somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপ্তি থেকে প্রাপ্তি

০৩ রা জুন, ২০০৬ রাত ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা পোস্টে বলেছিলাম প্রাপ্তির জন্য ইউনিভার্সিটির জুমায় টাকা তোলার অনুমতি নেয়া নিয়ে কি ঝামেলা হয়েছে। এই ভাবে টাকা তুলে সহজেই তৃতীয় বিশ্বগুলোতে টেররিস্টদের আখড়া বানানো যায়, ট্রেনিং ক্যাম্প গড়ে তোলা যায়, অস্ত্র কেনা যায়। পশ্চিমা দেশগুলোতে তাই ইসলামী সংগঠনগুলোর উপর বিশেষ ভাবে চোখ রাখা হচ্ছে, তারা কোথাথেকে টাকা পাচ্ছে, কোন খাতে টাকা খরচ করছে সব কিছুর পুংখানুপুংখ হিসেব নেয়া হচ্ছে। তাই প্রাপ্তির জন্য টাকা তোলার প্রস্তাবনা তুলতেই জবাবদিহি করতে হয়েছে অনেক। দু:খজনক ঘটনা, কিন্তু চরম বাস্তবতা।
মাত্র এক জু'মায় অ্যাপীলের অনুমতি পাওয়ায় আমার মন খারাপ হয়েছিল। এমনিই নিজে তেমন দিতে পারছি না প্রচন্ড মায়া হওয়া সত্ত্ব্ওে, প্রভাব প্রতিপত্তিও নেই ব্লগার শৌমচৌ, রাসেল, সাদিক, কৌশিক, অরূপদের মত। ছোট মানুষ তাতে কি, ইচ্ছা হতে নেই বুঝি?
দু'সপ্তাহ আগে এক জুমায় প্রাপ্তির জন্য আবেদন করা হয়। আমি তেমন আশাবাদী ছিলাম না। কারণ, জু'মা পড়তে আসে সব ছাত্ররা। আর অ্যাপীল করার অনুমতি পেয়েছি মাত্র এক জুমায়। তাছাড়া ঘোষণা আমি দিব না, ব্রাদার মাহমুদ দিবেন। আমি যতটুকু ইমোশনাল এটাচমেন্ট নিয়ে অ্যাপীল করতে পারতাম, ব্রাদার মাহমুদ তা করতে পারবেন না। কাষ্ঠ শুকনা একটা আবেগহীন ঘোষণা দিবেন। সাদিকের পোস্ট মানুষের ভিত টলিয়ে দিয়েছে, তাতেই না এত সাড়া জেগেছে। টাকা কি আদৌ উঠবে?
আমাকে অভিভূত করে শুধু এক জুমা থেকেই উঠল 550 ডলার। শুধু তাই না, জু'মার সময় হাতে টাকা ছিল না বলে পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন এসে আরও 150 ডলার দিয়ে গেলেন। আমার পরিচিত পরিমন্ডল থেকে পেলাম আরও 250 ডলার। যেখানে আমার টার্গেট ছিল 200 ডলার তোলা, উঠে গেল দু'সপ্তহের মাথায় উঠে গেল প্রায় এক হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার! টার্গেটের 5 গুণ! আমি অভিভূত, সত্যিই অভিভূত। নি:সন্দেহে আমি কিছুই করি নি। আমার টাকা পয়সার অবস্থা ফকিরের চেয়েও অধম এখন। ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এক অংকের সংখ্যা। আমার পক্ষে তেমন দেয়া সম্ভব হয় নি। আমি যা দিয়েছি তার প্রায় 50 গুণ উঠে এসেছে! সোবহানাল্লাহ! যারা দিয়েছে তাদের 85% ই হবে স্টুডেন্ট। বেশির ভাগই অবাঙালি (বাঙালি একজন আঙ্কেল কয়েক সপ্তাহ আগে মারা যাওয়ায় বাঙালি কমিউনিটিতে অ্যাপীল করি নি, সবাই আঙ্কেলের পরিবারের পুর্নবাসন নিয়ে ব্যস্ত)। প্রাপ্তির জন্য সমবেদনার জন্য তাদের স্রেফ মানবিকতা ছাড়া কোন কারণ খুঁজে পেলাম না! মানবিক কারণে স্টুডেন্ট মানুষগুলো তাদের এত কষ্টের উপার্জন থেকে কি অবলীলায় প্রাপ্তির জন্য দিয়ে দিল। মজার ব্যপার হল মোট 820 ডলার ওঠার পরে আমি সন্তুষ্ট চিত্তে ওটা ঢাকায় পৌছানোর ব্যবস্থা করলাম। এরপরেই আরও 150 ডলার চলে এল, না চাইতেই। 'প্রবাসী' যেই চ্যারিটি অর্গেনাইজেশনটা টাকা তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের কাছে পৌছে দিব এই দেড়শ ডলার ইনশাআল্লাহ।
টাকার অংকটা দিলাম, কেউ মন খারাপ করবেন না কিন্তু খবরদার। প্রত্যেকে চেষ্টা করছেন জানি, সেই চেষ্টা আর শুভ কামনার মূল্য অনেক। আমি চেষ্টা না করতেই শুধু মাত্র মানুষগুলো জানার সাথে সাথেই কি আশ্চর্যভাবে দেয়ার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সেটা বলতেই এই পোস্টটা করলাম। মনটা ভরে গিয়েছে একদম। খালি মনে হচ্ছে, নাহ, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। অনেক সুন্দর মনের মানুষে ভরা এই বিষাক্ত পৃথিবী। এরাই পারবে বিষাক্ত পৃথিবীর বুক চিড়ে ফুলের বাগান করতে। কি ভাগ্যবতী আমি এই সুন্দর মানুষগুলোকে পাশে পাচ্ছি প্রতি দিন। আই লাভ দিস পিপল! আই লাভ মাই আইসক (ইসলামিক সোসাইটি অন ক্যাম্পাস)!
আদরে ভত্তা করে ফেলতে ইচ্ছা করছে ছোট্ট প্রাপ্তি মনিকে মানুষের এত সুন্দর চেহারার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। সুস্থ হয়ে যাবি তুই ইনশাআল্লাহ, তখন কিন্তু এই ভালবাসাগুলো পৃথিবীর মানুষদের সুদে আসলে ফিরিয়ে দিতে হবে! তেলাপোকাকে বলেছিলাম প্রাপ্তির জন্য আমার হয়ে এক ডজন চুড়ি কিনে নিয়ে যেতে। ওই ব্যাটা নাকি যাচ্ছে না। আর কেউ কি পূরণ করবেন এই অধমের মন বাসনা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×