প্রথম সাঁতার দেয়ার অভিজ্ঞতাটা আমার ভয়াবহ। পুকুরে মুকুল মামা এক হাত দূর থেকে আমাকে বলছিল, আয় আমাকে ধর। আমি হাত বাড়াতেই মামা আরো দূর। মরিয়া হয়ে আরেকবার হাত বাড়াতে মামা আরো দূর। এবং আরো। এক সময়, টের পেলাম পাড় থেকে বেশ অনেক দূরে চলে এসেছি। এখন ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।
জান বাঁচানোর প্রবল তাড়নায় মামার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দিতেই ধরে ফেললাম। কিন্তু মামা কি করলো দেখুন! মুহূর্তে পানির নিচে উধাও।
আমি কিছুক্ষন ধরে রাখার চেষ্টা করতেই দেখি নাকানি চুবানি খাচ্ছি। ছেড়ে দিলাম। তারপরে আমার জীবনের জন্য সংগ্রাম শুরু হলো। সমানে পুকুরের শ্যাওলা গন্ধের পানি খাচ্ছি, নাক মুখ দিয়ে এক সাথে, হাত পা ছুঁড়ছি। যতটুকু সময় পুকুরের পানির উপরে ছিলাম, হাপুশ নয়নে কাঁদছি। মনে মনে মা বাবাকে বিদায় দিলাম, আমার প্রিয় জিনিসগুলো ছোটবোনকে দিয়ে দিলাম।
বলাই বাহুল্য, পাড়ে ফিরে এসেছিলাম আস্ত আমি। এবং তারপরে, সেদিনই পুকুর সাঁতার দিয়ে পার হলাম আমি একা। একদম একা।
ব্লগারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আমার নিজেতে যতটুকু বিশ্বাস নেই, তার চেয়েও গভীর পানিতে আমাকে বরাবর ছুঁড়ে ফেলার জন্য। আমি হাত পা ছুঁড়ি, কাঁদি, বালখিল্য আচরণ করি, কিন্তু তারপর, অতটুকু গভীরতার পানিকে যে চেনা হয়ে যায়! অনেকটা 'এ' সেকশনের মত। সব বাছাই করা মস্তিষ্কের মধ্যে পড়ে খুব হকচকিয়ে গিয়েছিলাম ক্লাস সেভেনে। কিন্তু আশে পাশের মানুষগুলোই যে আমাকে সাঁতার শিখালো!
তারপরে বড় পুকুর আছে, ছোট নদী আছে, বড় নদী আছে, সাগর আছে, মহাসাগর আছে। মহাসাগরে সাঁতার কাটতে পারার জন্য যা লাগে, আমার তা নেই। কখনও হবে না। কিন্তু নদী পর্যন্ত তো যেতে পারি! তার জন্য যা দরকার তা শিখিয়ে দিতে পুকুরের অবদান কম বুঝি?
(চলছে তো...)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



