somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাবি - জাবি দ্বন্দ : নিজস্ব বিশ্লেষণ

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ব্যাপারটা গুরুতর হয়ে দেখা দিয়েছে , কি এবং কোন কারণে এই দ্বন্দ এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকলেও আন্দাজ করা যায় এই সমস্যা নিরসনে কারো কোনো উদ্যোগ নেই । ঢাকা আর জাহাঙ্গীরনগর এর মধ্যে এই সমস্যা আজকের না , আমরা যখন শিক্ষার্থী ছিলাম তখন থেকেই দেখছি , কিছুটা সমস্যা আছে , শুরুতে এই সমস্যা ছিল মনস্তাত্ত্বিক , পরবর্তীতে এই সমস্যা একদম সাংঘর্ষিক অবস্থায় গিয়ে পৌঁছিয়েছে। সমস্যার কারণ প্রধানত ইগো কেন্দ্রিক , একথা অস্বীকারের কোনো কারণ নেই যে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আমাদের স্বাধীনতা , স্বাধিকার ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল , অবশ্যই ঢাবি মর্যাদার দাবিদার। ঠিক তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের সমান বয়সী ও বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নানান ক্ষেত্রে তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে , অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সংস্কৃতি চর্চার মুক্তভূমি হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলাদা সুনাম রয়েছে , সাম্প্রতিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি আরো ব্যাপক হয়েছে বিভিন্ন যুগোপযোগী বিভাগ খোলার মাধ্যমে , দুটি ইউনিভার্সিটিই তাদের নিজ নিজ জায়গায় জনপ্রিয় , কিন্তু সংঘর্ষের মূল কারণ কোথায় ??

সংঘর্ষের মূল কারণ মূলত আর কিছুই নয় , তা হচ্ছে স্রেফ ইগো কেন্দ্রিক , আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন দেখেছিলাম , ঢাবি শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফুটবল খেলতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিল , ঢাবির কয়েকজন ছাত্রকে জাবির ছাত্ররা মারধর করে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলো , এর জের ধরে ঢাবি ছাত্ররা জাহাঙ্গীরনগর এর বাস কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলতে দেয়নি , ঠিক তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ রুটের বাস কে জাবি ছাত্ররা আরিচা জাবি ক্যাম্পাস এর উপর দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলতে দিতোনা। আগে বেশিরভাগ সমস্যা ছিল মূলত খেলাকেন্দ্রিক , কিন্তু এখন ভয়াবহ যেইদিক তা দেখা যাচ্ছে তাহলো , দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকদল ছাত্র কতৃক একজন আরেকজনকে ফাঁসানো , এমনকি মাদক সংক্রান্ত ব্যাপারগুলোও ঘটছে। দেশের উচ্চশিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের স্বার্থেই এই সমস্যার সমাধান দরকার , আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনই আশ্চর্যজনক ভাবে নীরব এই ক্ষেত্রে !!!

বাংলাদেশের মত এতো বেশি বিভক্ত সমাজ আর কোথাও নেই , এই বিভক্তি ব্যাক্তি , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , অফিস থেকে শুরু করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে , মানুষ দিন দিন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠছে। একজন আরেকজনকে অপদস্থ করার জন্য মুখিয়ে আছে এমনকি তা নিজের ক্ষতি করে হলেও । ঢাবি আর জাবির এই সমস্যা নিরসনে যদি উদ্যোগ নেয়া না হয় , তাহলে ভবিষ্যতে বড় আকারের সমস্যা সৃষ্টি হবে , আর তার ব্যাপ্তি ক্যাম্পাস ছড়িয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের মধ্যে ছড়াতে শুরু করবে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত , ইতিমধ্যেই ঠান্ডা আকারে সমস্যা ছড়াতে শুরু করেছে যা কিনা আমরা এই বিদেশে বসেও উপলব্ধি করতে পারি ( আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাবি আর জাবির গ্রাজুয়েট যারা এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য এসেছে তাদের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে ) । কয়েকদিন আগে আমাদের এখানে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ঢাকার বাহিরের এক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক (সে নিজেও ঢাবি গ্রাজুয়েট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বর্তমান গবেষণা ও ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং এ নাম না থাকায় কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন , এর জেরে ঢাবি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা তাকে যারপরনাই অপমান করেছিল। বিদ্বেষ কখনো ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসে না , দুই ইউনিভার্সিটি কিন্তু একজায়গায় ঠিক , সেটা হচ্ছে ওয়ার্ল্ড রেঙ্কিং এ দুই ইউনিভার্সিটিই হাজারের ধরে কাছেও নেই ।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরোবার পর আমি কয়েকটি নামকরা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কিছুকাল চাকরিরত ছিলাম , স্বাভাবিক অর্থেই সেখানে আমার প্রচুর কলিগ হয়েছিল যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা , আমার সাথেই সবার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল , কাছ থেকে দেখেছিলাম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্রাজুয়েটরা সুযোগ পেলেই কিভাবে প্রাইভেট থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের অপদস্থ করতো , এর কারণে প্রাইভেট এর পাশ করা শিক্ষার্থীরা সবসময় দেখতাম মনমরা হয়ে থাকতো কিংবা কাজে মনযোগ দিতে পারতো না , অনেকে টিকতে না পেরে আবার চাকরি ছেড়ে দিতো , সেখানেও এই দ্বন্দ্ব ছাপিয়ে দেখতাম ঢাবি আর জাবি গ্রুপিং ।

উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রতিযোগিতা চলে কে কত ভালো গবেষণা করতে পারে , কাদের পাবলিকেশন এর পরিমান কত বেশি , উদাহরণস্বরূপ বলা যায় এমআইটি ও হার্ভার্ড এর মধ্যে কে কত ভালো লেভেলের গবেষণা করতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয় , এখন এটা এমআইটি , হার্ভার্ড ও ডিউক এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে তাদের পাবলিকেশন্সের মান ও সংখ্যা নিয়ে , আর আমরা কি করছি !!!!
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নিরপেক্ষভাবে কিছু বলতে চাই ( আমি নিজেই এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন ও একটির গ্রাজুয়েট তাই নিরপেক্ষতার খাতিরেই কোন বিশ্ববিদ্যালয় তা প্রকাশ করছিনা ) । ঢাবি ছাত্রদের উদ্দেশে বলতে চাই , দেশে এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় , সব জায়গা থেকেই মোটামুটি চলনসই গ্রাজুয়েটরাই বের হচ্ছে , তাদের সবাইকে গ্রহণ করার মনমানসিকতা থাকতে হবে , জাবি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , এখানকার গ্রাজুয়েটরা দেশ ও বিদেশে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে , এই অহেতুক ইগো পরিহার করে সহমর্মিতার অবস্থানে থাকতে হবে , কর্মক্ষেত্রে যদি এই মানসিকতা বজায় থাকে তাহলে একসময় একঘরে হয়ে যেতে হবে যা ক্যরিয়ার এর জন্য মোটেও ভালো নয় , সবসময় ঐতিহ্যের দোহাই মানুষকে অতীতমুখী করে ফেলে।

আর জাবি ছাত্রদের বলছি , তাদেরকেও যখন তখন এই মারধর বা হামলার আগ্রাসী মনোভাব বদলাতে হবে , ক্যাম্পাস রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি সেখানে সবার প্রবেশাধিকার আছে , কাউকে হয়রানি করলে স্রেফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন হয় , ক্যাম্পাসকে নিজের সম্পত্তি ভাবা বাদ দিতে হবে , সুন্দর ক্যাম্পাস দেখে অনেকেই বেড়াতে যায় সেখানে , তাই বলে হয়রানি করতে হবে এ কেমন কথা ! এটা নিচু মনমানসিকতার প্রতীক ! জাবি কতৃপক্ষকে সেখানে আগত অথিতিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে , প্রশাসন এর কোনো ব্যাক্তি যদি কোনো নিরপরাধ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে ফাঁসানোর কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে ।

আর সেই সাথে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভদ্র দৃষ্টিতে দেখতে হবে , বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা প্রসারে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না , মনে রাখতে হবে প্রতিযোগিতা হবে গবেষণার ও শিক্ষার মান নিশ্চয়তার , ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা কেবল দুর্বৃত্তায়িত ও অলস মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ।

নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখাটি লেখার চেষ্টা করেছি , ব্লগে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় , এবং দেশ বিদেশের আরো বিভিন্ন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা অনেকেই আছেন , তারা আরো ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৮
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাজে যোগদান ভুল হচ্ছে, ইউরোপ আমেরিকায় শীপমেন্ট বন্ধ থাকার কথা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:১৭



গত ৪০ বছরে, গার্মেন্টস'এর মালিকরা ও অন্যান্য মধ্যভোগীরা যেই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে, তাতে তাদের কর্মচারীদের বিনা কাজে ২/১ বছর মিনিমাম বেতন দেয়ার ক্ষমতা তারা রাখে। গার্মেন্টস'এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কেলা?

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮




মানুষ মারার সব আছে, আহত অথবা অসুস্থ মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার কিচ্ছু নেই। কেন জানেন? আঁতেলরা বলেন, মানুষ মানুষকে মারতে পারে, মানুষ মানুষকে বাঁচাতে পারে ন। জন্ম মৃত্যু মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

— করোনার সাথে পথে চলতে চলতে———

লিখেছেন ওমেরা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



সারা পৃথিবী লক-ডাউন হয়ে আছে কভিড- ১৯ করোনা আতংকে। মানুষের প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে ভয় আর উৎকন্ঠায়। এই মূহুর্তে সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ব্যাতিক্রম দেশ,সেই দেশের বাসিন্দা আমি, নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

থটস

লিখেছেন জেন রসি, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৬





১৮৪৬ সালে মার্কস এবং এঙ্গেলস মিলে “The German Ideology” নামে একটা বইয়ের পান্ডুলিপি লিখেছিলেন। কিন্তু বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। এই বইতে তারা শুধু ভাববাদকেই না ফয়েরবাখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কমপক্ষে গার্মেন্টস'এর ছুটিটা নিজ হাতে কন্ট্রোল করতে পারতো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫২



শেখ সাহেব জানতেন যে, উনার মেয়ে বুদ্ধিমতি নন, সেজন্য মেয়েকে রাজনীতিতে আসতে দেননি; কিন্তু রাইফেল জিয়া শেখ হাসিনার জন্য পথ রচনা করে গেছে। কমবুদ্ধিমানরা অনেক সময় খুবই নিবেদিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×