somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুরাদ দ্য লাইট ইন দা ডার্ক-৩য় পর্ব

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত পর্বের পর থেকে
রেজোবের শেষ নিঃশ্বাসের সাথে সাথে উজিরের বিষ দৃষ্টি ও মায়ের অভিভাবকত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে সত্যিকারের পথ চলা শুরু করে। সুলতান চতুর্থ মুরাদের শাসনকাল প্রশাসনিক অরাজকতা প্রশমিত করে এরপর সুলতান নজর দেন সামরিক বাহিনীর দিকে। এরপর সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে বসফরাসের তীরে সাধারণ সমাবেশের নির্দেশ দেন তিনি।

দিওয়ানদের সঙ্গে উন্মুক্ত মণ্ডপে সভায় বসেন সুলতান। সিংহাসনে আসীন সুলতান, পার্থে বিশ্বস্ত প্রহরীদল, প্রথম সারির বিচারকেরা উচ্চপদস্থ কর্মচারী এ সময় সুলতানের পাশে ছিল,আর দুজন সামরিক নেতা যারা বিদ্রোহের সমর্থন করেছিল এবং প্রধান মুফতি কে নিয়ে শুরু হয় সভা। সিপাহিদের প্রতিনিধিবর্গকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর সামনে উপস্থিত জানিসারিসদের সাথে কথা বলেন সুলতান। কোরআন থেকে উদ্রুতি দিয়ে জানিসারিসদের বিশ্বস্ত ভৃত্য ও
প্রতি দৃড় ভাবে অনুগত হবার কথা উল্লেখ করে সুলতান তাদের নির্দেশ দেন বিদ্রোহের পথ পরিহার করতে। উত্তরে চিৎকার করে নিজেদের বিশ্বস্ততা ঘোষণা করে।হাতে হাতে কোরআন নিয়ে শপথ করে জানিসারিসরা : "আমরা খলিফার অনুগত, আমরা বিদ্রোহীদের সমর্থন করি না,তার শক্র আমাদেরও শত্রু।”
এরপর সিপাহিদের বয়োবৃদ্ধ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে সুলতান বলেন, সিপাহিরা তোমাদেরকে ন্যায়বিচার সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া কঠিন। তোমরা চল্লিশ হাজারের প্রত্যেকেই নিজস্ব অফিস চাও, যেখানে পুরো সাম্রাজ্যে আছে প্রায় পাঁচশোর মতো। তোমাদের চাহিদা সাম্রাজ্য ছাড়িয়ে গেছে, একে শূন্য করে দিয়েছে। বাহিনীর বড়দের বা জ্ঞানীদের কথা না শুনে জনগণকে পীড়ন করো তোমরা। ধর্মীয় ভিত্তি নষ্ট করে অরাজকতা আর বিদ্রোহে নাম লিখিয়েছো এর প্রতিবাদে সিপাহিদের প্রতিনিধিরা বলে ওঠে যে ব্যক্তিগতভাবে তারা সুলতানের প্রতি বিশ্বস্ত থাকলেও বাহিনী সকলকে নিয়ন্ত্রণ করা তাদের ক্ষমতার বাইরে।সুলতান তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে ন্যায়বিচার বিক্রি করে সাম্রাজ্যের প্রজাদের পীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। উত্তরে সিপাহিরা কর সংগ্রহে ভায়োলেন্সের উল্লেখ করে। এশিয়া থেকে আগত এক বিচারক এ পর্যায়ে নিজের তরবারি বের করে অগ্নিদৃষ্টি হেনে সুলতানকে বলে “আমার সুলতান,এসব পীড়নের বিরুদ্ধে একমাত্র ঔষুধ হল তরবারি"।এবার একটা আইন জারি হয়, যেখানে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সকলে স্বাক্ষর করে।এভাবে মুরাদের নিজস্ব দৃড় শাসনামল সামরিক অরাজকতার অবসান ঘটায়। এরপর মুরাদের নির্দেশে সুদক্ষ গোয়েন্দা ও সৈন্যরা সারা ইস্তাম্বুল চষে ফেলে।

যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে দুশমনিতে লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করে, তাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড, শূলিবিদ্ধ করে হত্যা কিংবা হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা অথবা নির্বাসিত করা (কারাগারে নিক্ষেপ করা)। এ তো হল তাদের পার্থিব অপমান। আর পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (মায়েদা ৬ : ৩৩)''।তাই আইন জারি করা হয় বিদ্রোহীরা ধরা পড়লে সেখানেই আইন কার্যকর করা হবে। নেতাদের ঘটনাস্থলেই তরবারি বা ধনুকের ছিলা দিয়ে হত্যা করে বসফরাসে ফেলে দেয় লাশ।এত দ্রুত যেন তা হয়ে যায় যাতে জনসমাগম না হয়।প্রদেশসমূহ জুড়েও একই ভাবে এই আইন কার্যকর করা হয়। নেতাদের হারিয়ে নিচুপ হয়ে যায় বিদ্রোহীরা।তিনি নিজে দিনে রাতে, ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন সৈন্যদের মাঝে।বেআইনি সমাবেশ ভেঙে দিয়ে তার পুলিশি নীতিকে অগ্রাহ্যকারীকে নিজ হাতে শাস্তি দিতেন।আল্লাহ মদ হারাম করেছেন তাই পরবর্তীতে সাম্রাজ্যের সব ক্যাফে আর ওয়াইনের দোকানও বন্ধ করে দেন সুলতান।এতে আরেক টা কাজ হয় যে , জনগণ একত্রিত হতে বা বিদ্রোহের বীজ না ছড়াতে পারত না। এছাড়া টোবাক্যোকেও বেআইনি ঘোষণা করেন। যদি এমন কাউকে পাওয়া যেত যে রাতের বেলা ওয়াইনসহ ধরা পড়ছে তাহলে তাকে তৎক্ষণাৎ ফাঁসি দেয়া হতো আর মৃতদেহ রাস্তায় ছুড়ে যাতে তাদের দেখে বাকিরা শিক্ষা নেই।
চলবে
উল্লেখ্য ওমর ফারুক রাঃ এর মতো খলিফা মুরাদ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শরিয়া আইন কার্বযকর করেছেন বলে ইউরোপীয়ানরা তাকে নিষ্ঠুর বলেছেন!ভাববার বিষয়!

আগের পর্বঃ
২য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:২৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×