somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহররম মাসের কিছু কুসংস্কার, আসুন কুসংস্কার দুরিভুত করি

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


→ আসলে কি এই মাসে মাছ ও শাক খাওয়া যায় না? সেমাই খাইলে কি অপরাধী হয়ে যাবো?).....
→ এই মাসে কি বিয়ে শাদী করা যাবে না?

ইসলামিক নববর্ষ মহররম এর আগমন হয়েছে আজ। আমাদের সমাজে মহররম মাস আসলে বিভিন্ন কুসংস্কার চোখে পড়ে যেটার সাথে ইসলামিক শরিয়তের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নয়। যেমন আমাদের বিভিন্ন শহরে প্রায় দেখা যায় যে, মহররম আসলে একটি অংশ মাছ আর শাক খাওয়া বন্ধ করে দেয়। অথচ এর কারন কি, কেন খাচ্ছে না প্রশ্ন করলে কোন সদুত্তর তো পাওয়া যায় না হ্যা একটা কথা অবশ্যই শুনা যায় যে বাপ দাদা খায় নি তাই আমরাও খায়না।
এটা নিগাঢ় একটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। কারন ইসলামি শরিয়তে কোথায় লেখা নাই যে মাছ বা শাক কোন বিশেষ মাসে খাওয়া হারাম। যখন আল্লাহ ও রাসুল এবং পরবর্তী সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, ইমাম, কেউ এই ফতোয়া প্রদান করেন নি যে মহররম মাসে মাছ ও শাক খাওয়া যাবে না তাহলে আজকে এরা কারা যারা শান্তির ধর্মে এই নতুন বিধানের আমদানী করলো..??
পূর্ববর্তী জামানার কথা না হয় বাদ দিলাম, আজকের যুগে আপনারি পাড়ার কোন ইমাম,মুফতী,পীর মাশায়েক থেকে কি এমন কোন বক্তব্য শুনেছেন যে এই মাসে মাছ ও শাক খাওয়া হারাম? না কখনই না।
তাই এই মাসে শাক ও মাছ খাওয়া যাবে না, এটা হারাম ইত্যাদি যে সম্পুর্ন মনগড়া বানোয়াট কথা তাতে কোন সন্ধেহ নেয়। চিন্তা করার বিষয় যে হালাল খাবারকে আমার আল্লাহ রাসুল হালাল করেছেন আজ অজ্ঞতার স্বরুপ কিছু মানুষ তা হারাম বলে জনসাধারনকে আরো অজ্ঞতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মহরর মাস বলেন কিংবা ১২ মাস বলেন সব মাসেই মাছ ও শাক খাওয়া যাবে যেটা ইসলামিক শরিয়ত থেকে প্রমানীত।
ঠিক এমনি ভাবে আরো একটি কথা শুনা যায় যে, এই মাসে সেমাই খাওয়া যাবে না, কেন ভাই? ১১ মাস খাওয়া যাবে এই মাসে খাওয়া যাবে না কেন? অজ্ঞতাবাসীর কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যায় যে সেমাই যেহেতু একটি আনন্দ আর খুশির সমর্থক শব্দ আমরা ঈদ এর আনন্দের সময় এটা খেয়ে থাকি আর মহররম মাসে ইসলামের জন্য শহীদ হয়েছেন ইমাম হোসেন তাই এই মাসে আমরা খশির সমর্থক সেমাই কিভাবে ভক্ষন করতে পারি। যদি সত্যি এমন জজবা হয় তাহলে অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু এটাকে যদি শরিয়ত মনে করেন যে খাওয়া যাবেই না তাহলে আমি বলবো এটা শরিয়তের উপর অজ্ঞতার হস্তক্ষেপ। কারন এই মাসে অনেকে বিরিয়ানী খেতে পারেন, তাহলে সেমাই এর বেলায় আপত্তি কেন?
আসলে এটাও একটি বাড়াবাড়ী ছাড়া আর কিছু নয়, অবশ্যই যেকোন মাসে যেকোন হালাল খাবার আপনি খেতে পারেন আর অবশ্যই সেমাই যে হারাম খাবারের মধ্যে পড়ে না তা নির্বোধদের জানা দরকার।
*
মহররম মাসে আরো একটি বানোয়াট কথা প্রচারিত হয় যে, এই মাসে নাকি বিয়ে শাদী করা যাবে না। করলে সেই শাদী শুদ্ধ হবে না, তাই ইমাম হোসেনকে অপমান করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আপনি যদি নুরনবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস, শরিয়তের দিকে তাকান তাহলে দেখা যাবে আমার নবী বলছেন “যারা বিয়ে করলো তারা অর্ধেক দ্বীন পূরন করলো” বিয়ে হলো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। অথচ এরা নির্বোধরা কারা যারা দ্বীন পূরনে বাধা দিচ্ছে, এই মাসে বিয়ে শাদী করা হারাম বলছে, আছে কি এমন কোন বিধান, কোন মসজিদের ইমাম বলেছেন যে এই মাসে বিয়ে শাদী করা যাবে না? না কোন মসজিদের ইমাম থেকে এমন কথা শুনা যায় নি তাহলে এরা কারা যারা দ্বীনের বিধানে হস্তক্ষেপ করছে? বলতে শুনা যায় যে এই মাসে শোকের মাস তাই এই মাসে শাদী করে কোন সূত্রে আনন্দ উদযাপন করবো। অবশ্যই এটা আপনার জজবা আর ইসলাম জজবা দিয়ে নয় নবীর দেওয়া শরিয়ত মোতাবেক চলে আর এমন কোন বিধান কোন মাজহাবের ইমামো এমনকি আজ পর্যন্ত কোন মোহাদ্দেস দিয়ে যান নি যে এই মাসে বিয়ে করা যাবে না। তাই এটাও একটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়, যেকোন মাসে বিয়ে শাদী করা যাবে।
*
তবে এটাও বাস্তব যে এই কুসংস্কারকে পুজি করে উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ীরা আরো বেশি বাড়াবাড়ী করতে গিয়ে হালাল খাবারকে এই মাসে হারাম বলে ফেলেন নিজের ইলম এর ঘাটতির কারনে যেমন মলিদা, শরবত, খিচুরি ইত্যাদি(আগে বলে রাখি এইসব বস্তুকে কেউ বাপজনমেও হারাম প্রমান করতে পারবে না, এটা আমার চ্যালেঞ্জ রইলো) তারাও নির্বোধের চেয়ে কম না। তাই Next part- 2 তে তুলে ধরবো এই কুসংস্কারের সুযোগে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী আবার আরো বেশি বাড়াবাড়ী করতে গিয়ে হালাল বস্তুকে হারাম বলছেন যেমন মালিদা,খিচড়া,ফাতেহা ইত্যাদি হালাল খাবার যেটা হারাম বলার কোন সুযোগ নেয় কিন্তু অনেকে আবার উপরিউল্লেখিত কুসংস্কারকে ঢাল করে এসবকেউ হারাম বলে কথিত ফতোয়া দিয়ে থাকেন। পরবর্তী পার্টে তাদের মুখোশ উম্মোচন করবো ইনশাআল্লাহ)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:১০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×