somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে একটা ছোট্ট স্বর্গ ছিল।
কিন্তু স্বর্গে তো থাকা যায় না চিরকাল।
ঢাকায় ফিরে আসার দিনটা ছিল ভীষণ ভারী। বাসে উঠার সময় ছোট মেয়েটা আমার হাত শক্ত করে ধরে বলছিল,
— বাবা, তুমি আবার কবে আসবা?
আমি হাসার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু গলায় যেন কিছু একটা আটকে ছিল।
— খুব তাড়াতাড়ি আসবো মা…
সে বিশ্বাস করেছিল।
কিন্তু আমি জানতাম, সেই তাড়াতাড়ি কত দূরের।
ঢাকায় এসে অফিসে ঢুকলাম পরদিন। সবকিছু আগের মতোই—কম্পিউটার, ফাইল, সহকর্মীদের ব্যস্ততা। কিন্তু আমি আগের মতো ছিলাম না।
মনে হচ্ছিল, আমি যেন শরীরটা নিয়ে এখানে আছি, কিন্তু মনটা পড়ে আছে গ্রামের সেই ছোট্ট বাড়িটায়।
মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু চোখে ভাসে—
মায়ের ভাত বেড়ে দেওয়ার দৃশ্য…
বাবার পুরোনো গল্প…
স্ত্রীর চুপচাপ পাশে বসে থাকা…
আর মেয়ের সেই নিষ্পাপ হাসি।
একটা ফাইল খুলে কাজ শুরু করলাম।
কিন্তু কয়েক মিনিট পরই বুঝলাম—এক লাইনও পড়িনি।
দুপুরে ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছিলাম। খাবারটা ভালোই ছিল, কিন্তু কেন জানি গলায় নামছিল না।
মায়ের রান্নার সাথে এর কোনো তুলনাই হয় না।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল— বউ
রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আস্তে কণ্ঠ,
— খেয়েছো?
এই একটা প্রশ্নেই বুকটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল।
আমি বললাম,
— হ্যাঁ…
সে বুঝে গেল, আমি ঠিক নেই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— মন খারাপ করো না… আমরা আছি তো।
আমি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু চুপ করে ছিলাম।
রাতে বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে আছি। চারপাশ নিঃশব্দ।
এই শহরে হাজার মানুষ, হাজার শব্দ—
তবুও নিজের ঘরে ফিরে একা লাগাটা সবচেয়ে বেশি।
ফোনে গ্যালারি খুললাম।
মেয়ের একটা ছবি—ঈদের দিন নতুন জামা পরে হাসছে।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল, বুঝতেই পারিনি।
পরদিন আবার অফিস।
সবাই কাজ করছে, হাসছে, কথা বলছে।
আমি শুধু সময় পার করছি।
মনটা বারবার বলছে—
সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাই… বাড়ি চলে যাই…
কিন্তু বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর।
চাকরি না থাকলে সংসার চলবে না।
মেয়ের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের ওষুধ, সবকিছু আমার উপর।
তাই নিজেকে শক্ত করে আবার কাজের ভান করি।
দিন যায়, রাত যায়…
কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফোনে কথা হয়, ভিডিও কলে মেয়ের হাসি দেখি।
কিন্তু একটা অদ্ভুত শূন্যতা থেকেই যায়।
কারণ,
ভিডিও কলে আলিঙ্গন করা যায় না…
ফোনে মায়ের হাতের গরম ভাত পাওয়া যায় না…
স্ক্রিনের ওপাশে থাকা মানুষগুলোকে ছুঁয়ে দেখা যায় না…
ঈদের ছুটির পর এই শহরে ফিরে এসে বুঝলাম—
মানুষ শুধু শরীর নিয়ে বাঁচে না,
সে বাঁচে তার মানুষগুলোকে নিয়ে।
আর যখন সেই মানুষগুলো দূরে থাকে,
তখন জীবনটা কেবল একটা দায়িত্ব হয়ে যায়…
বেঁচে থাকা নয়।হয়তো আমরা সবাই এমনই—
স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে,নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোকে ধীরে ধীরে দূরে রেখে দেই…আর একসময় বুঝি—আমরা সফল হচ্ছি, কিন্তু সুখী হচ্ছি না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×