কাল ওপরাহ দেখছিলাম। আমেরিকার এক মহিলার ইন্টারভিউ হচ্ছিল। মহিলার দিকে তাকানো যায় না, কৃষ্ণাংগ মহিলার গায়ে সাদা ছোপ ছোপ, যেন চামড়া ছিলে নেয়া হয়েছে। চুল এখানে সেখানে উঠান। এই কান্ড করেছে তার স্বামী (না পিশাচ)... ওর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওপরাহ মহিলার সাক্ষাৎকার নেয়ার এক পর্যায় জিজ্ঞাসা করেছে, 'তুমি তোমার স্বামীকে কিছু বলতে চাও?' মহিলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, 'যদি ভাল কিছু বলার না থাকে, তাহলে চুপ থাকাই ভাল।'
একজন মানুষের উপর এত জঘন্য ব্যবহারের পরেও এরকম উত্তর দেখে আমি অভিভূত। লোকটা যে যুদ্ধে গোহারা হেরেছে তা নতুন করে বুঝলাম।
যাই হোক, আমার মহিলার ফিলোসফি খুব ভাল লেগেছে, ভাল কিছু বলার না থাকলে চুপ থাকা ভাল।
একটু সম্প্রসারণ করে যোগ করছি: ভাল জবাব দিতে না পারলে জবাব না দেয়াই ভাল।
বাক স্বাধীনতা দারুণ একটা জিনিস, তবে বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার সবচেয়ে খারাপ জিনিস। রাস্তায় যাকে তাকে ধরে 'থাপপড়' দেয়াকে স্বাধীনতা মনে করি না, বরং তা স্বাধীনতার অপব্যবহার। যদি আমি থাপপড় খাওয়া থেকে বাঁচতে চাই তাহলে আমার সবার আগে মাথায় দুই ছটাক ঘিলু ঢুকাতে হবে এবং যাকে তাকে ধরে র্যানডম আনজাস্টিফাইড থাবড়া থাবড়ি বন্ধ করতে হবে। বিতর্ক একটা সুন্দর জিনিস, সুষ্ঠু আলোচনার পরিবেশ একটা বড় প্রাপ্তি। কান বন্ধ করলে যে কান বন্ধ করছে তারই অপমান, কারণ বলার আগে শুনতে হয়। আমি 'আমার কথা শুনতে হবে' তখনই দাবী করতে পারব যখন আমি অন্যের কথা শুনি। মানি না মানি তা পরে, শুনা আগে। নাই যদি শুনলাম তাইলে মানার যোগ্যতা বিচার করব কি করে?
পরিশেষে, এগ্রি টু ডিসেগ্রিতে বড়ই সৌন্দর্য। আই লাভ দিস ফ্রেইস।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

