somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পলায়নরত

১৬ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সকালে যখন পালাচ্ছিলাম তখন সূর্য তার ঘর থেকে বেরোয়নী, আমি আবছা তারার আলোয় মোবাইলের টর্চ টা চট করে জ্বাললাম, দুরে কুকুরের ডাক, একটা দুটো কুড়াল পাখিও ডাকছিলো, মানুষের বাড়ির ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাক ডাকার আওয়াজ,ফ্যানের ঘটাংঘট বা বাচ্চার কান্না না চাইলেও শুনতে হচ্ছিলো! আমি শুধু পালাচ্ছিলাম! স্বভাবে অস্থির কিন্তু প্রত্যয়ে স্থির এই দুই বিপরীত ধর্মী স্বভাবে আমি নিজে নিজেই টানাহেচড়ায় পড়ে যাই! যখন যে যেতে তার সাথেই চলে যাই, আজ পালানোর কথাটা একটু অন্যরকম, আমাকে আসলে সাপে কামড়েছে! না না বাস্তব সাপ না স্বপ্নের সাপ, কাল রাত্তির বেলা মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো, আমি ছাড়া ঘরের আর কেউ জানেনা মায়ের পায়ে গরম তেল পড়ে একটু পুড়ে গেছে, বাবা মা কে চুলোর ধারে যেতে বরাবরই নারাজ, যোগ্যউত্তরসুরীর অভাবে মা রিটায়ার করতে পারছেন না, সে যাই হোক, বাবা জানেনা মায়ের পা এর খবর।আমি কাল সারাদিন রাত গৃহী মানুষ, কোথাও ইচ্ছে করেই যাইনি, ঘরের ওষুধ পত্র খাইয়ে মলম দিয়ে রেখে দিছি, ভাবছিলাম সন্ধ্যায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো বেড়াতে যাবার ছলে পরে আলসেমী করে গেলাম না, মা একটু পর পর উঠছিলো আমার ঘুমের বারোটা বাজছিলো, আমি কাল রাতে সুইটড্রিমস টনিকটা ঠিক মতো খাইনি, ঘুম এলো শেষ রাতে এই মগজে স্টিম রোলার চালু, আমার বাম হাতে কোনো পোড়া দাগনেই, আমার চামড়ায় কোনো দাগ সাধারনত বেশী দিন থাকে না তাই বাম হাতের পচঁনের দাগ গুলোও মিলিয়ে গেছে, সেই পচনের দাগটা উপরের কালো চামড়ার সমেত আবার দেখলাম, তারপর দুর থেকে একটা সোনালীর মতো কালো বক্স বক্স ডিজাইনের সাপ! গেছো সাপ, কে যেনো লাঠি দিয়ে লেজে মারলো সাপটাকে, আমি বিল্ডিং ঘরে জালনা দিয়ে দেখছি,সাপটা উড়ে এসে পা জড়িয়ে ধরলো আমার আমি স্থির হয়ে গেলাম, সে এক অদ্ভুত সময়, নড়লেই সাপ কামড় দেবে স্বপ্নে কে যেনো বলে দিচ্ছিলো, আমি ভয় পাচ্ছিলাম, অস্বস্থি হচ্ছিলো আবার মাথাও ঠান্ডা ছিলো, সাপটা ছেড়ে দেবার পর পায়ে অনেক কাটাকুটির দাগ দেখলাম,দুটো স্পস্ট শদন্ত ফোটানোতে চুইয়ে পড়া রক্ত, আর বিষের প্রভাবে হয়তো হাতের পচুনী থেকে গলগল করে বেরুনো রক্ত! আমার মনে হচ্ছিলো এই আমার পাওনা ছিলো মনে কষ্ট ছিলো না, এমন কি ভয়ও ছিলোনা, ছিলো প্রাপ্তী বুঝে পাবার হতাশা! ভোরে পাল্লাচ্ছি মুখ বাইরের কারো টিউবয়েলে ধুয়ে নেবো, সব আনলেও ওয়ালেট আনতে মনে নাই! আমি দ্বিধা দন্ড নামক রোগে ভুগলেও সেটা অল্প একটু বিশ্লেষনী চিন্তায় কাটিয়ে নিতে পারি! জীবনপাত্রে প্রাপ্তির পাত্র আসার পূর্ন, যা চাইছি সব,মনে থাকে আমার, জীবনের এ বেলায় সবই পেয়েছি আমি এখন কেবল হয়ত মোক্ষ প্রাপ্তির সন্ধানে! আমি বাউন্ডুলে ঘুড়ে বেড়ালেও বরাবরই গৃহী ঘোর সংসারী টাইপের, আমি মুখটা বন্ধ রাখতে বেশী পছন্দ করি, আমার ঘরে সবাই সানাদিন বকবক করে, আমার শুনতে ভালোই লাগে, আমি অধৈর্য হয়ে পড়িনা, তবু আমি পালাচ্ছি, কারন আমার একটা পাপ আছে, আমি পাপ লুকোতে ছুটছি, আমার প্রতি সরল বিশ্বাস আমি ভেঙেছি, খুব শ্রদ্ধেয় কাউকে আশাহত করেছি, আমি নিজের লজ্জা নিজের প্রতি রাগ ক্ষোভ ভয় লুকোতে আমি পালাচ্ছি! আমার ক্ষমতা নেই তার পায়ে ধরে বসে থাকার যেমনটা রেগেমেগে উল্টোপাল্টা বলার পর মায়ের পা ধরে বসে থাকি! সত্যি কথাটা হলো আমি পালাচ্ছি! সূর্যের আগেই পালাচ্ছি! কারো বুকের মাঝে একরাশ সুবাতাস বইয়ে দিতে পালাচ্ছি, দুখী অন্তরে একটু স্বস্থি এনে দেয়া শিখতে পালাচ্ছি, মরে যাওয়া মনটাকে টেনে খুড়ে ছিড়ে শকুনীর দল ঠিক যেখানে ফেলেছিতো আমি ঠিক সেখানে যাবো স্থির করেই বাসা থেকে পালাচ্ছি! সেই আহত প্রজাপতি ফিরিয়ে আনবো বলে বাসা থেকে পালাচ্ছি! কারো মুখে হাসি ফোটাবো বলে আজ পালাচ্ছি,কারো চোখ থেকে ফেনীল দ্বিধা কাটাবো বলে আজ অন্ধকারে পালাচ্ছি, আমার একটা রুপোর কাঠি চাইই চাই তা খুজবো বলে পালাচ্ছি, কারো হাত শক্ত মুঠোয় পুরবো বলে পালাচ্ছি! মোদ্দা কথাটা হলো কারো সঙ্গ সারাজীবন ছাড়বো না বলে নিজেকে শোধরাবো বলে ছুটে বেড়াচ্ছি!আমি জ্যামিতিতে কাচা তবে বৃত্তে কি কি থাকে কেনো থাকে তা বরবরই জানি! আমি আমার কেন্দ্র বিন্দুকে ঘুড়েই আজও ঘুরছি, সারাজীবন ঘুরবো! আমি পালাচ্ছি এক বিপথগামী থেকে পথে আসার জন্য ক্ষমা প্রাপ্তির পথ জানতে পালাচ্ছি!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর অনমনীয়তা, আমিত্ব ও ফিক্সড মাইন্ডসেটের কাছে অসহায় স্বয়ং ঈশ্বরও

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪



নারীর অনমনীয়তা, আমিত্ব বা ফিক্সড মাইন্ডসেট খুবই ভয়ংকর এক জিনিস, যেটার মুখোমুখি হয়ে ব্যর্থ হয়েছিল স্বয়ং মার্ভেল কমিকসের গড-লাইক ক্যারেক্টার 'বিয়ন্ডার'ও। বলছি সেই কাহিনি...

মার্ভেল কমিকসের অন্যতম মোস্ট পাওয়ারফুল ক্যারেক্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×