কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে দাঁড়াল অনলাইনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া।
সাধারণ সময়েই যেখানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের টিকিট পাওয়া বেশ কঠিন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। প্রতিদিন সকাল আটটা বাজার আগেই ল্যাপটপ-মোবাইল নিয়ে বসতাম। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটা ছুঁতেই, দুই থেকে তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে চোখের সামনে ট্রেনের সব টিকিট হাওয়া! কয়েকদিন টানা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ বাসের পথ ধরতে হয়েছিল।
বাসে কক্সবাজার পৌঁছে যখন ওখানকার আইকনিক ‘ঝিনুক আকৃতির’ রেল স্টেশনটি নিজের চোখে দেখলাম, সত্যি মুগ্ধ না হয়ে উপায় ছিল না। এক দারুণ নান্দনিক স্থাপনা! যদিও স্টেশনটি এখনও তার পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে না; ভবিষ্যতে সব আধুনিক সুবিধা পুরোদমে চালু হলে পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে।
কক্সবাজারের সেই সফর আমাকে অনুধাবন করিয়েছিল—এই রুটে ট্রেনের চাহিদা যে কত আকাশচুম্বী! সম্প্রতি পত্রিকার একটি খবরেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে পেলাম।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের এই চাপ সামলাতে এবার আরেকটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বর্তমানে চলাচলরত ‘মহানগর এক্সপ্রেস’কে আগামী অক্টোবরের প্রথম দিক থেকেই কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা চলছে।
সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, বর্তমানে ঢাকা থেকে সরাসরি চলা ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ বা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথের কোনো স্টেশনে থামে না। কিন্তু ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বহু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষও সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে পরদিন সকাল ছয়টায় ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছাবে। আর ফিরতি ট্রেন কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে।
যেসব মধ্যবর্তী স্টেশনের যাত্রীরা সুবিধা পাবেন:
ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া ও কসবা
কুমিল্লার কুমিল্লা সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট
ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা
তবে একটি খবর কিছুটা মন খারাপও করে দেয়। একই সংবাদে দেখলাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত 'সৈকত' ও 'প্রবাল' এক্সপ্রেসের বগিগুলো বেশ পুরোনো এবং সেখানে পর্যাপ্ত এসি বগি না থাকায় যাত্রীরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন। নতুন কোচ না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম।
যাই হোক, যারা আমার মতো সরাসরি ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট না পেয়ে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প রুট শেয়ার করি—যা আমি সেই সফরের পর জানতে পেরেছি।
যদি কোনো কারণে সরাসরি ট্রেনের টিকিট না পান, তবে সময় মিলিয়ে নিয়ে এই বিকল্পটি চেষ্টা করতে পারেন:
১. ঢাকা থেকে রাতের ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এ করে চট্টগ্রাম চলে যাওয়া।
২. সেখান থেকে ভোরের ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’-এ উঠে কক্সবাজারের পথ ধরা।
প্রথম ট্রেনটি সময়মতো চললে সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে নয়টার কাছাকাছি কক্সবাজার পৌঁছে যাওয়ার কথা। যদিও কানেক্টিং ট্রেনের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় বিলম্বের ঝুঁকি থাকে, তবুও বাসের ঝক্কি ও ট্রাফিক জ্যামের তুলনায় এটি একটি বেশ আরামদায়ক অল্টারনেটিভ অপশন হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার আমার সেই প্রথম পরিকল্পনাটি সফল হয়নি। কিন্তু সেই অপূর্ণ যাত্রাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—এই রুটে মানুষের আগ্রহ কতটা প্রবল।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




