somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন টপ লিডার ছিলেন এবং হিন্দু মুসলমান ঐক্যের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন নেতা ছিলেন। কিন্তু তিনি দেখলেন কংগ্রেসের ভেতরে যেই উগ্রবাদী হিন্দু নেতারা আছে তারা মুসলমানদের নূন্যতম অধিকার দিতে চায় না। অনেক বোঝাপড়া করে বুঝলেন যে আসলে কংগ্রেস কোনদিন ভারতের মুসলমানদেরকে সমান অধিকার দেবে না। সে কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত আলাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রের পথে গেলেন। কিন্তু সেইদিন পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তানে যোগ দিয়েছে। বাংলার মানুষ পাকিস্তানে যোগ দিয়েছে এবং শেখ মজিবর সহ বাংলার সব টপ লিডাররা এই জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলন করেছে।

কিন্তু ভারতের একটা রাজ্য পাকিস্তানে যোগ দেয়নি। সেই রাজ্যটার নাম হলো হায়দ্রাবাদ। হায়দ্রাবাদ ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য ছিল। হায়দ্রাবাদের যে রাজা ছিল তার নাম ছিল নিজাম। মীর উসমান আলী। এই মীর ওসমান আলী চিন্তা করল আমি ভারতেও যাব না আমি পাকিস্তানেও যাব না আমার দেশ আলাদা একটি রাষ্ট্র থাকবে এবং তার যে রাষ্ট্র হায়দ্রাবাদ সেটা ছোট রাষ্ট্র ছিল না অনেক বড় বাংলাদেশের চেয়ে বড় ছিল ২ লক্ষ ১৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার একটা দেশ এবং ১৭২৪ সালে মোগল সাম্রাজ্যের একটা প্রদেশ হিসেবে স্বাধীনভাবে শাসন করা শুরু হয় এই হায়দ্রাবাদ ভারতের বহু প্রাচীন একটা রাজ্য এবং অত্যন্ত ধনী হায়দ্রাবাদের নিজস্ব ইউনিভার্সিটি ছিল, কল কারখানা ছিল, নিজস্ব জাতীয় সংসদ ছিল, মুদ্রা ছিল, নিজস্ব এয়ারলাইন্স ছিল এবং এই মীর উসমান আলী ১৯৩৭ সালে সারা বিশ্বের এক নাম্বার ধনী হিসেবে টাইম ম্যাগাজিনে উনার নাম এসেছিল। এইরকম একটা ধনী দেশ এবং এই সুন্দর রাজপ্রাসাদে তারা থাকতেন। এই দেশটি জিন্নাহর কথা শুনলো না। জিন্নাহ তাদেরকে বুঝালো তারা যেন পাকিস্তানের অংশ হয়। কিন্তু তারা মনে করেছিল তারা একা থাকলেও কোন সমস্যা হবে না। সে একটা ভুলের কারণে এই রাজ্যটা ভারতের পেটে চলে যায়। যেইদিন ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবরণ করেন। তার মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এই হায়দ্রাবাদকে দখল করে নেয় ভারত। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে। ১৩ই সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদে মিলিটারি অপারেশন শুরু করে ভারত এবং সেই মিলিটারি অপারেশনে চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলা হয় হায়দ্রাবাদকে। অপারেশন পোলো নামে একটা সামরিক অপারেশন চালানো হয়। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে এই রাজ্যটিকে দখল করে। কিভাবে এত বড় রাজ্যকে মাত্র পাঁচ দিনে দখল করল? মানুষও কম নয়? ১ কোটি ৬৫ লক্ষ মানুষের দেশ। এখানে হয়েছে অনেক বড় একটা গাদ্দারী বিশ্বাসঘাতকতা।

।।সেনাবাহিনীর প্রধান ইদ্রিস।।

সেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এই হায়দ্রাবাদের দুটি অংশ। একটা অংশ হল হায়দ্রাবাদের সেনাবাহিনীর প্রধান ইদ্রিস। হায়দ্রাবাদের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ছিল এই ইদ্রিস সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি মুভ করেনি। ঠিক পলাশীর প্রান্তরের মত। ঠিক মীরজাফরের মত তিনি তার সেনাবাহিনীকে ফুললি মোবিলাইজ করেনি। ভারত ৩৫০০০ সৈন্য নিয়ে এসেছিল হামলা করতে অন্যদিকে প্রায় ২২০০০ সৈন্য ছিল হায়দাবাদের। সৈন্য কিছু কম থাকলেও তারা একটা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী তৈরি করেছিল দেশকে রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে যারা কাজ করবে তারা। সেই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে সদস্য ছিল ২ লক্ষ যার নাম ছিল রাজাকার বাহিনী। রাজাকার শব্দ পাকিস্তানের আবিষ্কৃত নয় এই রাজাকার বাহিনী প্রথম তৈরি হয় হায়দ্রাবাদে।

হায়দ্রাবাদের সেই স্বেচ্ছাসেবী রাজাকারদের দলে হায়দ্রাবাদের ছোট শিশুরা কিশোররা পর্যন্ত যোগ দিয়েছিল তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল মাতৃভূমিকে রক্ষা করা। মূল বাহিনীকে হেল্প করা। এখন হায়দ্রাবাদের দখল করার জন্য ভারত দুইটা কৌশল নেয়। এক নাম্বার কৌশল হায়দ্রাবাদের ভেতরে একদল দালাল এই গণেশদের মত দালালদেরকে তৈরি করে। হায়দ্রাবাদের ভেতরে থাকা হিন্দুদেরকে নানাভাবে উস্কানি দেয়। বাংলাদেশের চিন্ময় প্রভুদের মত তারা হিন্দু নির্যাতনের কাল্পনিক গালগল্প শুরু করে। যেই হায়দ্রাবাদ ১৭২৪ সাল থেকে হিন্দু মুসলমান কোন দাঙ্গা হয়নি। শান্তিতে সবাই বসবাস করতো। সেই হায়দ্রাবাদে কাল্পনিক গল্প শুরু হয়।

।।বল্লভ ভাই প্যাটেল।।

বল্লভ ভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে অপারেশন পোলো নামে পলাশীর যুদ্ধের মত একটা নাটক হয় এবং সেই যুদ্ধে মাত্র ১০ জন ইন্ডিয়ান সৈন্য নিহত হয় ৮০০ হায়দ্রাবাদের সৈন্য নিহত হয় এটা হলো যুদ্ধ একটা খন্ড যুদ্ধ কিন্তু আসল গণহত্যাটা শুরু হয় যুদ্ধটা শেষ হওয়ার পর পাঁচ দিনের মাথায় হায়দ্রাবাদের নিজাম রেডিওতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন। তিনি রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রক্তপাত এড়ানো যায়নি। এখানে স্পেনের মত এপ্রিল ফুলের মত একটা ঘটনা ঘটেছে। সকল মানুষদেরকে যার যার বাড়িতে থাকার কথা বলা হয় এবং সকল মানুষদেরকে অস্ত্র ত্যাগ করার কথা বলা হয়। চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে ইন্ডিয়ান আর্মি হায়দ্রাবাদে প্রবেশ করে এবং সবাইকে নিরস্ত্র করার কথা বলে। শুধুমাত্র মুসলমানদের ঘর থেকে সকল অস্ত্র কেড়ে নেয়া হয়। হিন্দুদের হাতে অস্ত্র ছিল এবং সাধারণ হিন্দুরা নয় হিন্দু প্যারা মিলিটারি বাহিনী ঢুকে ঠিক বজরং দল এবং শিবসেনাদের মত উগ্রবাদী হিন্দুরা ঢুকে হায়দ্রাবাদে।

তারপর কি হয়েছিল?
হায়দ্রাবাদের গ্রামগুলোতে যেয়ে যেয়ে পুরুষদেরকে ধরে ধরে ব্রাশফায়ার করে লাইন ধরে দাঁড়ায়। ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। অনেকের গলা আলাদা করে ফেলা হয় এবং তাদের লাশগুলোকে বিভিন্ন কুয়ার মধ্যে ফালানো হয়।

তারপর কি হয়?
শিশুদেরকে ছেড়ে দিয়েছিল নারীদেরকে ট্রাক ভর্তি করে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় কেউ জানে না। কোনদিন আর ফিরে আসেনি।

কবি আব্দুল হাই শিকদার বিএনপিপন্থী একজন বুদ্ধিজীবী। তিনি লন্ডনে হায়দ্রাবাদের একজন নাগরিকের সাথে দেখা করেছিলেন। যিনি ১৯৪৮ সালে যুবক ছিলেন। যুদ্ধে গিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন যে আমি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত অবস্থায় নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পাই। সুস্থ হওয়ার পর আমি আমার গ্রামে ফিরে গিয়েছিলাম। আমার পুরো গ্রাম তছনছ আগুনে পোড়া। কাউকে আমি খুঁজে পাইনি। আমার স্ত্রী জেবুন্নেসাকে খুঁজে পাইনি। আমার মা-বাবাকে খুঁজে পায়নি। আমার ভাইকে খুঁজে পায়নি। আমার হিন্দু প্রতিবেশীরা বলেছে যে এখান থেকে মেয়েদেরকে ট্রাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। আর পুরুষদেরকে সবাইকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি অনেক জায়গায় আমার স্ত্রীকে খুঁজেছি। পতিতালয়, হাসপাতাল, জেলখানা কোন জায়গা বাদ দেয়নি। আমার জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছে জেবুন্নেসা। এইভাবে হায়দ্রাবাদের সম্ভ্রান্ত মুসলিম নারীদের ধর্ষণের উৎসব চালিয়েছিল হিন্দুত্ববাদীরা। হায়দ্রাবাদের মুসলমানদের সকল সম্পদ লুট করা হয় সোনার দেশ হায়দ্রাবাদ হীরার দেশ হায়দ্রাবাদকে অঙ্গারে পরিণত করে এই হিন্দুত্ববাদীরা আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের হায়দ্রাবাদের ইতিহাস পড়া উচিত।

হায়দ্রাবাদ শেষ প্রধানমন্ত্রী লায়েক আলী তিনি লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটা বই লিখেছিলেন ট্র্যাজেডি অফ হায়দ্রাবাদ। বাংলাদেশে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন বইটা অনুবাদ করেছে। আপনারা এই বইটা পড়তে পারেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার আরিফুল হক হায়দ্রাবাদ ট্র্যাজেডি নিয়ে একটা বই লিখেছে পড়তে পারেন। এই আব্দুল হাই শিকদার হায়দ্রাবাদের একজন ব্যক্তি কুতুবউদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিয়ে হায়দ্রাবাদের উপর একটা বই লিখেছে। পড়তে পারেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের হায়দ্রাবাদের ইতিহাস পড়া উচিত। বোঝা উচিত যে ভারত বাংলাদেশকে কি করতে চায়? কি করতে পারে? যদি সেইদিন বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ না হতো ভারত এভাবে বাংলাদেশকে গিলে খেত কাশ্মীরের মত পরিণতি হতো আমাদের আজকে।

ডক্টর ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর ভারতের মিডিয়া যেভাবে বাংলাদেশে কাল্পনিক হিন্দু নির্যাতনের গল্প কিচ্ছা বানাতো ময়ূখ রঞ্জনরা ঠিক সেভাবে রিপাবলিক বাংলা কাঁপাতো ঠিক একই কৌশল ভারত সেইদিন নিয়েছিলো এবং হিন্দু মহাসভা আরএসএস এই মোদির দল এরা বিভিন্ন গেরুয়া পোশাকের হিন্দু নেতাদেরকে বিভিন্ন গ্রামে পাঠিয়েছে তখনকার মত এত ভিসা পাসপোর্টের প্রয়োজন ছিল না এই হিন্দুরা বিভিন্ন গ্রামে যেয়ে হিন্দু যুবকদেরকে একত্রিত করে এবং হিন্দুদেরকে জঙ্গি ট্রেনিং দেয়। প্যারামিলিটারি বাহিনী করে। আজকে বিজেপি যে কাজ করছে সেইদিন তারা এই কাজগুলোই করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ শুরু হয়। বেশ কিছু জায়গায় দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করে এবং এগুলোকে ব্যাপকভাবে ভারতীয় মিডিয়া প্রচার করে যে হায়দ্রাবাদের হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার। মিলিয়ে দেখুন ১০০ তে ১০০ মিলে কিনা বাংলাদেশের সাথে?

আজকে বাংলাদেশে মুসলমানরা হিন্দুরা যে শান্তিতে আছে এত শান্তিতে হিন্দুরা ভারতেও নেই ভারতে নিম্নবর্ণের হিন্দুদেকে অনেক নির্যাতন করে কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে কত মায়া কান্না! কিছুদিন আগে রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে হত্যাকারী দুইজন হিন্দু এটাকে নিয়েও বৈশাখী রায় চৈতালী রায়রা কত নাটক সিনেমা করছে।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিল সেই বটবৃক্ষ যার ভয়ে কাঁপতো নেহরু, বল্লভ ভাই প্যাটেল এবং মহাত্মা গান্ধীরা। জিন্নাহ বেঁচে থাকতে হায়দ্রাবাদের দিকে হাত দেয়ার সুযোগ পায়নি। যদিও হায়দ্রাবাদ পাকিস্তানের অংশ ছিল না। কিন্তু জিন্নার মৃত্যুর সাথে সাথেই হায়দ্রাবাদের উপর হিংস্র শুকরের মত হামলে পড়ে এই ভারতীয় সৈন্যরা। সেইদিন হায়দ্রাবাদের আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিল যেই ব্যক্তিটি তার নাম বল্লভ ভাই প্যাটেল। ভারতের কংগ্রেসের নেতা চরম কট্টরপন্থী হিন্দু নেতা। এই বল্লভ ভাই প্যাটেল ভারতের স্বাধীন রাজ্যগুলোকে দখল করে এবং অপারেশন পলুর নামে এই অভিযানে ৪ হাজার হায়দ্রাবাদের মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এটা হলো অফিশিয়াল রেকর্ড। আনঅফিশিয়ালি প্রায় ২ লক্ষ হায়দ্রাবাদের মুসলমানকে হত্যা করা হয়।

নরেন্দ্র মোদির অমর কীর্তি এই হায়দ্রাবাদের খুনি বল্লভ ভাই প্যাটেলের নামে গুজরাটে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মূর্তি তৈরি করা। স্ট্যাচু অফ লিবার্টির চেয়েও বড় যেই মূর্তিটি রয়েছে এই মূর্তিটি বল্লভ ভাই প্যাটেলের।

।।মূর্তিটি বল্লভ ভাই প্যাটেলের।।

অনেকেরই ইতিহাস নিয়ে যাদের নূন্যতম কোন পড়াশোনা নেই তারাও গণেশদের সাথে নাচছে। গণেশরা বিএনপির হাই কমান্ড থেকে নির্দেশ নিয়ে ডাকসুতে বিরোধিতা করতে আসেনি। গণেশদের নির্দেশ এসেছে ইন্ডিয়ান হাই কমিশন থেকে। গণেশদের ফোন চেক করলে দেখা যাবে তাদের কানেকশন দিল্লি পর্যন্ত।

যারা নূন্যতম রাজনীতি জানে তারা সহ চরমোনায়, জামাত, হেফাজত, এনসিপি এমনকি বিএনপির মধ্যে যারা ইতিহাস সচেতন সবাই বলছে যে জিন্নাহ হল ৪৭ এর মহানায়ক জিন্নাহ সেদিন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ করেছিল দেখে আজকে আমরা স্বাধীন ভূমি পেয়েছি নতুবা আমরা আজকে ভারতের একটা কাশ্মীরের মত প্রদেশ থাকতাম প্রতিদিন কাশ্মিরের মতো আমাদেরকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হতো আমাদেরকে পায়ের তলায় পিশত ভারতের হিন্দুত্ববাদী।

আন্দালুসিয়ার মুসলমানদেরকে খ্রিস্টানরা জোর করে খ্রিস্টান বানিয়েছিল যাদের নাম দিয়েছিল মরিস্কো যাদের অনেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভুলেই গিয়েছে তারা মুসলমান ছিল কিন্তু তারা যখন কোন ভাবে একবার জানতে পারে যে তারা মুসলমান ছিল। তারা যখন আন্দালুসির ইতিহাস দেখে আন্দালুসিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দেশ ছিল। সভ্যতা ছিল। করডোবা গ্রানাডা সেবিল এগুলো বিশ্বের সেরা শহর ছিল। তখন তারা তাদের পূর্বপুরুষের শিখর খুঁজে পায়। ঠিক আপনি যেদিন সারা বছর আওয়ামী লীগ এবং ভারতের বয়ান শুনে যারা জিন্নাহকে ভিলেন মনে করেছিলেন জিন্নাহকে বাংলাদেশের শত্রু মনে করেছেন একটু পড়াশোনা করে দেখুন। জিন্নাহ ৪০ এর দশকে ৫০ এর দশকে কি ভূমিকা রেখেছে ভারতের মুসলমানদের জন্য সেদিন আপনার মনটা শ্রদ্ধায় নুয়ে আসবে এই কোট টাই পড়া ব্যক্তিটির প্রতি। তিনি কোন আলেম ছিলেন না তিনি কোন ইসলামী পন্ডিত ছিলেন না তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষিত ব্যারিস্টার কিন্তু জীবনের শেষ দিনটি তিনি ভারতবর্ষের মুসলমানদেরকে নিরাপদ একটা রাষ্ট্র দেয়ার জন্য কাজ করে গিয়েছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×