প্রথমে বলে নিই, এই রুমানা মনজুর আর সাইদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র সহানুভুতি নেই। আমার কষ্ট লাগে যখন ভাবি বাচ্চাটার কথা, কি জঘন্য একটা পরিস্থিতির ভেতর থেকে সে তার শৈশব অতিক্রম করছে!
ডাষ্টবিনে খাবার খুঁজতে থাকা, পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের ক্ষুধার কষ্ট নয়; মা-বাবার দাম্পত্য কলহের ভয়াবহ চেহারা এবং দুজনেরই নৈতিক স্খলনের চুড়ান্ত পরিস্থিতি- যার সাথে এখন প্রায় সমগ্র দেশবাসী এক অবদমিত ক্রোধ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে পক্ষে-বিপক্ষে, এমন এক মা-বাবার সন্তান হিসেবে এই শিশুটির ভবিষ্যত মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমার আশঙ্কা।
বুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত, একজন শিক্ষক এর সন্তান হিসেবে যে সামাজিক মর্যাদা, যে সাংষ্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব এই শিশুটির মানসিক বিকাশের জন্য সহায়ক হতে পারতো, তার পরিবর্তে এমন অসম্মানজনক পরিস্থিতির স্মৃতি বয়ে বেড়াবার বোঝা থেকে এই দুই অপদার্থ মা-বাবা হয়ত শিশুটিকে রক্ষা করতে পারতেন।
কিন্তু তারা তা করেননি। কারণ তারা তো রক্ত-মাংসের মানুষ। তাদের সামাজিক ষ্টাটাস সহ আরো অনেক রকম জৈবিক প্রয়োজন আছে, সেটাই বা কম গুরুত্বপূর্ণ হবে কেন? এইসব প্রয়োজনই এসব ঘটনার জন্য দায়ী, যা সারাজীবন বাচ্চাটাকে বয়ে বেড়াতে হবে। রাষ্ট্রিয় বিচারে কে দোষী হবে এবং কার শাস্তি হবে জানিনা। তবে আমি নিশ্চিত রুমানা আর সাইদের বিচার এই শিশুটিই করবে। এবং সেটাই হবে চুড়ান্ত বিচার।
মানুষের প্রতি মানুষ সহানুভুতিশীল হবে এটা সবাই চায়। কিন্তু মানুষের চেহারা নিয়ে যে নোংরা প্রানীগুলো সমাজে সম্মান নিয়ে বেঁচে আছে দোর্দন্ডপ্রতাপে তাদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, সহানুভুতি থাকার প্রশ্নই ওঠে না। শুধু আক্ষেপ এটাই যে- শিক্ষা, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, কোন কিছুর মাধ্যমেই আমরা শিশুদের জন্য একটা সুন্দর সম্মানজনক জীবন দিতে পারছি না। এ দায় কার?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


