somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সাবেক শিবিরের আত্মকাহিনী -২৩ (দেশে ফেরা)

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে ফিরে এলাম ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে। তার একটা পটভূমি রয়েছে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে ফুল টাইম চাকুরী নেয়ার পর থেকেই বাবা বিয়ের করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। প্রতি চিঠিতেই তিনি একটা না একটা মেয়ের ছবি পাঠাতেন।

এর মধ্যে দেশে এলাম ১৯৯৫ সালের জুলাইতে। এসে শুনি তিনি বিয়ে ঠিক করে রেখেছেন। মেয়ে ইংলিশে অনার্স পড়ছে, সেকেন্ড ইয়ারে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনায় খুব ভালো। ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষাতে ফার্স্ট হয়েছে। বোরকা পরে।

সে সময়ে বিয়ে করার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু, বাবা নাছোড় বান্দা। তিনি শেষ-মেষ তার মোক্ষম অস্ত্রটি প্রয়োগ করলেন। বললেন, তার মনে হচ্ছে, তিনি খুব তাড়াতাড়ি মারা যাবেন। মৃত্যূর পূর্বে তিনি তার প্রথম পুত্রবধূর মুখটি দেখে যেতে চান।

তখন আমার বয়স পচিশ বছর। এই বয়সে বিয়ের প্রস্তাব আসলে একেবারে বেকে বসা অনেকটাই অসম্ভব। তাছাড়া বাবার ইমোশনাল ব্লাক মেলিং তো রয়েছেই।

বললাম, মেয়েটিকে অন্তত দেখে আসি।

বাবা তাতেও রাজী নন। তিনি বললেন, "আমি কি তোমার জন্য খারাপ মেয়ে ঠিক করবো।"

তবুও একদিন কাউকে কিছু না বলে একজন বন্ধুকে নিয়ে গিয়ে হাজির হলাম তার ক্যাম্পাসে। আমাদের এলাকার একটা মেয়েকে খুজে বের করলাম। অবশেষে আমার হবু বউএর দেখা পেলাম।

সে কালো বোরকা পরে ছিল। মুখ ঢাকা। শুধু তার চোখ আর কপালের কিছু অংশ দেখেছিলাম। মনে হয়েছিল যেন কয়লার খনির ভিতর দিয়ে হীরক খন্ড জ্বল জ্বল করছে। তার চোখের পাতাকে মনে হয়েছিল কালো ফুলদানিতে রাখা গোলাপের পাপড়ি।

যাহোক বিয়ে হয়ে গেলো জুলাই মাসের শেষ দিকে। বিয়ে মানে শুধু কাবিন নামা। আমি চলে গেলাম সপ্তাহখানেকের মধ্যে।

গিয়ে আর মন টিকছিল না। এদিকে দেশে তখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাহিদা খুব বেশী। অবশেষে কয়েক মাসের মাথায় দেশে ফিরে এলাম।

দেশে ফিরে চাকুরী নিয়েছিলাম একটি এনজিও তে। সেই চাকুরীটা আমার অনেক কিছু বদলে দিলো। আগামী পর্বে সে কাহিনী বলার চেষ্টা করবো।

চলবে ..
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×