somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আর্টিিস্টক  বিপ্লব
আর্টিস্ট/ব্লগার/টুকটাক ধরনের গাতক------ ধুসর ক্যানভাস---জমাট বাঁধা রঙের তুলি--- কলমের সুচাগ্র ডগা-- গীটারের টুংটাং-- বেচে আছি এই তো।।

বই পড়ার সাতকাহন।।

১৭ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পড়তে বসছি--- বইয়ের ভিতর আরেকটা বই--- হুমায়ুন--সমরেশ-- সুনীল-- তিন গুয়েন্দা-- ওয়েস্টার্ন- অথবা চার্লস ডিকেন্স অথবা সায়েন্স ফিকশন।। বাসার পাব্ লিক সবাই দেখে আমি পড়তে ব্যস্ত। বেশি ঝামেলা হলে কাঠের সন্দুক-- ডালা হাল্কা ফাঁক করে টানা পাচ ছয় ঘণ্টা অল্প আলোর রেখায় পুরো বই গিলতুম-- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র , ব্যক্তিগত পাঠাগার আর উপহারের বই, উপরি ছিল বন্ধুদের বই বেমালুম গায়েব দেয়া--- সংগ্রাম করেই বই পড়তাম--- ইস্কুল কলেজের পুস্তকে আমার মনোযোগ কোনদিনই ছিলনা--- রেজাল্টের খাতায় অশ্ব ডিম্ব ছিল অতি সাধারন ব্যাপার।

সিলেট পাইলট স্কুল-- নুরুল আলম সারের কথা মনে হলে কারো বুকে কাপুনি ধরেনি এমন কেহ নেই মনে হয়--- স্যার এর ক্লাসে চোখে চোখ রেখেই ক্লাস করতে হত-- যতক্ষণ উনি ক্লাসে থাকতেন একটা পিন পড়লে ও শব্দ হতো-- গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত-- এরকমই একদিন--- আগেরদিন রাত্রে ঘুমাবার আগে একটা বই হাতে নিয়েছিলাম, তাও আবার শমরেশের সাতকাহন-- ফজর পর্যন্ত পড়েছি--- কোনরকমে স্কুলে গেলাম-- প্রত্যেক ক্লাসেই অল্প ফাকি দিয়ে কয়েক পেজ গিলেছি--- আসলেন নুরুল আলম স্যার--- কোনভাবেই মন বসানো যাচ্ছিলনা--- আবার সারের ভয়ে লুকানো বইটার দিকে তাকাতে পারছিনা -- কি করি-- যা হবার হবে ভেবে রিস্ক নিয়েই নিলাম--- স্যার বোর্ডে লিখেন আর আমি নিচের দিকে (হাঁটুর মধ্যে রাখা ) তাকিয়ে তাকিয়ে সাতকাহন পড়ি-- গলা শুকিয়ে কাঠ-- ক্লাসের সাতকাহনে ধরা পড়ি এই ভয়ে-- স্যার অবশ্য দু একবার আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন-- বুঝতেও দেইনি মাইরি।
বই পড়া আমাকে কি দিয়েছে তা কেবল আমিই ভালো জানি--- ইংরেজি উপন্যাস পড়তাম বলে ম্যাট্রিক লেবেলেই ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে পারতাম--

সে যাক--- আসি আজকালকার ছেলেদের কথায়--- গেম -- প্লে স্টেশন আর ট্যাবলেটের সৌজন্যে এদের মাথায় এক গাঁদা গুবর ছাড়া আর কিছুই উৎপাদিত হচ্ছেনা দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম-- ভাবতে লাগলাম কিভাবে বিশেষ করে আমার ছেলেকে এই গবেটিজম থেকে বাইরে নিয়ে আসা যায়। ঘাটাঘাটি শুরু হল-- অ্যামাজন কিন্দল নামে একটা ট্যাবলেট পেলাম যেখানে হাজার হাজার বুক ডাউনলোড করে পড়া যায়-- যেই ভাবা সেই কাজ-- কিনে দিলাম ছেলেকে-- প্রথম প্রথম পড়তে চাইতনা-- আমাকে খুশি করার জন্যেই বলতো পড়েছি-- কারন কিঞ্চিৎ গেমের নেশা তখনও ভালই ছিল--বুঝাতাম ,দেখ বাবা আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়েছি আর তোকে নিজ থেকে চাইছি তাও পড়তে চাস না-- শুধু বিরক্তির একটা স্রাগ করে চলে যেত--- আমার বাছাই করা বইয়ের দিকে তার আগ্রহ নেই--- বলল, এগুলো ইন্টারেস্টিং না-- কিন্দলে আবার গেম ও খেলা যায়-- ভাবলাম অন্য পথ ধরাতে হবে--- একদিন বললাম, বাবা তোমার ইচ্ছেমত বুক ডাউন লোড দিতে পারবে-- কাজ হল-- সে তার ইচ্ছেমত মত বই ডাউনলোড দিল-- পড়া শুরু করলো--- বই ই তাকে বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে লাগলো-- ও বুক ডাউন লোড দেয় আর আমার ইমেইল এ নোটিফিকেশন আসে-- পুলকিত হই।।
ওইদিন উইলল্কিন্সনে ঢুকেছি--- সাথে সে ছিল -- হটাৎ দেখি এক গাঁদা বই নিয়ে এসে কাঁচুমাচু স্বরে বলল '' বাবা ক্যান ইয়উ বাই দিজ ফর মি''--- মা বাঁধা দিতে যাচ্ছিল-- কয় কি ব্যাটা !! পারলে তো তোকে বইয়ের সেলফটাই কিনে দিতুম। এত সুখ কার সয়-- সে ওর মেজ চাচুর ঘরে কয়দিন যাবত হল বেড়াতে এসেছে---সকালে ঘুম ভাঙলে দেখি ,আমার আরেক ডুপ্লিকেট কপি কাঁথা মুড়ি দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বই পড়ছে...!!
বি দ্র ঃ এই লিখাটার পিছনে একটা উদ্দেশ্য আছে-- নিজের বাচ্চাদের বই পড়তে উৎসাহিত করুন-- কারণ ডিজিটালের এই যজ্ঞে সবই আছে কিন্তু নৈতিকতা বিবেক বোধ, জীবনবোধ ও ব্যক্তির সঠিক মননশীলতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা এক ধরনের ডিজিটাল রোবট হয়ে যাচ্ছি। এ থেকে পরিত্রান দিতে পারে একমাত্র বই আর বই।
দৌড়ের উপর আছি--- লিখাটা লম্বা করতে না পারার জন্যে সুখিত-
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×