার বাব্লিক করে দেওয়া। সেগুলোতে ফোন দিয়ে গালাগালি করতে সবাইকে উতবুদ্ধ করা এটা কি জাতীয় সংগ্রাম? এগুলো করে কি লাভ হচ্ছে? এর জন্য তো বাংলাদেশের সুনামই খুন্ন হচ্ছে সেটা এদের বোঝাবে কে? কারন আমাদের তো কোন অবিভাবক নেই।
খুব বেশি দিন আর নাই, যখন পুরো বিশ্ব এক সাথে বাংলাদেশকে বয়কর্ট করবে। কারন বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকে। আমরা সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছি বার বার।
মুসলমানদের উশ্রিংখলতাকে আমরা বলে থাকি মৌলবাদ। কিন্তু বাঙ্গালী উশ্রিংখলতা, বাঙ্গালী মৌলবাদ নিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যাথা নেই।
এসকল নোংরামি দেখেও কেন সবাই মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে বুঝি না............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






