somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যতে আমরা কোন ভাষায় কথা বলবো? -পর্ব-1

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করতেই শিউরে ওঠতে হয় আর যে পথে আমরা এগুচ্ছি তাতে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে অনেক সাহসের প্রয়োজন। আমার এই লেখার বিষয় হাজারো সমস্যা নিয়ে নয় বরং এমন একটি বিষয় যার জন্য সশস্র সংগ্রামের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন আমােেদর সদিচ্ছা এবং সচেতনতা। আমার এই লেখার বিষয় আমাদের ভাষা আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি। আমরা কি জানি ভবিষ্যতে আমরা কোন ভাষায় কথা বলবো? ভবিষ্যতের সে ভাষাটা কি হিন্দি? আজ থেকে দশ বারো বছর পরে হিন্দিতে কথা হয়তো বলতে হবেনা তবে সে ভাষাটা যে এখনকার এই বাংলা হবেনা সে ব্যাপারে আমি প্রায় নিশ্চিত যদিনা সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বড় একটি রাষ্ট্রের প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে আমদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে আমাদের নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে। নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার ইচ্ছা থাকতে হবে। হিন্দি আগ্রাসনে পশ্চিম বাংলা বদলে যেতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ কেন? বাংলাদেশ আর পশ্চিম বাংলার অবস্থানতো এক নয়। পশ্চিম বাংলার ভাষা-সংস্কৃতি বদলে যাক তা আমি চাইনা কিন্তু ভারতের প্রদেশ হিসাবে সেখানে হিন্দির প্রভাব বেশী পড়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলার অস্তিত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের চেয়ে আমাদের অনকে বেশী এবং পরিবেশ অনকে অনুকূল। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমরা নিজেরাই যেন চাই হিন্দিতে মিশে যেতে। অন্য দেশের ভাষা এবং সংস্কৃতি আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে কিন্তু তা নিজেদেরটা বিকিয়ে দিয়ে নয়। শিল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় একটি দেশকে করতে পারে সমৃদ্ধ। শুধু ভারতীয় নয় আমাদের জানতে হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি। জানতে হবে অন্য দেশের ইতিহাস। কিন্তু আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন আমরা নিজেরাই ধ্বংস করছি নিজেদের ইতিহাসকে, ধ্বংস করছি বাংলাকে। আমরা যে ভাবে হিন্দি চর্চা করছি তা সমৃদ্ধতা থেকে ব বঞ্চিত এবং তার ফলাফলও ভয়াবহ।

আর কালক্ষেপণ না করে কিছু একটা করা জরুরী দরকার যা জনগণের মনে পরিবর্তনের সূচনা করবে। কেউ কেউ বলতে পারেন জনগণ কেন? পরিবর্তনটা হওয়া দরকার রাজনৈতিক নেতাদের, পরিবর্তন দরকার নীতি নির্ধারকদের। কিন্তু আমি মনে করি ওদেরকে এর জন্য আংশিক ভাবে দায়ী করা উচিত, বাকিটা আমাদের। বাঙালি জাতির চরিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে আমরা অনেক খানি বদলে গেছি। পরিবর্তন হয়েছে সমষ্ঠিগত ভাবে সমাজের সকল স্তরে এবং এই পরিবর্তন যেন অনিচ্ছাকৃত নয়। হিন্দির আগ্রাসনে বাংলা বদলে যাক এ যেন আমাদের সকলেরই কাম্য। জনসংখ্যার সিংহভাগ হিন্দিকে এতটা আপন করে নিয়েছে যে হিন্দিকে আর ভিনদেশী মনে করা যায়না। এমনকি রাজনৈতিক এবং ধর্ম ীয় বিশ্বাস হিন্দির প্রসারতায় কোন অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। তাই দেখা যায় রাজনৈতিক বিশ্বাসে কেউ একদিকে এমন কট্টর ভারত বিদ্্বেষী যে কিনা ভারতকে তার প্রাপ্য সাধুবাদ থেকেও বঞ্চিত করে, আরেকদিকে সেই হিন্দি চর্চা করে বাংলার পাশাপাশি নয় বরং বাংলাকে বাদ দিয়ে। তেমনি দেখা যায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যে যুবকের ধর্মান্ধতা ঘোচাতে পারেনি হিন্দি ছায়াছবি কিংবা নায়িকাদের নৃত্য পারদর্শিতা তাঁকেই হিন্দু বিদ্্বেষী এক উদার হিন্দি প্রেমী করে তোলে। হিন্দি ছায়াছবি, নাটক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান গুলো সাধারণত শিশু সহ সপরিবারে উপভোগ করা হয়। ইংরেজী ছায়াছবির মত কোন বিধি নিষেধ বিবেচনায় আনা হয়না। একটা সময় ছিল যখন হিন্দি ছায়াছবির অনেক গান বা দৃশ্য পরিবারের সবাই মিলে দেখার যোগ্য মনে করা হতোনা। কিন্তু যেদিন থেকে আমাদের অবাধে হিন্দি দেখার সুযোগ হলো সেদিন থেকে ধীরে ধীরে আমাদের সহনশীলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন অনেক সময় এমনও হিন্দি ছায়াছবি বা অনুষ্ঠান সপরিবারে কোন রকম সংকোচ ছাড়াই দেখা হয় যা কিনা ইংরেজীতে হলে শিশুদের দেখার অযোগ্য ঘোষনা করা হতো পাশ্চাত্যের সমাজ ব্যবস্থাতেও। এমনি ভাবে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে আমাদের ভাষা, বদলে যাচ্ছে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি।

(অসমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৩৮
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×