অথচ শেষ বার নদীতে আকণ্ঠ অবগাহন করেছি বোধ হয় নয় বছর বয়সে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সিডনীতে যতবার সাগরের কাছে গিয়েছি, ঢেউয়ের ঝাপটা খেয়েছি ফেরি থেকে, না হয় তীর ঘেষে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ঢেউয়ের টোকা খেয়ে শিহরিত হয়েছি।
তাই রবিবারে সামনে যখন বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত দেখলাম, তখন দিশেহারা হয়ে গেলাম।
প্ল্যানটা একেবারেই হুট করে হলো। শনিবার অলস দুপুরে এমএসএনে বসে চ্যাটাচ্ছিলাম, হঠাৎই তলব ড্রইং রুমে। দশ মিনিটের মাথায় সিদ্ধান্ত হয়ে গেল পরের দিন ফজরের পরেই আমরা রওনা দিবো সাউথ ওয়েস্ট রকস--নিউ সাউথ ওয়েলসের একদম উত্তরে একটা সামুদ্রিক এলাকার উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে প্রায়ে সাত ঘন্টার ড্রাইভ। থাকা হবে মাহমুদ আঙ্কেলের বাসায়। আঙ্কেল ওখানে একা থাকেন, পরিবারের অন্যান্যেরা সিডনী। বহুদিন ধরেই যেতে বলছিলেন। যাওয়া হচ্ছিলো না। এবার হুট করেই!
তারপরে হুট হাট তৈরি হওয়া। রান্না করে প্যাকেট করা। কম্বল, বালিশ, কাপড় চোপড়ে গাড়ি বোঝাই করা। এবং অত:পর, পরের দিন সকালে পাঁচ জনের কাফেলা গাড়ি বোঝাই করে যাত্রা শুরু করা, গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি! সবার স্নায়ু তীব্র চাপে থাকে "নতুন-ড্রাইভিং-শিখতে-থাকা-আমি"-র হাতে ওদের জীবন ছেড়ে দিতে, তাই এক ঘণ্টার বেশি চান্স পেলাম না। আউশ মিটে নি, কিন্তু ৯০ কিমি/ঘন্টা গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি প্যাসেফিক হাইওয়েতে, এই বা কম কিসে!
মাহমুদ আঙ্কেলের ওখানে পৌছে, ব্যাগ রেখে, দুপুরের খাবার নাকে মুখে গুঁজে বেরিয়ে গেলাম সাগরের অমোঘ টানে।
সমুদ্র সৈকতের নাম 'ফ্রন্ট বীচ'। ছোট্ট ম্যাপটা দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেল... কি আশ্চর্য, এই জায়গায় সাগরের নাম 'প্রশান্ত মহাসাগর'ই, কোন উপসাগর টুপসাগর না!
প্রশান্ত মহাসাগরের স্পর্শ নিয়ে আসছি পরের পর্বে...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






