somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আরিফ রুবেল
জীবন বৈচিত্রময়। জীবনের বিচিত্র সব গল্প বলতে পারাটা একটা গুন আর সবার সেই গুনটা থাকে না। গল্প বলার অদ্ভুত গুনটা অর্জনের জন্য সাধনার দরকার। যদিও সবার জীবন সাধনার অনুমতি দেয় না, তবুও সুযোগ পেলেই কেউ কেউ সাধনায় বসে যায়। আমিও সেই সব সাধকদের একজন হতে চাই।

বড় গল্পঃ স্পর্শ

০১ লা এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পটা লেখা শুরু করি ফেব্রুয়ারীর শুরুর দিকে। যেহেতু আমি গল্পকার নই তাই অতটা ভালো হয়েছে সেটা আশা করি না। তবে আপনাদের মতামত আমার লেখার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। গল্পটি এর আগে ৪ পর্বে শেষ করেছিলাম। এবার পুরো লেখাটাই একবারে এক পোস্টে দিলাম। আপনা্দের কেমন লাগলো জানাবেন আশা করি।

এক

-ত্রিলোক সিগারেট দাও দেখি
শাশ্বত বলে ত্রিলোককে। শাশ্বতের সাথে ত্রিলোকের পরিচয় বেশি দিনের না, আগে পরিচয় ছিল। তবে বন্ধুত্বের গভীরতা ছিল না। শাশ্বত হচ্ছে ত্রিলোকের বাল্যকালের বন্ধু সৌগতের ফুফাত ভাই। ওরা তিনজনই এখন সৌগতদের বাসার ব্যাসমেন্টে। রাত তখন তিনটা বাজে। চারিদিক নিস্তব্ধ, ব্যাসমেন্টে আবছা আলো আধারিতে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরী হয়েছে, দূরে ইকবাল মুঠোফোনে কথা বলছে ওর ভালোবাসার মানুষটির সাথে। এদিকে ত্রিলোক, সৌগত, শাশ্বত আর রকিব বসে আড্ডা দিচ্ছে, সিগারেট ফুঁকছে। সৌগতের বড়ভাইয়ের গায়ে হলুদ গেলো আজ। আগামীকাল বিয়ে। তাই সবার মধ্যে একটা প্রেম প্রেম ভাব কাজ করছে। সবাই নিজের ভালোবাসার কথা বলছে। এর ফাঁকে ফাঁকে ত্রিলোকেরও মাথায় নিদ্রার কথা ঘুরছে। শাশ্বত খুব একটা কথা বলছে না তবে মনোযোগ দিয়ে শুনছে। এমনিতে খুব হাসি-খুশী থাকলেও এখন কেমন যেন চুপচাপ।

-এই নাও।
সিগারেটের প্যাকেটটা বাড়িয়ে ধরে ত্রিলোক, সেখান থেকে একটা বের করে ধরাতে ধরাতে বলে,
-একটা ব্যাপার খেয়াল করছ, যেসব প্রেম কাহিনীর এন্ডিং সুখের না, এগুলোই মানুষ মনে রাখে। সেটা ব্যাক্তি জীবনে হোক আর গল্প-উপন্যাস হোক। আর একটা ব্যাপার হল, মধ্যবিত্তের প্রেমে সেক্স ব্যাপারটা আসে কিন্তু এইটা খুব একটা ভাইটাল না। আই মিন সেক্স করতেই হবে এমন কথা না। জীবনে যাকে দেখে নাই, স্পর্শ করে নাই তাকেও পাগলের মত ভালোবাসা যায়।

মনে মনে হাসে ত্রিলোক, ভাবে নিজের মত আরেকটা পাগল পাওয়া গেছে বোধ হয়। কথায় সায় দিয়ে বলে,

-কথা ঠিক তবে আজকের সময়ে কতটুকু সত্য তা তো বলতে পারি না। আজকে তো চারিদিকে সেক্স নির্ভরতা, সেক্স না করলে নাকি প্রেমই হল না। আমি বুঝি না ফিজিক্যাল রিলেশনকে আজকালকার পোলাপান এত গুরুত্ব দেয় কেন?

-এটা ভুল বললা, সবাই কিন্তু তা ভাবে না। তোমার আমার মত মানুষ কিন্তু একবারে কম না। আর যারা সেক্সটারেই সব কিছু মনে করে ওইগুলা তো সাইকো।সারাদিন কম্পিউটারে পর্ণো দেখে আর ফেসবুক ব্লগে লুলামি কইরা বেড়ায়, বাস্তবে গিয়া রেপ করে, এইগুলা তো পশু, এইগুলা বাদ। কিন্তু যদি সাধারণ মানুষদের গোনায় ধরো অনেকেই দেখবা সেই বাল্যকালের প্রেম বা ক্ষনিকের দেখায় ভালো লেগে যাওয়া থেকে যে প্রেম সেটাতেই বা ফোনে অপরিচিত নম্বরে কল চলে যাওয়ায় পাওয়া কোনো বিপরীত লিঙ্গের কন্ঠস্বর শুনে পাগল হয়ে তার প্রেমে পড়ে যায়, হয়ত তারা জানে যে তাদের মধ্যে কখনোই মিলন হবে না তারপরও তারা অপেক্ষায় থাকে একে অপরের ভালোবাসার, স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার।


একটা সিগারেট ধরায় ত্রিলোক, শাশ্বতের কথার জবাবে কিছু বলতে যাবে তখনই এসে হাজির হয় ইকবাল। মুখ চোখ শক্ত, এসেই বলে,
-কারো মোবাইলে চার্জ আছে??? আমারটায় চার্জ শেষ, কিন্তু এখনো ঝগরা শেষ হয় নাই, আজকে একটা হেস্তনেস্ত হইতেই হবে, আছে কারো কাছে মোবাইল???

সবাই একে অপরের দিকে তাকায়, কারণ কারো কাছেই মোবাইল নেই সবাই উপরে মোবাইল রেখে এসেছে, কারো মোবাইলেই তেমন চার্জ নেই। আর আগামীকাল চার্জ দেয়ার সময় পাওয়া যাবে না।

-কিরে কথা কস না কেন তোরা,
রাগে ফোস ফোস করতে করতে বলে ইকবাল
-নাই কারো কাছে?
সবাই একসাথে বলে “না”

কি আর করা মন খারাপ করে বসে পড়ে ইকবাল, বসেই বলে
-কি নিয়ে আলাপ হচ্ছিল?

-প্রেম নিয়ে, বলে ত্রিলোক।
-কে বলতেছে? তুই না নিশ্চয়ই, তোর বোরিং কাহিনী শোনার ইচ্ছা কারো আছে বইলা তো মনে হয় না

মেজাজ খারাপ হলেও কিছু বলে না ত্রিলোক বরং এটাকেই সুযোগ হিসেবে নেয়। বলে,
-আরে আমি না শাশ্বত বলছিল, এখনো শুরু হয়নি, আমরা ভূমিকায় ছিলাম, তোর মোবাইলের চার্জ একেবারে ঠিক সময়েই গেছে। আয় বোস ওখানে।

এরপর শাশ্বতের দিকে ঘুরে বলে,
ভাই প্রেমের ব্যাপারে তোমার মতামত তো শুনলাম এবার পুরো গল্পটাই শোনা যাক।

-আমাকে আবার এর মধ্যে টানা হচ্ছে কেন? এরকম তো কথা ছিল না, ত্রিলোক তুমি তো লোক ভালো না, আমাকে ফাঁসায়ে দিচ্ছো।

-ফাঁসায়ে যখন দিছিই বলেই ফেল না

-আরে নাহ! খুবই বোরিং এবং লম্বা কাহিনী, তোমরা বোরড হবা।

-সমস্যা নাই এখন মাত্র চারটা বাজে, তোমার বলতে নিশ্চয়ই দুই ঘন্টা লাগবে না

-তারপরও…………

-পালানোর চেষ্টা করে লাভ কি বল? না বলতে চাইলে বলার দরকার নেই তবে আমাদের বিশেষ করে আমার শুনতে খুব ইচ্ছে করছে আর আমার মনে হয় বাকীদেরও একই অবস্থা। এখানে যারা আছে আমরা আমাদের গল্পগুলো মোটামুটি সবাই জানি কিন্তু তোমার গল্পটা কেউই জানি না”
আচ্ছা ঠিক আছে তবে তোমাদের একটু সময় নিয়ে শুনতে হবে, অনেকদিনের গল্প তো, প্রায় ছ’বছরের। আমি চেষ্টা করব ছোট খাট বিষয়গুলো বাদ দিতে তারপরও মনে হচ্ছে সময় লাগবে। একটু কষ্ট করে শুনতে হবে।

-আরে সমস্যা নাই ত্রিলোকের ১১ বছরের প্রেমের ইতিহাস শুইনা ফেললাম তোমারটা তো তার আধা। তুমি শুরু কর, বলে ইকবাল।

একটা সিগারেট ধরিয়ে হালকা একটা টান দিয়ে বলতে শুরু করে শাশ্বত ……………


দুই


গল্পের শুরুটা হয় ২০০৫ সালে তখন ডিজুস সিম এসেছে মাত্র। মাত্র আড়াই টাকায় সারারাত কথা বলার সুযোগ। রীতিমত প্রেমাসক্ত করে ফেলে সবাইকে। সবাই রাতভর কথা বলে পুরো দেশটাই যেন প্রেমের বাতাস বইতে শুরু করে। চিঠি দিয়ে ভালোবাসা বা টিএনটিতে ফোন দিয়ে জ্বালানো তো বাদ হয়ে যায় মোবাইল আসার পর এবার ওগুলো জাদুঘরে চলে যায়। আমি তখন কলেজে পড়ি সেকেন্ড ইয়ার উঠলাম। রাজশাহীতে থাকি এমনিতেই এসএসসিতে আশানুরুপ ফল না হওয়ায় এক রকম চাপের মধ্যে ছিলাম পারিবারিকভাবে। তাই এসব ব্যাপারে আমার তেমন আগ্রহ ছিল না। হঠাৎ যে মেসে থাকি সেই মেসের আমার সবচেয়ে কাছের ভাইয়াটাকে দেখলাম রাতে দেরী করে ঘুমাচ্ছে, রীতিমত প্রেম করছে এবং শেষমেষ ডেটিং এও যাচ্ছে সেখান থেকে ভাবীর হাতের রান্না করা গরুর মাংস নিয়ে এসে আমাদেরকে খাওয়াচ্ছে!!! এভাবেও প্রেম সম্ভব এটা ভাবতে একটু কষ্ট হয়। আমি ভাবতাম এগুলো উভয়পক্ষই টাইম পাস করার জন্য করে। কিন্তু সেই ভাইয়াকে দেখে মোটামুটি ভরসা পেলাম। আর এদিকে ফার্ষ্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা ভালো হওয়ায় একটু অন্যদিকেও মন দেয়ার ইচ্ছা হচ্ছিল। তো একদিন সাহস করে ওই ভাইয়াকে বলেই ফেললাম আমার ইচ্ছার কথা, ভাইয়া হেসে বলল,
-আর কদিন আগে বললে হত রে আমি তো তোর ভাবীর সাথে হয়ে যাবার পর আমার কাছে যত নম্বর ছিল সব ডিলিট করে দিয়েছি স্যরি।

-প্রেম হয়ে গেলেই নম্বর ডিলিট করে দিতে হবে??? কোথাও লিখে ডিলিট করতে পারলে না

-আরে যা যাবার তাতো গেছে দাড়া দেখি আমি কোথাও থেকে যোগার করে দিচ্ছি, কান্নাকাটি করিস না।

রাতের বেলা ভাইয়া হাজির, একটু পরে আমার কাছে এসে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলেন। আমি কাগজটা খুলেই দেখি কতগুলো নম্বর, গুনে দেখি ২৫টা। আমার খুশী আর দেখে কে !!!!

রাত ১২টার পর কাগজটা নিয়ে বসলাম, আমি তখন ০১৭১ ব্যাবহার করতাম। তো ভাইয়ের কাছ থেকে একটা ০১৭৭ নিয়ে নিয়েছি, রাতেই টাকা ভরেছি। রীতিমত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি নিয়ে সবাই যে যার মত ব্যাস্ত হওয়ার পরে আমি এক ফাঁকে বারান্দার এক চিপায় গিয়ে নম্বর টিপতে শুরু করলাম ব্যাস্ত.........আরেকটা টিপলাম ব্যাস্ত এভাবে করে একে এক ২৪টা নম্বর টেপা শেষ হল ততক্ষনে প্রায় সব নম্বর বন্ধ আর নয় তো ব্যাস্ত। কাগজে আর একটা নম্বর বাকী, এদিকে বাজেও প্রায় সাড়ে ১২টা। আল্লাহর নাম নিতে নিতে শেষ নম্বরটা টিপলাম। বুকের ধুকপুক বেড়ে গেল যখন রিং হল, কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় ধরল না। ডিসপ্লেতে তাকিয়ে দেখি ওয়েটিং। যাই হোক থাকুক ওয়েটিং আমি ট্রাই করতে থাকলাম। হয়ত অন্য কোনো অবস্থায় হলে করতাম না। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল আমার ট্রাই করা উচিত হয়ত গায়েবী কোনো ব্যাপার বা টেলিপ্যাথিক কিছু একটা।

এখানে বলে রাখা দরকার আমি বা আমার পরিবার আর দশটা সাধারন বাঙ্গালী পরিবারের মত ধর্মভীরু। অলৌকিক বিষয়গুলোতে আমরা বরাবরই বিশ্বাস রাখি। এটা বলার কারণ হচ্ছে আজকে যখন প্রায় ছ'বছর পরে ওইদিনের কথা ভাবি তখন পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে ওরকমই লাগে। যাই হোক আমি তো রিং করেই যাচ্ছি প্রায় ৪৭ বার রিং করার পরে ওপাশ থকে ফোন ধরে বলল,

-হ্যালো কে বলেছেন? আমি কি আপনাকে চিনি? যদি না চিনে থাকি প্লিজ আমাকে বিরক্ত করবেন না, আমি একটু ব্যাস্ত আছি। আপনি পরে ফোন করুন।

আমি আর তখন কথা বলব কি!!! ওরকম একটা কন্ঠ শুনে আমি তো তখনই শেষ !!!

ওপাশ থেকে ভেসে আসে কন্ঠ,
- হ্যালো, আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন, হ্যালো !!!”

আমি কোনোরকম বললাম, “জ্বী শুনতে পাচ্ছি”

-তাহলে কথা বলছিলেন না কেন?

-না মানে আপনি তো আমাকে চিনবেন না, তবে আপনার সাথে বন্ধুত্ব করার ইচ্ছে থেকেই আপনাকে কল করা। তবে অবশ্যই যদি আপনার তাতে আপত্তি না থাকে।

ওপাশ থেকে কিছুক্ষনের নিস্তব্ধতার পরে উত্তর আসে “ আচ্ছা ঠিক আছে আমরা বন্ধুত্ব করতে পারি তবে এখন আমি একটু ব্যাস্ত, আমি একটু পরে আপনাকে কল দিচ্ছি।"

আমি পরে আর ফোন নাও করতে পারে এই ভয়ে বললাম, “না ঠিক আছে, আমি হোল্ড করছি আপনার ব্যাস্ততা শেষ হলে আমার সাথে কথা বলবেন”

-আমার তো দেরী হতে পারে, আপনি কি ততক্ষন অপেক্ষা করবেন?

-আমার সমস্যা নেই, আমি আপনার জন্যে অপেক্ষা করব।

মনে মনে বললাম এই কন্ঠের জন্যে আমি আজীবন অপেক্ষা করতে রাজী আছি। যদিও জানি না এই ভাবনাই পরে আমার জন্যে ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে।

প্রায় পৌনে এক ঘন্টা পরে ওপাশ থেকে তার কন্ঠ ভেসে এল,

-একি আপনি এখনো হোল্ড করে আছেন?

-আমি তো বলেছিলাম আপনার জন্যে অপেক্ষা করব।

-তাই বলে এতক্ষন!!!

-হুমম

-তা কি করা হয় আপনার?

-আমি ইন্টার ফার্ষ্ট ইয়ার শেষ করলাম, এখন সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস করছি। রাজশাহীতে থাকি, আপনি?

-তাহলে তো আপনি আমার চাইতে দু’বছরের ছোট হবেন। আমি ইন্টার শেষ করে বাসায় বসে আছি, বাসা থেকে বিয়ের কথা চলছে। যদিও তাদের আনা পাত্র আমার পছন্দ না, ইন ফ্যাক্ট আমার বয় ফ্রেন্ড আছে। ওর সাথেই এতক্ষন কথা বলছিলাম। কিংবা বলা যায় ঝগরা করছিলাম।

কথাগুলো শুনে মন ভেঙ্গে গেল।কথা চালানোর জন্যে বললাম,

-কি করে আপনার বয় ফ্রেন্ড?

-পড়াশুনা করে আমাদের এখানে সিলেটে, ও আপনাকে তো বলা হয়নি আমি সিলেটে থাকি। আর রাজনীতির সাথে একটু আধটু যুক্ত।

-ও, আপনি যেহেতু আমার বড় আপনি কিন্তু আমাকে তুমি করে বলতে পারেন।

-আচ্ছা ঠিক আছে তুমি করেই বলব, আজ তো অনেক রাত হয়ে গেছে আজ তাহলে রাখি।

-আমারও কেন যেন আর কথা বলতে ইচ্ছে হল না, বললাম “ঠিক আছে আপু, পরে কথা হবে

-বন্ধু হতে চাও আবার আপু ডাকো, সেটি হবে না। তুমিও আমাকে তুমি করে বলবে। আর আমার নাম নীলাঞ্জনা বন্ধুরা আমাকে নীলা বলে ডাকে। তুমিও আমাকে নীলা বলে ডাকবে

-আচ্ছা ঠিক আছে আমার নাম শাশ্বত, আজকে তাহলে রাখি.........

এরপর অনেকদিন কেটে যায়। আমাদের রাতে কথা হয়, আমরা বন্ধুদের মতই কথা বলি। আমার ক্লাসে কি হল বা ও আজকে কি নতুন রান্না শিখল কিংবা ওর কোন বান্ধবীর সাথে ঝগরা হল। আস্তে আস্তে ওর আর ওর বয়ফ্রেন্ডের সমস্যা নিয়েও আমার সাথে কথা হল। আমি হয়ে উঠলাম ওর বিভিন্ন সমস্যার সমাধানদাতা। যদিও আমি ওর প্রতি এক ধরণের আকর্ষন অনুভব করতাম তবুও কখনোই ওকে বুঝতে দেইনি সেটা।
এর মধ্যে আমার একটা গানের অনুষ্ঠান হয়ে গেল বৈশাখী টিভিতে। প্রথম বারের মত টিভিতে গান গাচ্ছি, মোটামুটি আমার চেনা জানা সবাইকে বলি। নীলাকেও। সেই প্রথম আমাকে টিভিতে দেখে। আমার গানের প্রশংসা করে। এর কয়েকদিন পরে আমি টেষ্ট পরীক্ষা দেয়া শেষ সে আমাকে হঠাৎ রাত তিনটার দিকে কল দেয়। সাধারণত ওই সময়ে কল দেয় না। আমি ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে ওর নম্বর স্ক্রীনে দেখে কিছুটা অবাক হয়েই রিসিভ করলাম।
ওপাশ থেকে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে
-কোনো কথা বলবা না, আমি এখন তোমাকে কিছু কথা বলব, চুপ করে শুনবা, তারপর ভেবে চিন্তে যা বলার তাই বলবা”

-কি আবোল তাবোল বলছ? সকালে কথা বলি?

-না, যা বলব এখনই বলব।

-আচ্ছা ঠিক আছে বল।

-আগে বিছানা থেকে ওঠ, বারান্দায় যাও। তারপর বলব।

-বল, আমি বারান্দায়।

-আমি না তোমাকে একটা মিথ্যা কথা বলেছি। বল তুমি আমাকে মাফ করে দেবে। আর আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করবে না, প্লিইইইইজ।"

আগামাথা কিছুই বুঝলাম না বললাম "আচ্ছা ঠিকাছে।"

-আমি তোমাকে বলছিলাম না আমি তোমার চেয়ে দুই বছরের বড়, আমি না তোমাকে মিথ্যা বলছিলাম। আমি ভাবছিলাম তুমি ওই ফালতু ছেলেগুলার মত। মেয়েদের নম্বর নিয়ে বিরক্ত করে বেড়ায়। কিন্তু যতই কথা বলতে লাগলাম ততই মনে হতে লাগল যে তুমি খুব নিষ্পাপ একজন যার দ্বারা কোন ক্ষতি তো হবেই না, বরং যতটা তোমার পক্ষে সম্ভব আমার জন্যে তুমি করবে। অনেকদিন চেষ্টা করেছি তোমাকে সত্য বলার কিন্তু বলতে পারিনি। আসলে আমি তোমাকে হারাতে চাইনি। কিন্তু যেদিন তোমাকে টিভিতে দেখলাম বিশ্বাস করো তোমার নিষ্পাপ মুখটা দেখে শুধুই কেঁদেছি। তোমাকে ব্লাফ দেয়াটা আমার ঠিক হয়নি। তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

“হ্যা শুনতে পাচ্ছি” নিজের কন্ঠ শুনে নিজেই অবাক হলাম মনে হল যেন আমি কাঁদছি।

তুমি কি কাঁদছ? প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। আমি আর কখনো তোমার সাথে মিথ্যা বলব না। বিশ্বাস করো............

-বিশ্বাস করলাম, এখন ঘুমুতে যাও, সকালে কথা হবে।

-তুমি কি রাগ করে ফোনটা রেখে দিচ্ছো?

"না, রাগ করে কেটে দিচ্ছি না। কালকে কথা হবে” ফোনটা কেটে দিলাম আমি।

মনের মধ্যে তখন অনেক প্রশ্ন, নীলা কি ফাজলামো করল? নাকি সত্যিই বলল? যদি সত্যিই হয় তাহলে এর মানে কি দাঁড়ায়, ও কি আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে? না তা হবে কেন? ওর তো বয়ফ্রেন্ড আছে, সম্রাট। নাকি বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারটাও মিথ্যা ছিল? এরকম হাজারো প্রশ্ন নিয়ে আমি ঘুমুতে গেলাম।

তিন

এরপরে ওর সাথে আমার কথা হয়, স্বাভাবিক কথাই হয়। আমিও আগের কথা তুলিনি ও হয়তো এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। খেয়াল করলাম আগে যেভাবে সম্রাট (ওর কথিত প্রেমিক) এর কথা বলত এখন আর তেমন বলে না। আমি ভাবতাম ভালোই তো। আমাদের মাঝের কথাগুলো তখন দৈনন্দিন জীবনের আটপৌরে গল্প ছাড়িয়ে ভালো লাগা, ভালোবাসা........... জোৎস্না, রাত, মেঘ-বৃষ্টিতে গিয়ে ঠেকত। কখনো কখনো রাত পার হয়ে যেত গল্পে গল্পে।
ওদিকে আমাদের দু’জনেরই এইচএসসি পরীক্ষা চলে এসেছে। ও ফোন করে কি পড়লাম, কি খেলাম, কোচিং ঠিকমত করছি কিনা তাও জিজ্ঞেস করত। খুব ভালো লাগত, ফিল করতাম যে কেউ একজন আছে যে আমার জন্যে চিন্তা করছে। হয়ত এর নাম ভালোবাসা না, তারপরও ............


এরকম একদিন বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি হলে সবার মনই খারাপ থাকে একটু আধটু,সবাই অন্তত একটু উদাস হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারগুলো একটু বেশী ঘটে। ওইদিন আমার মন কেন যেন খুব খারাপ লাগছিল। খুব অস্থির লাগছিল ভেতর ভেতর। কি যেন একটা করতে ইচ্ছে হচ্ছিল। এমন সময় নীলার ফোন এল, ধরতেই বলল,

তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হচ্ছে?
বললাম, হ্যা, খুব বৃষ্টি হচ্ছে?

একটু ছাদে যাবে............

কেন???

প্লিজ যাও না............
আমি দৌড়ে ছাদে গেলাম, বললাম,
এসেছি এবার মোবাইলটা রেখে আমার সাথে এসো, দু’জনে বৃষ্টিতে ভিজব।

আমিও না কোনো কিছু না বলেই ওর কথা মত বৃষ্টিতে ভিজতে চলে গেলাম। আর অনুভব করলাম আমার মধ্যে যে অস্থিরতাটা ছিল সেটা আর নেই। এক ধরনের সুখানুভুতিতে ছেঁয়ে গেছে চারপাশ। অনুভব করলাম আমি আসলে এই নীলাঞ্জনা নামের মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
দৌড়ে গিয়ে মোবাইলটা নিলাম রিং করলাম ধরতেই বললাম,

"মোবাইলটা নিয়ে বৃষ্টিতে যাও,"

জিজ্ঞেস করল, "কেন?"

আহা যাওই না............"

হুম এসেছি।"

"নীলা, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, অনেকদিন বলার চেষ্টা করেছি। সেই শুরু থেকেই তোমার কন্ঠ শোনার পর থেকেই তোমার কন্ঠ না শুনলে আমার ঘুম আসেনা। একদিন কথা না বললে কাজ করতে পারি। সারাদিন খারাপ যায়। যখন প্রচন্ড মন খারাপ থাকে তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে। আমি জানি না আমার প্রতি তোমার অনুভূতি কি? তুমি আমাকে ভালোবাস কি না, তাতে আমার কিছু যা আসে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি ব্যাস। হ্যালো তুমি কি শুনতেছ? হ্যালো ............" এক শ্বাসে বলে ফেললাম কথাগুলো।

ওপাশ থেকে সম্পূর্ণ নীরবতা, শুধু বৃষ্টির আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই নেই।
অনেকক্ষন দু’পাশ চুপচাপ থাকার পর যখন আমার অবস্থা প্রায় শেষ, ঠিক তখন ওপাশ থেকে কান্নাজড়িত একটা কন্ঠে ভেসে আসে,

“ আমিও তোমাকে ভালোবাসি”

বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তাকিয়ে দেখি বৃষ্টির পানিতে ভিজে আমার সেট অফ।


চার


আমাদের ভালোবাসাটা পুরোপুরি মোবাইল ফোন নির্ভর ছিল। ও আমাকে একবার টিভিতে দেখলেও আমি কিন্তু ওকে কখনোই দেখিনি। আমাদের প্রায় প্রতিদিনই কথা হত। এর মধ্যে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়। আশানুরুপ পরীক্ষা না হওয়ায় দু’জনেরই মন খারাপ। আমি ঢাকায় চলে এসেছি। ওমেকায় কোচিং শুরু করেছি তখন আর ও সিলেটেই প্রাইমেটে। কথা হয়, ঝগড়া হয়। মন কষাকষি হয়। ভালোবাসা হয়। অবস্থা তখন আরো খারাপ মনে হয় সব সময় কথা বলি। খুব দেখতে ইচ্ছে করত। নিজে থেকে বলতেও পারি না। একেবারে উভয় সংকটে।
তখনও আমাদের রেজাল্ট দেয়নি। একদিন ফোন করে বলল, "আমি ঢাকায় আসতেছি এখন ট্রেনে। দেখা করবা???"

আমি তো লাফ দিয়ে উঠেই বললাম, "করব না মানে!!! ট্রেনের নাম কি???"

"জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস।"

"আচ্ছা" বলেই ফোনটা কেঁটে দিলাম।

তখনই যা পড়েছিলাম তাই পড়েই বেরিয়ে গেলাম। একটা কোনোরকম হাটু ঢাকে এমন একটা থি কোয়ার্টার আর উপরে একটা টি-শার্ট পড়ে বাসে উঠে গেলাম।
মোটামুটি আধা পথ গেছি তখন আবার ফোন এসেছে,
"তুমি কই?"

"আমি বাসে........."

"এত তাড়াতাড়ি !!! আমরা তো একটু আগে উঠেছি, আসতে আসতে চার-পাঁচ ঘন্টা বা তার বেশি লাগবে, আর তখন কথা শেষ না করেই ফোন কেঁটে দিলে কেন? এখন বাসায় যাও। ঢাকার কাছাকাছি আসলে আমি তোমাকে কল দিয়ে জানিয়ে দেব। আর আমার সাথে আব্বু আম্মু ছোট ভাই আছে। তাই কথা হবে না সম্ভবত।"


আমার মনে হল পর পর দু’বার আমার হৃদয়ে শেলিং হল। অন্তরটা ভাইঙ্গা গেল। এইটা একটা কথা ??? .........
যাই হোক ঠিক করলাম বের যখন হয়েছি, আর বাসায় যাবো না। যতক্ষন লাগে লাগুক স্টেশনেই অপেক্ষা করব।


কমলাপুর স্টেশনে যখন পৌছলাম তখন প্রায় ১০টা বাজে। সকালে কিছু খাইনি। নেমে একটা ঝুপরি দোকান থেকে কিছু খেয়ে পেটের জ্বালা মেটালাম। খবর নিয়ে জানলাম ট্রেন আসতে তখনও ঘন্টা চার বাকী। কি আর করা একটা পত্রিকা আর পর্যাপ্ত সিগারেট কিনে একটা তুলনামূলকভাবে শান্ত জায়গায় বসলাম। যদিও পত্রিকা পড়ছিলাম মাথার মধ্যে ঘুরছিল নীলার কথা। কেমন হবে দেখতে। কোথায় যেন শুনেছিলাম যাদের কন্ঠ সুন্দর হয় তারা নাকি দেখতে অতটা সুন্দর হয় না। আবার ভাবলাম ধুররর আমি কি ওর বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে প্রেমে পড়িনি। আমি ব্যাক্তি নীলাকে ভালোবাসি। ও দেখতে কেমন সেটা কোনো মূখ্য বিষয় নয়।

এমন সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে বাসা থেকে ফোন!!!
"এই তুই কই আম্মু তো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আম্মুকে নিয়ে আমরা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যাচ্ছি। তুই আয় তাড়াতাড়ি।" ছোট বোনের কন্ঠ।

জিজ্ঞেস করলাম "সিরিয়াস কিছু?"

বলল, "না আম্মার বুকে ব্যাথা উঠছে, আমরা নিয়ে আসছি, তুই আয়। এখানে কেউ নাই।"


বাসায় আব্বাও নেই। কি করি, কি করি চিন্তা করতে করতে স্টেশন থেকে বের হলাম তখন বাজে ১২টা।
দৌড়ে বাসে উঠলাম, নামতে নামতে ১ টা ১৫। আম্মাকে দেখে মন ভালো হয়ে গেল। আম্মা আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কই ছিলি? আমার তো খুব খারাপ লাগছিল তাই তাড়াতাড়ি একটা রিক্সা নিয়ে চলে এসেছি। ডাক্তার বলল তেমন কিছু না। কিছু ওষুধ দিল। তুই ডাক্তারের সাথে একটু কথা বল”


আমি ডাক্তারের সাথে কথা বললাম। ডাক্তার বলল,
"তেমন কিছু না। একটু মেনে চলতে হবে। উনি তো খাবার দাবার কিছুই ঠিক ঠাক মত করেন না। এসব ব্যাপার একটু খেয়াল রাখবেন। আর যে ওষূধগুলো দিয়েছি একটা ভালো দোকান থেকে কিনে নিয়ে নিয়ম মত খাওয়াবেন। নিয়মিত চেক আপ করাতে হবে। কারন এই বয়সে আগে থেকে সাবধান থাকা ভালো। আর ওনাকে সময় দেবেন। একা থাকতে দেবেন না।"


সব কথা শুনলাম মন দিয়ে। আম্মাকে নিয়ে বাসায় আসলাম। ঘরিতে তখন ২ টা বাজে। তখনই রওয়ানা হলাম। ফোন দিলাম নীলাকে। ফোন অফ। মাথায় বাঁজ পড়ল যেন।
যা হয় হবে ভেবে বাসে উঠে গেলাম। ভাগ্য ভালো বলতে হবে ডাইরেক্ট বাস ছিল। যখন স্টেশনে ঢুকি তখন বাজে ৩টা। দৌড়ে ঢুকলাম। কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানলাম ট্রেন চলে এসেছে। দৌড়ে ঢুকলাম। ট্রেন খুঁজে পাই না। ট্রেন খুঁজতেছি আর কল দিতেছি। কল দেয়া যায় না “cannot be connected at this moment please try later” মেজাজ খারাপ হতে হতে যখন একেবারে শেষপ্রান্তে চলে এসেছি। তখন ট্রেনের দেখা পেলাম। বগি নম্বর বলেনি আর এখন ফোনেও পাচ্ছি না। কি আর করা। বগি থেকে বগি খুঁজতে লাগলাম। বেশির ভাগ বগিই খালি। যাত্রীরা প্রায় সবাই নেমে গেছে সারা আছে কুলির খোঁজে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। আমি ফোন দিয়েই যাচ্ছি ...............হঠাৎ ওপাশ থেকে রিং হল। মনে হল যেন আকাশের চাঁদ পেলাম। ধরতেই বললাম,

“কোথায় তুমি”

"তুমি কোথায়??? তোমার সেল অফ কেন??? কতক্ষন ধরে ট্রাই করতেছি............আমরা তো বের হয়ে গেছি। বাবা গাড়ি আসতে বলছে, গেটের বাইরে আছি ............"


আমি আর কিছু না বলে দৌড়ালাম গেটের কাছে। গেটের কাছে গিয়ে দেখি কয়েকটা গ্রুপ দাঁড়িয়ে আছে, এবং দুঃখের বিষয় সব গ্রুপেই ওর বয়েসী মেয়ে আছে। মহা ফাঁপরে পড়ে গেলাম। কি করি মাথায় কিছুই খেলতেছিল না। হঠাৎ মাথায় আসলো ফোন দেই (বিপদের সময় বুদ্ধি আসতে টাইম নেয় কেন ???)
ফোন দিচ্ছি আর দেখছি কে তাকায়। রিং হচ্ছে হচ্ছে। ধরে না, ধরে না। ধরতেই প্রথম জিজ্ঞেস করলাম "তুমি কি রঙ এর ড্রেস পড়ছ???"(এটাও আগে জিগানের কাম আছিলো)

বলল “সবুজ”

ভালো করে তাকিয়ে দেখিএকটাই সবুজ ড্রেস পড়া মেয়ে আছে। সামনে যাবো এমন সময় একটা গাড়ি এসে দাড়ালো। আস্তে আস্তে ওরা সবাই গাড়িতে উঠে গেল। আমি দেখলাম, তবে না দেখার মতই। কানে আমার তখনও মোবাইল।


পাঁচ


প্রচন্ড হতাশ লাগছিল নিজেকে। ভেবেছিলাম এত কিছুর পরও হয়তো দেখা পাবো। কথা না হোক, দূর থেকে অন্তত দেখতে তো পারব মনের মানুষটাকে। গাড়ি যতক্ষন দেখা যাচ্ছিল তাকিয়েই ছিলাম এরপর বসে পড়লাম। খেয়াল করলাম চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। এখন ভাবলে অবশ্য হাসি পায়, কমলাপুর রেল ষ্টেশনের গেটে একটা ১৮/১৯ বছরের একটা ছেলে কাঁদছে, তাও আবার পরনে হাফপ্যান্ট!!! কিন্তু তখন নিজেকে সামলাতে পারিনি। যাই হোক মন খারাপ করে কিছুক্ষন বসে থাকার পর যখন নিজের ভাগ্যকে গালাগাল করছি ঠিক তখন একটা মেসেজ আসলো আমার মোবাইলে,

“মন খারাপ করো না, বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছি আমার কাজিনের সাতদিন থাকব, চিন্তা করো না, আর প্লিজ মন খারাপ করো না। আমাকে ফোন দিয়ো না, আমার আশেপাশে সব বড় মানুষরা থাকবে এই কয়দিন। আমি সুযোগ মত তোমাকে ফোন দিব। লাভ ইউ জান ♥♥♥”

প্রচন্ড মন খারাপ করে যখন বাসায় ঢুকেছি তখন বাজে ১০টা। মাথা ব্যাথা করছে। চোখ জ্বলতেছে, প্রচন্ড ক্ষুধা মস্তিষ্কটা মনে হচ্ছে শূন্য। বাসায় ঢুকেই নিজের রুমে গিয়ে বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম আসে না। মাথায় শুধু কবে নীলার সাথে দেখা হবে সেই চিন্তা। ওই মেসেজের পর ও আর কোনো মেসেজও পাঠায়নি। কি করব বুঝতে পারছিলাম না। ও কোথায় উঠেছে তাও জানা হয়নি।

চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম খেয়াল নেই। ঘুম ভাংল সকালে। মোবাইল চেক করতেই নীলার একটা মেসেজ পেলাম।

“আজকে সবাই বসুন্ধরা সিটিতে শপিং এ যাবে। আমার সব কাজিনরা। বড় কেউ থাকার চান্স তেমন নেই। দেখা করার ভালো সুযোগ। আমি বের হওয়ার সময় তোমাকে একটা মিসকল দেব। মনে হয় ১১টার দিকে বের হব সবাই। রেডি হয়ে থেক”


ঘড়ির দিকে তাকালাম, ৮টা বাজে। প্রচুর সময়। যেহেতু রাজশাহীতে বড় হয়েছি তাই, ঢাকায় আমার তেমন বন্ধু ছিল না। কাউকে সাথে নেব সে সুযোগ আমার ছিল না। কোচিং এর কারো সাথে ওত খাতির ছিল না, অনেক চিন্তা করে যখন কাউকে পেলাম না। একটু হতাশ লাগলো নিজেকে। প্রথমবারের মত প্রিয় মানুষটাকে দেখতে যাচ্ছি, কিন্তু কনফিডেন্স লেভেল শূন্যের কোঠায়। দেখা হলে কি বলব এই চিন্তায় আমার তলপেটে বারবার চাপ বাড়ছিল। এর মধ্যে আমি তৈরী হয়েছি, কিন্তু ড্রেস আপ আমার নিজেরই পছন্দ হয়নি। কিন্তু কাউকে যে জিজ্ঞেস করব তার সুযোগ নেই। বোনটা স্কুলে গেছে। আর মা একটু পর পর আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন। আমি তো মহা ফাঁপরে। এক সময় মা যখন জিজ্ঞেস করেই ফেললেন যে আমার কি হয়েছে? কোনো রকম একটা জবাব দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে এসেছি।
সাড়ে ১০টা, এখনও কোনো ফোন বা মেসেজ আসেনি। টেনশন বাড়ছে, আজকেও কি দেখা হবে না???

ঠিক ১১টা, একটা ফোন এল, "আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে বের হব আমাদের যেতে আধা ঘন্টা মত লাগবে তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।"

বললাম "আমারও এরকমই সময় লাগবে।"

বসুন্ধরা সিটিতে যখন পৌছলাম তখন সাড়ে ১১টা। ভাগ্যক্রমে ঢাকা নগরীর জ্যাম স্বাভাবিক ছিল। একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে ওকে ফোন দিলাম। কোথায় আছে আর কোন রঙের ড্রেস পরা আছে জেনে নিলাম। এরপর সোজা সেই দোকানের সামনে গেলাম। ভিতরে তাকাতেই বিশাল একটা গ্রুপ দেখতে পেলাম। এবং তার মধ্যে নীল সালোয়ার পড়া দু’জনকে দেখতে পেলাম। দলে বিশালদেহী কিছু পুরুষও আছে। সাহস হলো না ভেতরে ঢোকার। আমি আরেকটা দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে ফোন দিলাম,

"এত মানুষ কেন???"

"কেন? কি সমস্যা?"

"তোমাকে দেখব কি করে?"

"আজব দূর থেকে দেখবে.........আর আমাকে দেখবে মানে!!! অসভ্যদের মত কথা বল কেন????
এই এখানে অনেক মানুষ বেশীক্ষন কথা বলা যাবে না।"

"আরে তোমাকে যে দূর থেকে দেখব, চিনব কি করে? তুমি বলছ, নীল জামা, এখানে নীল জামা দুইজন। খেয়াল করে পরতে পারলা না???"

"আচ্ছা চিল্লাইও না, আমি দেখতেছি কি করা যায়........."

একটু পর দোকান থেকে একটা মেয়ে বেরুল..................
অপ্সরী, পরী, অপরুপা ............... কি বলব বুঝতে পারছিলাম না, ওকে দেখে জাষ্ট আমার চোয়াল ঝুলে গিয়েছিল। সুন্দর কন্ঠের কেউ যে দেখতে এরকম সুন্দর হতে পারে ওকে না দেখলে আমার সন্দেহটা দূর হতো না।

নীলা বেরিয়েই আমাকে সামনের একটা বাচ্চাদের খেলনার দোকান ইশারায় দেখাল। প্রথম ধাক্কাটা কাটিয়ে ওঠার পর
খেয়াল করলাম একটা বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়েছে। চালাক মেয়ে

যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমাদের দেখা হল প্রায় এক বছরেরও বেশী সময় পর। আমি যখন ঠিক ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম, আমাকে দেখে যে হাসিটা দিয়েছিল আমার দেখা সবচেয়ে নিষ্পাপ হাসি ছিল সেটা। দুই এক শব্দে যা কথাগুলো বললাম তাতে তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু ওর চাহনিতে কিছু একটা ছিল যেটা আমাকে এখনো টানে। পিচ্চি যেটাকে নিয়ে বের হইছিল ওর এক কাজিনের মেয়ে। খেলনা দেখানোর কথা বলে বের হয়েছে। এত্ত কিউট ছিল পিচ্চিটা। যাওয়ার সময় বলে,

“আঙ্কেলের সাথে পরিচয় করাই দিবা না???”

নীলা তখন আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন পিচ্চিটা আমাকে ওর হাসবেন্ড বানাই ফেলছে। ওর লজ্জা দেখে আমিও একটু লজ্জা পেলাম। কাছে গিয়ে ওর কানের কাছে মুখটা নিয়ে বললাম,

“এত লজ্জা পেয় না, আঙ্কেল বলছে, খালু না”

আমরা প্রায় ১৫ মিনিটের মত ছিলাম, কিন্তু এখনো প্রায় সব ঘটনা স্পষ্ট মনে পড়ে। আমাদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন ছিল সেটা।
এরপর আরো দু’বার দেখা হয়েছে আমাদের একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে। আরেকবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। তবে কথা বলার সুযোগ হয়নি।


ছয়

এরপর কেটে গেছে অনেকদিন। আমাদের রেজাল্ট দিল, দু’জনের কেউই ভালো রেজাল্ট করতে পারলাম। দু’জনের বাসা থেকেই প্রেসার বাড়ল। অনেকদিন তেমন যোগাযোগ রাখা হল না। আমি যাও যোগাযোগ রাখতাম ও তেমন রাখত না। আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছিলাম আমরা।

একদিন আমার এক কাজিনের কাছে খবর পেলাম নীলাকে নাকি সিলেট শহরে দেখা গেছে কোনো এক বখাটে ছেলের সাথে বাইকে। ছেলের নাম সম্রাট। নাম শুনে মাথায় রক্ত চড়ে গেল। এই সেই সম্রাট যার সাথে নীলার সম্পর্ক ছিল বলে এক সময় আমি জানতাম। কাজিনকে বললাম আরো খবর নিতে। কাজিন বলল, খবর ভ্যালিড নীলাকেই দেখা গেছে।
ফোন করলাম নীলাকে, জিজ্ঞেস করলাম সম্রাটের ব্যাপারে। এখনো ওর সাথে যোগাযোগ আছে কিনা। স্রেফ অস্বীকার করল। বরং এতদিন পর ওর কথা জিজ্ঞেস করলাম কেন, এই নিয়ে রাগারাগি শুরু করল। মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেল। ফোন দিলাম কাজিনকে। বললাম,

"আসছি আমি সিলেটে"

সিলেট শহরে আমি আগে কখনোই আসিনি। কিছুই চিনি না তেমন। স্টেশনে নেমে কাজিনকে ফোন দিলাম। কাজিন এসে আমাকে পিক করল। ওদের বাসায় গেলাম। ওরা ওখানকার স্থানীয় বলে সব খবরই পায়। ওর কাছ থেকে জানলাম সম্রাট সিলেট শহরের এক প্লে-বয়ের নাম। এই প্লে-বয়ের খপ্পরে যে মেয়ে একবার পড়ছে তার খবর করে ছেড়েছে সে। নীলার আগে থেকেই ওর সাথে সম্পর্ক ছিল। তবে মাঝখানে ব্রেক আপ হয়েছিল। এখন আবার মত ওদের শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। এমনকি এমন সব জায়গায় ওদের দেখা গেছে যেখানে শুধু কাপলরাই যায়। ওদের দু’জনের পরিবারই অনেক টাকা পয়সার মালিক। আর নীলার আছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট, সম্রাটের বাপ ক’দিন পরে নীলার পাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাবে। যতই শুনতে লাগলাম মাথা গরম হতে লাগল।
আমার কাজিন তখন বলল

“সিলেটে প্রেম করতেছ একবার আমাকে জানাবা না, যখন সন্দেহ হইছে তখন জানাইছো আগে জানাইলে তোমারে সিগনাল দিতে পারতাম। এখন মাথা গরম কইরা কি হবে? সিলেট শহরে তোমারে হয়ত কেউ কিছু করতে পারবে না। কিন্তু তুমি সম্রাটেরও কিছু করতে পারবা না।এখন সব কিছু ডিপেন্ড করতেছে ওই নীলার উপরে। সে যদি তোমাকে চায় তাইলে হয়তো তুমি তারে পাইতে পারো। নইলে নো চান্স। তোমার সাথে তার কি হইছে ফোনে কথা ছাড়া। এই ভালোবাসা টিকে। আরে এইগুলারে ভালোবাসা কয়??? যাও ফ্রেশ হও, তারপরে ওর লগে দেখা করতে যাও। কথা বল তারপর তুমিই বুঝবা কি করতে হবে।”

শুনলাম কথাগুলো, প্রথমবারের মত মনে হল, আমি বড় নিঃস্ব এই পৃথিবীতে। এতদিনের এত হাসি ঠাট্টা। এত মধুর মধুর কথা সব ফাইজলামি, সব টাইমপাস??? প্রচন্ড কান্না পাচ্ছিল তখন। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম। নাস্তা করে ফোন দিলাম নীলাকে। বললাম,

“ দেখা করব তোমার সাথে”

সরাসরি বলল, “সম্ভব না। বাসা থেকে বেরুতে পারবে না।"

আমি বললাম, “দেখা না করে আমি সিলেট থেকে যাব না”

“পাগলামী করো না, তুমি সিলেট আসছো আমাকে বলে আসছো??? আমি কেন তোমার সাথে দেখা করব, তুমি আমাকে কিছু মনে করো তোমার”

“তোমাকে আমার কিছু মনে করার মত অবস্থা এখনো আছে কিনা সেটা পরিস্কার করতেই আমাদের দেখা হওয়া দরকার।"

"সম্ভব না আমার পক্ষে"

"এখন তুমি যদি স্বাভাবিকভাবে দেখা না করো তাহলে আমাকে অন্য পথ দেখতে হবে। তোমাদের বাসার ঠিকানাটা আমি চিনি, ওটা যে তোমাদেরঈ বাসা তাও আমি নিশ্চিত হয়েছি। যদি তুমি আমার সাথে দেখা না করো, তাহলে তোমার বাসায় গিয়ে দেখা করব। এখন তুমিই বল কোনটা তোমার জন্যে ভালো হয়...............”

কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে বলল, “আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আড়ং এর সামনে আসতেছি। তবে প্লিজ কোনো সিন ক্রিয়েট করবা না তাহলে তোমার সাথে আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।”

মনে মনে বললাম সম্পর্কের আর বাকী আছে কিছু?
মুখে বললাম “আমার দিক থেকে তুমি নিশ্চিত থাকতে পারো।”

নীলার খুব সখ ছিল বাইকে চড়ার, আমাকে অনেকবার বলেছেও। সিলেটে প্রথমবারের মত নীলার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি তাই ভাবলাম সিএনজির চাইতে বাইকই ভালো হবে। কাজিনকে বলতেই একটা বাইক যোগাড় করে দিল। আড়ং এর লোকেশন জেনে আমি রওয়ানা হয়ে গেলাম। শহরে নতুন হওয়ায় রাস্তাঘাট তেমন চিনি না। তাই একটু সময় লেগে গেল। যখন আমি আড়ং এ পৌছেছি। তখন প্রায় দুপুর। বাইক নিয়ে কাছে যেতেই নীলাকে দেখতে পেলাম।
আজকে কেন যেন ওকে সুন্দর লাগছিল না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪২
২২টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×