মাত্র এক জু'মায় অ্যাপীলের অনুমতি পাওয়ায় আমার মন খারাপ হয়েছিল। এমনিই নিজে তেমন দিতে পারছি না প্রচন্ড মায়া হওয়া সত্ত্ব্ওে, প্রভাব প্রতিপত্তিও নেই ব্লগার শৌমচৌ, রাসেল, সাদিক, কৌশিক, অরূপদের মত। ছোট মানুষ তাতে কি, ইচ্ছা হতে নেই বুঝি?
দু'সপ্তাহ আগে এক জুমায় প্রাপ্তির জন্য আবেদন করা হয়। আমি তেমন আশাবাদী ছিলাম না। কারণ, জু'মা পড়তে আসে সব ছাত্ররা। আর অ্যাপীল করার অনুমতি পেয়েছি মাত্র এক জুমায়। তাছাড়া ঘোষণা আমি দিব না, ব্রাদার মাহমুদ দিবেন। আমি যতটুকু ইমোশনাল এটাচমেন্ট নিয়ে অ্যাপীল করতে পারতাম, ব্রাদার মাহমুদ তা করতে পারবেন না। কাষ্ঠ শুকনা একটা আবেগহীন ঘোষণা দিবেন। সাদিকের পোস্ট মানুষের ভিত টলিয়ে দিয়েছে, তাতেই না এত সাড়া জেগেছে। টাকা কি আদৌ উঠবে?
আমাকে অভিভূত করে শুধু এক জুমা থেকেই উঠল 550 ডলার। শুধু তাই না, জু'মার সময় হাতে টাকা ছিল না বলে পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন এসে আরও 150 ডলার দিয়ে গেলেন। আমার পরিচিত পরিমন্ডল থেকে পেলাম আরও 250 ডলার। যেখানে আমার টার্গেট ছিল 200 ডলার তোলা, উঠে গেল দু'সপ্তহের মাথায় উঠে গেল প্রায় এক হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার! টার্গেটের 5 গুণ! আমি অভিভূত, সত্যিই অভিভূত। নি:সন্দেহে আমি কিছুই করি নি। আমার টাকা পয়সার অবস্থা ফকিরের চেয়েও অধম এখন। ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এক অংকের সংখ্যা। আমার পক্ষে তেমন দেয়া সম্ভব হয় নি। আমি যা দিয়েছি তার প্রায় 50 গুণ উঠে এসেছে! সোবহানাল্লাহ! যারা দিয়েছে তাদের 85% ই হবে স্টুডেন্ট। বেশির ভাগই অবাঙালি (বাঙালি একজন আঙ্কেল কয়েক সপ্তাহ আগে মারা যাওয়ায় বাঙালি কমিউনিটিতে অ্যাপীল করি নি, সবাই আঙ্কেলের পরিবারের পুর্নবাসন নিয়ে ব্যস্ত)। প্রাপ্তির জন্য সমবেদনার জন্য তাদের স্রেফ মানবিকতা ছাড়া কোন কারণ খুঁজে পেলাম না! মানবিক কারণে স্টুডেন্ট মানুষগুলো তাদের এত কষ্টের উপার্জন থেকে কি অবলীলায় প্রাপ্তির জন্য দিয়ে দিল। মজার ব্যপার হল মোট 820 ডলার ওঠার পরে আমি সন্তুষ্ট চিত্তে ওটা ঢাকায় পৌছানোর ব্যবস্থা করলাম। এরপরেই আরও 150 ডলার চলে এল, না চাইতেই। 'প্রবাসী' যেই চ্যারিটি অর্গেনাইজেশনটা টাকা তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের কাছে পৌছে দিব এই দেড়শ ডলার ইনশাআল্লাহ।
টাকার অংকটা দিলাম, কেউ মন খারাপ করবেন না কিন্তু খবরদার। প্রত্যেকে চেষ্টা করছেন জানি, সেই চেষ্টা আর শুভ কামনার মূল্য অনেক। আমি চেষ্টা না করতেই শুধু মাত্র মানুষগুলো জানার সাথে সাথেই কি আশ্চর্যভাবে দেয়ার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেটা বলতেই এই পোস্টটা করলাম। মনটা ভরে গিয়েছে একদম। খালি মনে হচ্ছে, নাহ, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। অনেক সুন্দর মনের মানুষে ভরা এই বিষাক্ত পৃথিবী। এরাই পারবে বিষাক্ত পৃথিবীর বুক চিড়ে ফুলের বাগান করতে। কি ভাগ্যবতী আমি এই সুন্দর মানুষগুলোকে পাশে পাচ্ছি প্রতি দিন। আই লাভ দিস পিপল! আই লাভ মাই আইসক (ইসলামিক সোসাইটি অন ক্যাম্পাস)!
আদরে ভত্তা করে ফেলতে ইচ্ছা করছে ছোট্ট প্রাপ্তি মনিকে মানুষের এত সুন্দর চেহারার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। সুস্থ হয়ে যাবি তুই ইনশাআল্লাহ, তখন কিন্তু এই ভালবাসাগুলো পৃথিবীর মানুষদের সুদে আসলে ফিরিয়ে দিতে হবে! তেলাপোকাকে বলেছিলাম প্রাপ্তির জন্য আমার হয়ে এক ডজন চুড়ি কিনে নিয়ে যেতে। ওই ব্যাটা নাকি যাচ্ছে না। আর কেউ কি পূরণ করবেন এই অধমের মন বাসনা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



