বিনোদন, ছাড়াতে না পারা নেশা, স্রেফ বিরক্তি কিংবা হতাশ অনুভূতির আড়ালে তাকালে ভাবতে বাধ্য হই, ব্লগিং আসলেই বড় কিছু। নিজের আগের লেখা আর পরের লেখাগুলো মিলিয়ে দেখলে একটা স্পষ্ট পরিবর্তন দেখতে পাই।
আর কেউ পান কি না জানি না, কিন্তু আমি পাই! আর স্বস্তি পাই, যাক, এখনও শিখছি!
পরিবর্তন টের পাই নিজের জীবন দর্শন এবং ব্যক্তিত্বে। এই যেমন, ব্লগীয় একটা আধ্মাতিক উপলব্ধি হলো, আমাদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা, যা মোটামোটি সব সমস্যার মূল--আমরা আত্মবিশ্বাস আর অহংকারের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে জানি না। এই দুর্বলতা আমার আছে (ধন্যবাদ কিছু ব্যক্তিগত আক্রমন মার্কা মন্তব্যকে, যেগুলো আমাকে ভাবিয়েছে)। আমি আত্মবিশ্বাসী হতে চাই, কিন্তু অহংকারী না। আমার যতটুকু বিশ্বাস, ততটুকু আত্মবিশ্বাসসহ করতে চাই, ভয়ে ভ্যাত ভ্যাতে হয় না, কনফিউশনের সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে না। কিন্তু জানতে চাই, আমার জানাটুকুই শেষ জানা না। এতটুকু বিনয় চাই নিজেতে। জানতে চাই, এরপরে নদী আছে, সাগর আছে, মহাসাগর আছে।
বয়স আর অনভিজ্ঞতার ঘাড়ে দোষ চাপাবো--কেবলই মনে হয় সারা বিশ্ব জয় করে ফেলতে পারবো শুধু মুখের কথায়, নিজের একা হাতে। টিউশনি করতে গিয়ে টের পেয়েছি, নিজের কাছে কত আশা করি। সপ্তাহে একদিন এক ঘন্টা চোখে চোখ রেখে কথা বলে আশা করি জীবন দর্শন বদলে দিব! ব্লগের পরিসরে এই যে সামাজিকতার আড়ালহীন কাঁচামালীয় ভাবনা চিন্তা, জীবন দর্শন, ব্যক্তিত্বের নাগাল পাচ্ছি, তাই আত্মবিশ্বাসের সাথে নাকানি চুবানি খেয়ে নিজের সীমাবদ্ধতাকে চিনতে পারছি। হাত পা ছুঁড়া ছুঁড়ি না করলে বুঝি বুঝতাম সুক্ষ্ম, দেখতে না পাওয়া সূতোগুলো কোথায় কোথায়? তাই কৃতজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে, সামহোয়ার ইন জীবনীশক্তি নিয়ে বেঁচে থাকলে আমার লাভ। অনেক লাভ। ব্লগানোর একশ' একটা কারণ সহ তাই বলতে চাই, সামহোয়ার ইন, যুগ যুগ জিও।
[যেহেতু চিন্তাভাবনা ক্রমাগত পরিবর্তনীয়, তাই কথা দিতে পারছি না আগামী কালও একই আশা করবো
]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



