somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামহোয়ার ইন এবং আমি (আস্তমেয়ে) - 2

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চার বছর মোটে সময় পেলাম নিজের জীবন দর্শন এবং ব্যক্তিত্বে ইট বসাতে, সিমেন্ট লাগাতে আর কারুকাজ করতে। শিক্ষক হিসেবে বই ভালোবাসি, কিন্তু বই তো ইউনিভার্সিটির লেকচারারদের মত। লেকচার দিয়ে যাবে একনায়কতন্ত্রের মত, আপনার ভাবনা চিন্তা সেখানে গৌন। আর ব্লগ? টিউটরিয়াল আর প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসগুলোর মত। গ্রুপ স্টাডিস, ফীড ব্যাক, প্রতিযোগিতা, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মারা, চ্যালেঞ্জড হওয়া। প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া, খুব ছোট বোধ করতে করতে আরেকটু বড় হওয়া।

প্রথম সাঁতার দেয়ার অভিজ্ঞতাটা আমার ভয়াবহ। পুকুরে মুকুল মামা এক হাত দূর থেকে আমাকে বলছিল, আয় আমাকে ধর। আমি হাত বাড়াতেই মামা আরো দূর। মরিয়া হয়ে আরেকবার হাত বাড়াতে মামা আরো দূর। এবং আরো। এক সময়, টের পেলাম পাড় থেকে বেশ অনেক দূরে চলে এসেছি। এখন ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।

জান বাঁচানোর প্রবল তাড়নায় মামার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দিতেই ধরে ফেললাম। কিন্তু মামা কি করলো দেখুন! মুহূর্তে পানির নিচে উধাও।

আমি কিছুক্ষন ধরে রাখার চেষ্টা করতেই দেখি নাকানি চুবানি খাচ্ছি। ছেড়ে দিলাম। তারপরে আমার জীবনের জন্য সংগ্রাম শুরু হলো। সমানে পুকুরের শ্যাওলা গন্ধের পানি খাচ্ছি, নাক মুখ দিয়ে এক সাথে, হাত পা ছুঁড়ছি। যতটুকু সময় পুকুরের পানির উপরে ছিলাম, হাপুশ নয়নে কাঁদছি। মনে মনে মা বাবাকে বিদায় দিলাম, আমার প্রিয় জিনিসগুলো ছোটবোনকে দিয়ে দিলাম।

বলাই বাহুল্য, পাড়ে ফিরে এসেছিলাম আস্ত আমি। এবং তারপরে, সেদিনই পুকুর সাঁতার দিয়ে পার হলাম আমি একা। একদম একা।

ব্লগারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আমার নিজেতে যতটুকু বিশ্বাস নেই, তার চেয়েও গভীর পানিতে আমাকে বরাবর ছুঁড়ে ফেলার জন্য। আমি হাত পা ছুঁড়ি, কাঁদি, বালখিল্য আচরণ করি, কিন্তু তারপর, অতটুকু গভীরতার পানিকে যে চেনা হয়ে যায়! অনেকটা 'এ' সেকশনের মত। সব বাছাই করা মস্তিষ্কের মধ্যে পড়ে খুব হকচকিয়ে গিয়েছিলাম ক্লাস সেভেনে। কিন্তু আশে পাশের মানুষগুলোই যে আমাকে সাঁতার শিখালো!

তারপরে বড় পুকুর আছে, ছোট নদী আছে, বড় নদী আছে, সাগর আছে, মহাসাগর আছে। মহাসাগরে সাঁতার কাটতে পারার জন্য যা লাগে, আমার তা নেই। কখনও হবে না। কিন্তু নদী পর্যন্ত তো যেতে পারি! তার জন্য যা দরকার তা শিখিয়ে দিতে পুকুরের অবদান কম বুঝি?

(চলছে তো...)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×