somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্য

১৪ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"We want capital punishment" এই স্লোগানে সমগ্র মহাসড়ক কাপিয়ে কয়েক শত মেয়ে মুখে কালো কাপড় বেধে মুখরিত করে তুলেছে আশপাশের গোটা আবহাওয়া। দুইদিন আগে তাদের বিশ্ববিদ্যালের এক সিনিয়র তাদের সহপাঠিনীকে জোড় করে শ্রীলতাহানি করে। তার প্রতি অন্যায়ের বিচার চেয়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশ।
প্রতিবাদের এই স্থানের অদূরে একটা চায়ের দোকানে দুইজন বন্ধু ভদ্রলোক বসে আছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুপম সাহেব এবং আরেক জন ট্রেজারার শাহেদ খন্দকার। আলোচনার বিষয় স্বাভাবিকভাবে সামনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে।
-এটা একটু বাড়াবাড়ি ।
-কোনটা?
-এই যে ক্যাপিটাল পানিসমেন্ট।
-আমারও তাই মনে হয়।
-এদের ব্যবহার উদ্বেগজনক। মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে। এদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে।
-একদম। নারী স্বাধীনতার নামে উশৃঙ্গলা একদিন চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাবে।
-আচ্ছা আপনি বলুন? ধর্ষণ করেছে বলে মৃত্যুদন্ড চাচ্ছে আবার ধর্ষণ করে মেরে ফেললেও মৃত্যুদন্ড চাইতো। দুইটা কি কখনো এক হলো?
-আপনি আমার মনের কথাটা বলেছে। তাছাড়া মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমরা নিজেরা মানুষ হয়ে যদি অন্যকে সংশোধনের একটা সুযোগ না দেই তাহলে এই সভ্য ব্যবস্থার কি মানে?
-এই দেশে কি আর সভ্যতা আছে নাকি। যারা আজ আন্দোলন করছে তারা কি জানে ক্যাপিটাল পাসিনমেন্ট কি?
-হুজুগে বাঙ্গালী। এই আমেরিকা ইউরোপে এসব কত সাধারণ ব্যাপার। কখনো ওদের এসব নিয়ে মাতামাতি করতে দেখা যায় না। এইজন্য এদেশটার কিছু হবে না।
হঠাৎ শাহেদ সাহেবের ফোন বেজে উঠলো। ফোন টা উনার স্ত্রীর।
-হ্যালো, হ্যা বলো।
-তুমি কি এখন একটু বাসায় আসতে পারবে?
-এই অসময়ে বাসায় কেন?
-আসো, বলছি।
-এভাবে কাজ ফেলে আসতে পারব না।
-একটু আগে তোমার চাচার বোনের ছেলে আরিফ এসেছিলো।আমি বাসায় ছিলাম না। অথৈ একা ছিলো বাসায়।
-তো কি হয়েছে?
-আমি বাসায় ঢোকার সময়ে দেখি আরিফ আমাকে দেখে ভয়ে হুড়মুড়িয়ে ছুটে পালাল। আর মেয়েটা তখন থেকেই শুধু কেদে যাচ্ছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও কি হয়েছে বের করতে পারলাম না। আমার খুব ভয় করছে, তুমি একটু আসবে?
-আসছি !
শাহেদ সাহেবের পাগলের মতো বাসায় দিকে ছুটে গেলেন। উনার শান্ত, চুপচাপ মেয়েটা কাদছে। ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছেন না শাহেদ সাহেব । যাবার পথটুকুকে উনার জীবনের সব থেকে দীর্ঘ পথ মনে হচ্ছিলো। কিমতু অদ্ভুত অন্য মেয়ের সাথে ঘটা ঘটনায় অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি, সংশোধন কিংবা সভ্য নামক সমাজের দুরবস্থা এবং ভবিষ্যত নিয়ে কোন আশংকা তার মাথায় আসলেও নিজের মেয়ের ক্ষেত্রে এসব কিছুই আসছিলো না। শুধু একটু আগে শোনা একটা কথাই ঘুরে ফিরে মনের অজান্তে ঘুরপাক খাচ্ছিলো,
"We want capital punishment."
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×