পাশ্চাত্যের অনুকরণে ভারতীয় অনুষ্ঠান গুলো যখন বাংলাদেশে প্রচার করা হচ্ছে তখন আমাদের বাংলাদেশের বাঙালিদের বুক যেন গর্বে ভরে ওঠে! আমার এই ধারণা অভিজ্ঞতা প্রসূত। আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি আমরা দিনে দিনে বাংলা শিল্প সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। হিন্দির প্রভাব থেকে আমার কাছের লোকজনও মুক্ত নয়। আমাদের আড্ডার বিষয় চাল চলন সব কিছুতেই এর প্রভাব পড়ছে। জরিপ করলে দেখা যাবে সবাই এক বাক্যে স্ব ীকার করবে যে আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী, সরকারী-বেসরকারী কর্মচারী এবং বিভিন্ন মহলের নীতি নির্ধারকদের সিংহভাগ দূর্ন ীতিপরায়ণ। সবাই বলবে বাংলাদেশের চলচিত্র যাচ্ছেতাই রকমের অরুচিকর। বলবে নাটকের মান আগের মত নেই। বলবে বাংলায় কিছু দেখা বা শোনার মত নেই বলেইতো হিন্দি দেখছি হিন্দি শুনছি। কিন্তু আমরা যে ভাবে হিন্দি চর্চা করছি তাতে তো মনে হয়না আমাদের উপর জোর করে এই হিন্দির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। আমি স্ব ীকার করছি এর শুরুটা হয়েছে আমাদের অনিচ্ছায় কিন্তু আমরা কি কখনো কোন ভাবে প্রকাশ করেছি যে আমরা নিতান্তই বাধ্য হয়ে হিন্দি চর্চা করছি? বরং আমি দেখেছি এর মধ্যে এক ধরনের স্বতঃস্ফুর্ততা আছে। ইতিমধেই হিন্দিকে আমরা অনেক আপন করে নিয়েছি এবং আমাদের কথা বার্তা চালচলনে হিন্দির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনয াত্রায় হিন্দির অবাধ বিচরণ। বিয়ে কিংবা জন্মদিনের অনুষ্ঠান হিন্দি গান ছাড়া হতে পারে এযেন কল্পনাতীত। এমনকি একুশ কিংবা পহেলা বৈশাখ উৎযাপনও হিন্দি প্রভাব মুক্ত নয়।
একবার প্রবাসে কোন এক অনুষ্ঠানে পশ্চিম বাংলার এক শিল্পী বলেছিলেন বাংলাদেশের বাঙালিদের গর্ব একুশ যেদিন তাঁরা ভাষার জন্য জীবন দিতেও দ্্বিধাবোধ করেনি। বলেছিলেন হিন্দির আগ্রাসনে সেই ভাষার অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে এবং আমাদের এই প্রাণ প্রিয় মাতৃ ভাষাকে হিন্দি আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে হবে। ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর তিনি একুশ নিয়ে একটি গান গেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তি গায়িকা বাংলাদেশের বাঙালি, ভারতীয় সেই শিল্পীকে কোনরকম সাধুবাদ না জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি শিল্পী সুতরাং তাঁর কোন নির্দিষ্ট ভাষা নেই, তাঁর এবং দর্শক শ্রোতাদের ইচ্ছেমত ভাষাতেই তিনি গাইবেন। তারপর দর্শকদের আনন্দ দিতে হিন্দি গানের সাথে হিন্দি ছায়াছবির অঙ্গভঙ্গি করতেও ছাড়েনি। বাংলাদেশের শুধু শহরেই নয় গ্রামে গঞ্জেও হিন্দির অবাধ বিচরণ। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে আর কিছুদিন পরে শত ইচ্ছা থাকলেও হিন্দি চর্চা অন্য যে কোন বিদেশী ভাষা-সংস্কৃতির মতই শুধু মাত্র ব্যক্তিগত ইচ্ছানুযায়ী চর্চা করার কথা চিন্তাও করা যাবেনা। কেননা এর চর্চা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আবশ্যিক ভাবেই চলবে। এমন একটি দিন খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেদিনটি সম্পুর্ণভাবে হিন্দি প্রভাবমুক্ত।
(আগামী পর্বে শেষ হবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
