-এ কোথায় আনলে ড্রাইভার?কথা নেই বার্তা নেই,এ কোথায় নিয়ে এলে তুমি?
-চিনতে পারছেননা? এতো আপনার স্কুলের রাস্তা। রোজ এই পথ পাড়ি দিয়ে যেতেন ইস্কুলে। ম্যাডাম চিনিয়ে গেছেন কাল। বলেছেন,রোজ আপনাকে এই পথ দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে।
-তাই বুঝি! এই বুঝি সেই পুরোনো রাস্তাটা? কিন্তু রাস্তা কেন? রাস্তা ছিলো নাতো! এইখানে তো ছিলো জমির আইল।তাইতো বেয়ে হেঁটে যেতাম রোজ। ঐ ওখানে পুকুর ছিলো এক। তারই পাশে ধানের খেত ছিলো। ধানের খেতে হাল চালিয়ে রোজ ছেলের দল লাফিয়ে পড়তো জলে। পুকুর ছেড়ে উঠলে পরে ঘাটে,সুঠাম দেহ ঝিলিক কাটতো রোদে।
কিছুই তো নেই তার। কোথায় গেলো সব?
-ওই পুকুর ভরাট হয়ে বহুজাতিক বহুতল রিসোর্ট হয়েছে। তার মধ্যে চৌকো সুইমিং পুল। পুলের পাশে জিমনেশিয়াম আছে। রোজ সেখানে ঘাম ঝরাচ্ছে লোকে। জিমনেশিয়াম ফেলেই একটু দূরে-সুদৃশ্য ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁ। নামীদামী বিদেশী সব খাবার। ঘাম ঝরিয়ে পায় যদিরে খিদে,সেখান থেকে খেয়েও নেয়া যায়।
-সে তো নাহয় বুঝলাম ড্রাইভার। খুব হয়েছে উন্নত সবকিছু।কিন্তু ঐযে ঝাঁপানো ছেলের দল। কিনাম যেনো ওদের? ভুলেও গেছি।
-ওদের নামতো আর জানেনা কেউ।সবাই ডাকে এক্সকিউজ মি বলে। ওরা এইযে বিরাট রিসোর্টখানার ব্রান্ডের রেস্তোরাঁর ওয়েটার।
-বলছো কিসব? কেমনে হলো এসব? ওরা তো বেশ স্বচ্ছলই ছিলো।ধানের খেতে ধান হতো মাঠ ভরে। তাই দিয়ে তো বেশ যেতো দিন চলে।সবটা কেমন বদলে গেলো দেখো!কোনকিছুই একই নেই আর। বদলে গেছে সব।
-আপনিও তো জমির আইল ছেড়ে,এসির মোড়া গাড়ির ভেতর বসে, ওদের জীবন মাপছেন একা বসে। বলেন তো স্যার,আপনি কি এক আছেন?
-এই ড্রাইভার শোনো।
-জ্বী স্যার?
-তুমি বড্ড বেশি বাজে বকো। বকার জন্যে মাইনে পাচ্ছো নাকি? আর কখনো এতো বাজে বকবেনা। গাড়ী চালাবার চাকরি-তাই চালাও
-জ্বী স্যার
-এই ড্রাইভার,বসে আছো কেন? ভাগাও ভাগাও,জলদি গাড়ি ভাগাও।সারাটাদিন এখানে থাকবে নাকি? অকারণে এত্তো সময় নষ্ট! আর কখনো এই পথে আসবেনা!
- জ্বী স্যার
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৫ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




