somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এআর আরিফ রুমি
আমি মানুষ হিসেবে মর্মান্তিক বোকা। বোকা মানুষেরা ভালো হয়। আমিও ভালো। আমি জানি একদিন আমি থাকব না। একজন আরিফ রুমির অনুপস্থিতিতে কারো বিশেষ কিছু যাবে আসবে না। এ শহরে আগের জ্যাম লাগবে, বর্ষায় কদম ফুটবে, লোডশেডিং এর রাতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে- কি অদ্ভুত প্রকৃতি

" মায়ায় বন্দী "

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন আগে গাবতলী বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছি এক লোকের অপেক্ষায়।

হানিফ কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
পিছন থেকে এক লোক কাঁধে হাত দিয়েই বলে উঠলেন আরিফ রুমি ভাই না?
আমি চমকে গিয়ে পিছনে তাকালাম।
এক যুবক, আমার চেয়ে ২ বছরের সিনিয়র হবে।
বড় ভাই বলা যায়।
আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না?
-আমি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড (নামটা মনে পড়ছে না)
অহ আচ্ছা, কেমন আছেন?
কেমন আছেন প্রশ্নটা করতেই তার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।
চোখের কোনে দুই ফোটা জল ও এসে গেছে।
আমি বিভ্রতকর অবস্থায় পড়ে গেলাম।
কেমন আছেন জিজ্ঞেস করাতে কেউ কেঁদে ফেলছে এই অসস্থিকর অবস্থায় এর আগে কখনো পরিনি।
কেউ যদি খারাপ ও থাকে মুখের কোনে একটা হাসি দিয়ে বলবে ভালো আছি ভাই।
এই জন্যে আমি কাউকে হুট করে বলি না কেমন আছেন।
আমি যেটা বলি সেটা হচ্ছে কি অবস্থা।
কেমন আছেন বললে আবার না জানি কি মন খারাপের গল্প শুনিয়ে দেয় এই ভয়ে বলি কি অবস্থা।

আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাই কিছু কি হয়েছে?
আর ব্যাগ ট্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন কোথায়?
এরপর সে যে উত্তর দিয়েছিলো তাতে আমিই কি বলবো, কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
১ ঘন্টা আগে তার বাবা মারা গেছে।
তার বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে রাজবাড়ি তার গ্রামে যাচ্ছে।
গত কাল রাতেও কথা হয়েছে বাবার সাথে।
শেষবার বলেছিলো বাড়িতে আয় এসে ঘুরে যা।

আমি তাকে কিছু বলতেও পারছি না। নিজেকেও ধরে রাখতে পারছিনা।
সে এখন আমার পাশে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ আঙ্গুল নখ চিবাচ্ছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে।
আমি আশে পাশে তাকাচ্ছি কেউ দেখছে নাতো।
পরুষরা পাবলিক প্লেসে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পাড়ে না। গুমরে কাঁদে, কারন পুরুষরা কাঁদে না।
এই ছেলেটার এখন চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পাড়ছে না।

জিজ্ঞেস করলাম বাস কখন?
বললো ২০ মিনিট পড়েই।
আচ্ছা রুমি ভাই যাই শুধু শুধু আপনার মনটা খারাপ করে দিলাম। বেঁচে থাকলে দেখা হবে।

সে একদিকে হাঁটা ধরলো, আমি তার উল্টো দিকে।
আমি যাওয়ার সময় তাকে সাহস করে কিছু বলতে পাড়িনি।
শুধু কাঁধে হাত রেখে চোখ দিয়ে বলে দিলাম শক্ত হন।
এখন ভেঙ্গে পড়লে চলবে না।
এক ছেলে তার পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে, সেই ছেলেকে আমি কি বলে সান্ত্বনা দিবো।
আমি তাকে যদি বলি সব ঠিক হয়ে যাবে।
সেটা হবে মিথ্যা আশ্বাস আর এই মুহূর্তে তাকে এই মিথ্যা আশ্বাসটা দিতে পারছিনা।

আমি তাকে ছেড়ে আসার সময় একবার ও পিছনে তাকাইনি।
সে কাঁদছে, সব কান্না আমার ভালো লাগে না। এই কান্নাটার গভীরতা অনেক।
এটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই।
আমি হাসি খুশি মানুষ, কান্না দেখতে ভালো লাগে না।

মায়া বাড়ে, আর মায়া সব থেকে খারাপ জিনিস।
মায়া কাঁদে এবং কাঁদায়।
আমি আরেকটু হলেই মায়া বন্দী হয়ে যেতাম, তখন হয়তো তার সাথে কেঁদেই দিতাম।
কান্নার জলের প্রতি ফোটায় ফোটায় মায়া থাকে।
এই মায়ায় পড়তে নেই।
মানুষ জন্ম নেবে, মানুষ জন্ম নিয়ে মায়া বাড়াবে তারপর কিছু না বলে হুট করে একদিন মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে চলে যাবে।
প্রকৃতি কি নিষ্ঠুর নিয়ম।
এই নিয়ম আমার মানতে ইচ্ছে করে না।
মানুষ জন্ম নেবে, আনন্দ ফুর্তি করবে, মারা যাবে কোনো মায়া থাকবে না।
- আরিফ রুমি
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×