কীর্তিনাশা এবং গঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত ছোট গ্রামের নাম চৌসা। রাতের অন্ধকারে এই জায়গাতে অবস্থানকালেই সম্রাট হুমায়ূনের ঘুমন্ত মোঘল বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শের খাঁ। অতর্কিত আক্রমণে মোঘল বাহিনীর পতন ঘটে। বাধ্য হয়ে সম্রাট হুমায়ূনকে কীর্তিনাশা নদীতে ঝাঁপ দিতে হলো। নদীর প্রবল স্রোতে হুমায়ূন ভেসে যেতে লাগলেন!
দুজন মোঘলকে বন্দী করেছে শের শাহ্’র বাহিনী। তাদেরকে ঘিরে রাখা হয়েছে, শের শাহ্’র বাহিনীর কাছে খবর আছে এই দু’জনের মধ্যে একজন হল দুর্ধর্ষ মোঘল সেনাপতি বৈরাম খাঁ। বৈরাম খাঁকে হত্যা করে তার কাটা মাথা শের শাহ্ কে দেখাতে হবে
::তোমাদের মধ্যে বৈরাম খাঁ কে?
দু'জনই জবাব দিল, আমিই বৈরাম খাঁ!
দু'জনের মধ্যে একজন বৈরাম খাঁ। অন্যজন সম্রাট হুমায়ূনের আরেক সেনাপতি আবুল কাশেম খাঁ।
::তোমাদের মধ্যে একজন মিথ্যা বলছ। কে সে?
দু'জনই আঙুল তুলে একে অন্যকে দেখালেন!
বৈরাম খাঁ বৈশিষ্ট্যহীন চেহারার ছোটখাটো মানুষ। মুখের চামড়া কুঁচকানো, মাথার চুলও খাবলা খাবলা করে উঠে গেছে।
অন্যদিকে কাশেম খাঁ স্বাস্থ্য সৌন্দর্য্যে ঝলমল অসম্ভব রূপবান একজন মানুষ।
কাশেম খাঁ'র মাথায় একটাই চিন্তা- বৈরাম খাঁকে যে কোনভাবেই রক্ষা করতে হবে। অসহায় সম্রাট হুমায়ূনের এই মুহূর্তে বৈরাম খাঁকে দরকার, আবুল কাশেম খাঁকে না পেলেও সম্রাটের চলবে।
কাশেম খাঁ তখন বুদ্ধিমানের মতো একটি কাজ করলেন। তিনি শের শাহ্'র সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে চিনতে পারছো না? তোমরা চেহারা দেখেও বুঝতে পারছো না কে বৈরাম খাঁ? বৈরাম খাঁকে দেখিয়ে তিনি বললেন, মুনিবের জীবন রক্ষা করার জন্য আমার এই উজবুক নফরটা বৈরাম খাঁ সেজেছে। তার কত বড় স্পর্ধা! আমিই আসল বৈরাম খাঁ!
কাশেম খাঁ'র কথাকে শের শাহ্'র সৈন্যদের যুক্তিযুক্ত মনে হল। সঙ্গে সঙ্গেই তারা কাশেম খাঁকে হত্যা করে তার কাটা মুণ্ডু নিয়ে উল্লাস ধ্বনি করতে করতে শের শাহ্'র তাঁবুর দিকে চলে গেল। আসল বৈরাম খাঁ'র দিকে কেউ ফিরেও তাকালো না।
ইতিহাস কাউকে কাউকে মনে রাখে আবার কাউকে রাখে না। বৈরাম খাঁ'র বীরত্বগাঁথা ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছে। কিন্তু কাশেম খাঁকে ইতিহাস মনে রাখেনি।
[পুনশ্চ: নিজেকে দিল্লীর সম্রাট ঘোষণা করার পর শের খাঁ শাহ্ উপাধি গ্রহণ করে শের শাহ্ হয়ে যান।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
