সুযোগ পেলেই উঁকি দিতে মন চাইবে না এই জটিল ফ্যাক্টরিতে বলুন? অথচ দেখুন, সামাজিক মানুষ হওয়া মাত্রই আমাদের মস্তিষ্কের খুব অল্প একটা অংশের নিকাব উম্মোচন করা। ভদ্রতার খাতিরে, সুস্থতার খাতিরে। ব্লগে সেই বাঁধাগুলো অনেকাংশেই কমে যায়। কারণ এখানে মানুষ নাম পরিচয় চেহারাবিহীন শুধু মাত্র একজন মানুষ (বা মানুস বা মানুশ) হয়ে থাকতে পারে, নিজে চাইলে।
ফলে বিভিন্ন ব্যাপারে মানুষের খুব ব্যক্তিগত, সুচিন্তিত, আটপৌরে ভাবনার নাগাল পাওয়া যায় ব্লগে। যাদের সাথে এই ইহজীবনে কখনই দেখা হতো না, তাদের নাগাল পাওয়া ব্লগের কল্যাণে। ভাবনা চিন্তা, জীবন দর্শন দেখা যায় ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগিয়ে। ব্যবচ্ছেদ করে।
ওহ, এই আলোচনায় আমি শুধু মাত্র ভিন্ন মতের বিরোধিতা করার জন্য স্রেফ গালিবাজ ফালতু আইডিগুলোকে ধতর্ব্যে আনছি না। কারণ, তারা নিজেদের গালি সংক্রান্ত নিউরণগুলো বিচ্ছিরি ভাবে নগ্ন করা ছাড়া জীবন দর্শন সংক্রান্ত অন্য কোন তথ্য দিতে নারাজ। সামাজিক বাঁধাগুলো ডিঙাতে পারছেন না।
ব্লগের অন্যান্য মানুষদের কথা জানি না, কিন্তু এই আমি পৃথিবীতে মোটে বিশ বসন্ত পার করলাম। প্রথম দশ বছরের হিসেব এবং ঘুম বাদ দিলে, পৃথিবীকে চোখ মেলে দেখেছি মোটে তিন চার বছর। এই চার বছরের অভিজ্ঞতাই আমার সম্বল। আমার আমি। একজন মানুষ কতখানি মানুষ, সেটা বুঝা যায় তার জীবন দর্শনে, তার ব্যক্তিত্বে এবং এই দু'য়ের জটিল বিক্রিয়ায় সৃষ্ট কাজে। আমি এখন 'মানুষ' হওয়ার প্রক্রিয়ায় (সারা জীবনই থাকবো একই প্রকিয়ায়, কিন্তু এখন বেশি)। তবে ব্লগের অনেকের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছি, এবং থাকবো, বয়সে আর অভিজ্ঞতায় হেরে গিয়ে। বয়সের সাথে যেই বিচক্ষনতা আসে সেটা আমাতে অনুপস্থিত। একটা পাঁচ বছরের শিশু সুযোগে দশটা চকলেট এক সাথে খেয়ে ফেলার লোভ সামলাতে পারলেই তা তার জন্য অনেক কিছু। কিন্তু পঁচিশ বছরে তাকে অন্য ভাবে নিজের মনুষত্ব এবং ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা দিতে হয়। তাই বয়স এবং অভিজ্ঞতা, সাথে জীবনের মুখোমুখি হওয়ার পর্যায়টা ফু দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার মত না মোটেই।
(চলছে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



