somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাহমিদ রহমান
একজন অলস মানুষ; ভালোবাসি স্বপ্ন দেখতে, চিন্তা করতে, আর কবিতা লিখতে।পেশায় চিকিৎসক, তবে স্বপ্ন দেখি সাহিত্যের সাথে নিবিড় সখ্য গড়বার।ছাত্রজীবনে জড়িত ছিলাম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে, ভবিষ্যতে কাজ করতে চাই কন্যাশিশু নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে।

জলরেখার নীচে

১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর নয়।

কখনও মনে হয়,
স্থিরতা বলে কিছু নেই।
যে এগোয় না,
সে অদৃশ্য কোনো ঢালের দিকে
নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে শুধু পায়ের পাতা জলে দাঁড়ায়।
তখনো মনে হয় — এ আর এমন কী!
তারপর অতি নিঃশব্দে
জল হাঁটার ভাষা কেড়ে নিতে থাকে—
সে এমন ভদ্র যে,
কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জানে না।


হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছালে
কয়েকজন ফিরে তাকায়।
কেউ ভেবে নেয় এও নিশ্চয়ই একধরনের বিশ্রাম,
কেউ ঠোঁটের কোণে সামান্য বিদ্রূপ রেখে চলে যায়,
কেউ নাম ধরে ডাকে—
যেন নাম উচ্চারণ করলেই
ডুবে যাওয়ার নিয়ম বদলে যেতে পারে।

তারপর জল কোমরের ভাষা শিখে ফেলে।
বুকের ভেতর থেকে একে একে
রঙিন পাখিরা উড়ে যায়।
মানুষ তখনও মানুষই থাকে,
শুধু তার চারপাশে
বাতাসের বদলে শ্যাওলা জন্মাতে থাকে।

এই পৃথিবীর সমস্ত ফুল
একই গন্ধ বহন করে না।
কোনো বিছানায় তারা রাত্রিকে মধুর বানায়,
আর কোনো বিছানায়
পাপড়ির আড়ালে অপেক্ষা করে কাঁটা।

আমি দেখেছি—
একই ঋতু
কারও কপালে আঁকে বিজয়ের রৌদ্রতিলক,
কারও কাঁধে বসায়
মরচে ধরা গোধূলির শেকল।

তবু আমি চিৎকার করি না।
কারণ ডুবে যাওয়ারও একটি শিষ্টাচার আছে—
সে খুব কম শব্দ করে।

শুধু মাঝে মাঝে
মুখে একটি অকারণ হাসি এসে বসে।
যেন ভেতরের ধ্বংসস্তূপে
এখনও কেউ একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার ভান করছে।

শেষ পর্যন্ত মানুষকে
জল নয়,
নিজের নির্মিত আয়নাই গ্রাস করে।

আর আমি,
ক্রমশ হারিয়ে যেতে যেতে
শিখে ফেলি—
অদৃশ্য হওয়াও
এক ধরনের জীবনযাপন।

(জুলাই ২০২৬)

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×