somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অসমাপ্ত গল্প !

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(প্রথম অংশ)


মাথার উপর বিশাল এক খোলা নীল আকাশ !

রিয়ন হাঁটছে, মেইনরোডের একপাশ দিয়ে ।
একেবারে আনমনা হয়ে !
পাশে হাজারো গাড়ি আসছে-যাচ্ছে ।

ঐতো !
সামনেই ঐ লাল ব্রিজটি দেখা যাচ্ছে !
রিয়নের গন্তব্য ওখানেই ।

ঠিক এই মুহুর্তে রিয়নের মাথায় হাজারটা চিন্তা এসে অবিরত ঘুরপাক খাচ্ছে !

রিয়ন হাঁটছে আর ভাবছে !

এর আরোও প্রায় পনেরো-কুঁড়ি মিনিট হাঁটার পর রিয়ন তাঁর গন্তব্যের লাল ব্রিজটার কাছে এসে পৌঁছালো ।

এই এলাকার লোকজন এই ব্রিজটিকে লাল ব্রিজ নামেই চেনে ।
অনেকের ধারণা, ব্রিজের রংটা লাল তাই এই ব্রিজের নামটা "লাল ব্রিজ" দেওয়া হয়েছে ।

রিয়নদের বাসাটা আধা গ্রাম, আধা শহুরে ।
ওদের বাসা থেকে দু কিলো দূরে এই লাল ব্রিজটি,
এই ব্রিজ থেকে আরো দু-তিন কিলো সামনে এগোলে একটা ছোটখাটো বাজারের সন্ধান মিলবে !

রিয়নের কাছে এই লাল ব্রিজটি বেশ পছন্দের একটি জায়গা ।
প্রায় প্রতিদিনই রিয়ন আসতো এ জায়গাটিতে ।

কখনও রাস্তার গাড়িগুলো দেখে,
কখনও বা আবার আনমনে ব্রিজের নিচের নদীর স্বচ্ছ পানি দেখে সময় কাটিয়ে দিতো ।

কিন্তু আজকের ব্যাপারটি একটু অন্যরকম !
আজ রিয়ন এখানে এসেছে কারণ ওর মনটা আজ খুব খারাপ !
এতোটাই খারাপ যে চোখ ফেটে যেন পানি বেরিয়ে আসতে চাইছে !

রিয়ন সহজে কাঁদে না,
কিন্তু আজ রিয়ন তাঁর চোখের পানি কিছুতেই আটকে রাখতে পারছেনা !

একটুখানি পরীক্ষার রেজাল্ট-টা খারাপ হয়েছে মাএ !
এতোটুকুর জন্য এভাবে বকবে তাঁর বাবা-মা ?

রিয়ন ভাবে, না পড়ে সে যে রেজাল্ট করেছে অন্য কেউ না পড়ে তা কোনও ভাবেই পারবেনা !
রিয়ন জানে, যদি না পড়ে অথবা খুব কম সময়ে স্বল্প সুযোগ দিয়ে কোন পরীক্ষা নেওয়া হতো তবে সেই পরীক্ষায় রিয়নকে কেউই হারাতে পারতো না !

কিন্তু এই কথাগুলো তাঁর বাবা-মাকে কে বোঝাবে ?
তাঁর বাবা-মা যে নাছোড়বান্দা !
পরীক্ষায় যেকোন ভাবে রিয়নকে একটা ভালো রেজাল্ট করতেই হবে !

শুধু বাবা বকলেও রিয়ন এতোটা কষ্ট হয়তো পেতোনা !
কিন্তু বাবার সাথে সাথে তাঁর মা ও আজ সমানে রিয়নকে বকেছে !
যে মা সবসময় রিয়নকে সাপোর্ট করে এসেছে,
যে মা রিয়নের সকল দুষ্টামীগুলোকে এতোদিন প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে, সেই মায়ের কাছ থেকে বকুনী খাবার পর রিয়ন অনেক ভেঙ্গে পড় !

রাগ, ক্ষোভ, অভিমান আর দুঃখে রিয়ন আজ ঠিক করেছে সে ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্নহত্যা করবে !

এই মুহুর্তে মা-বাবার থেকেও বেশি রাগ হচ্ছে নওশীনের উপর !
সব দোষ এই মেয়েটার !
ইচ্ছে হচ্ছে ওর চুলগুলো সব টেনে টেনে ছিড়ে দিই !

নওশীন হলো রিয়নের কাজিন,
মানে সম্পর্কে মামাতো বোন ।
সারাদিন এই মেয়েটি পড়াশোনা করে আর তাই স্বাভাবিকভাবেই রিয়নের চাইতে নওশীনের রেজাল্ট অনেক ভালো এসেছে !

আর ফ্যামিলির কোন একজন পড়াশোনায় অন্যদের চাইতে ভালো হলে যা হয় আর কি !

উঠতে বসতে নওশীনের কথা শুনতে হয় রিয়নের !
নওশীনের ভালো রেজাল্ট নিয়েও কটু কথা শুনতে হয় রিয়নের ।

এতে আরো বেশি রাগ হয় রিয়নের !

রিয়ন কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আস্তে আস্তে হেঁটে লাল ব্রিজটার একেবারে মাঝখানটায় চলে যায় ।

মাথাটা ঝুকে রিয়ন নিচের পানির স্রোত দেখতে থাকে,
চোখ দিয়ে বেশ কয়েক ফোঁটা পানি পড়ে !
রিয়ন দেখে, চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে নিচের নদীর পানির সাথে মিশে যাচ্ছে ।

সূর্যটা আস্তে আস্তে পশ্চিম কোণে হেলে যাচ্ছে,
রাস্তায় যানবাহনের প্রচন্ড ভিড় !
এখন যদি ব্রিজের উপর উঠে লাফিয়ে পড়া যায় তবে কেউ খেয়লই করবে না !

রিয়ন ভাবে, তার কাঙ্খিত সময় এখনই,
আর এক মুহুর্তও দেরী করা যাবে না !
যা করার এখনই করতে হবে !

এক পা করে আগিয়ে ব্রিজটির আরেকটু কাছে চলে যায় রিয়ন ।
নিজেকে থামানোর কোন ইচ্ছেই নেই রিয়নের !

রিয়নের একটা খারাপ অভ্যাস আছে !
কোন কাজের কথা একবার মাথায় আসলে ঠিক ঐ কাজটি শেষ করা না পর্যন্ত রিয়ন শান্ত হয় না !

এমনটিতেই রিয়ন খুব শান্ত ছেলে ।
কোন কাজ করার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখে ।

আন্তু আজ আর কোনকিছু ভেবে দেখলো না সে !
নিজে আত্নহত্যা করে বাবা-মার উপর বকুনীর শোধ নিতে চায় সে !

ভাবতে ভাবতে রিয়ন ব্রিজটার একেবারে উপরে উঠে যায় !
এইতো সময় !

রিয়ন লাফানোর জন্যে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে নিলো ।
লাফাতে যাবার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগমুহুর্তে পিছন থেকে একটা ডাক শুনতে পায় সে !

একটা মেয়ের কন্ঠ !
কন্ঠটা রিয়নের কাছে বেশ অপরিচিত !
এর আগে সে এই কন্ঠ কখনও শোনেনি !

-এই যে শুনছেন ?
রিয়ন পিছন ফিরে তাকায় ....

একটা অপরিচিত মুখ, আর অপরুপ সৌন্দর্যের এক মোহনীয় চেহারা !
দেখলেই যেন মায়া লেগে যায় !
রিয়ন কয়েক মিনিট মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে ।
এর আগে এতো সুন্দর কোন মেয়েকে দেখেনি সে !

রিয়নের অবাক আর নিস্পলক দৃষ্টি ভাঙিয়ে আবারো একটা ডাক ভেসে এলো !

-এই যে আপনাকে বলছি ....
এতো উপরে কি করছেন ?
পড়ে যাবেন তো !

রিয়ন শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মেয়েটির দিকে !
কি বলবে ভেবে পায় না !

মেয়েটির আরো কয়েকবার অনুরোধে ব্রিজের উপর থেকে নিচে নেমে আসে রিয়ন ।

নিচে আসার পর রিয়ন আরো বেশি অবাক হয়ে যায় !
উপর থেকে যতোটা সুন্দর মনে হচ্ছিলো নিচে এসে তার চেয়ে দ্বিগুন সুন্দর দেখতে লাগছে মেয়েটিকে !

যেন হঠাত্‍-ই আসমান থেকে নেমে এসেছে মেয়েটি !

খোলা চুল,
কপালের ঠিক মাঝখানটাতে ছোট একটা কালো টিপ,
আর পরনে রয়েছে সাদা রঙয়ের থ্রী-পিস !
চোখদুটো একেবারে ঘোর কালো বর্ণের,
যেন এইমাএ চোখে কাজল দিয়ে এসেছে !

এক কথায় মেয়েটিকে অনেক সুন্দর দেখতে লাগছিলো !

রিয়নের ও ঠিক এই রকম মেয়েদেরই পছন্দ ।
খুব বেশি ফ্যাশানেবল নয়,
অনেকটাই সাদাসিধে টাইপের পোশাক আর সাজগোজ পছন্দ করে রিয়ন ।

কলেজের একটি মেয়েকে রিয়ন পছন্দ করতো !
কলেজের সেই পছন্দের মেয়েটির সাথে এই মেয়েটির খানিকটা মিল খুঁজে পায় ও !

মেয়েটিকে রিয়ন কি বলবে ঠিক ভেবে পেলোনা !
আসলে, সুন্দরী মেয়েদের সামনে রিয়ন ভীষনই লজ্জা পায় !
এমনিতেই ছোট থেকেও রিয়ন একটু লাজুক স্বভাবের ।

ঠিক এই মুহুর্তে কোন কথা বললে ঠিক হবে সেটি বুঝতে পারে না ও ।

এভাবে কেটে যায় আরো প্রায় দু -তিন মিনিট সময় !

(চলবে....)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০১



বাঙ্গালীদের খাদ্যাভাস বদলে গেছে।
অদ্ভুত সব খাবার মানুষ এখন খায়। আগ্রহ নিয়েই খায়। ইউটিউব দেখে মানুষের চিন্তা চেতনা এবং ব্যবহার বদলে গেছে। বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসায় লস নাই। মানুষজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×