somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকাশের আয়না সাগরের স্পর্শ - 2

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই বিকেল বেলা, পার্ক করা গাড়ির দরজা খুলতেই পূব দিক থেকে তীব্র বাতাসে সাগরের মাতাল করা নোনা গন্ধ পেলাম। সাগর তীরেই একটা উঁচু পাথুরে পাহাড়। ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে সাগরে গিয়ে মিশেছে পাথুরে দেয়াল। পাহাড়ের উপর ঘাসের কার্পেটে ছাওয়া। বেশ কয়েকটা কাঠের বেঞ্চি। সেখানে তীব্র বাতাসে ভেসে আসছে সাগরের তীব্র গর্জন! আসলে একে গর্জন বলতে কেমন জানি লাগে, কারণ এত সুন্দর নীল আর সাদার শাড়ি পড়া সাগরকে ক্ষ্যাপা ভাবতে পারি না। বরং কোন ছটফটে তরুনীর মত লাগে, নেচে যাচ্ছে তো যাচ্ছে... আকাশকে পাওয়ার আনন্দে?

পাহাড়ের দুই পাশে দুইটা সৈকত। পাথুরে গা বেয়ে তর তর করে নেমে গেলাম এক দিকের বীচে। একটু দ্বিধা করে দামি স্যান্ডেলটা খুলে হাতে নিলাম। সাদা স্কার্টে বালু লাগবে মন মানতে চাইছিল না। তাই বাতাসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে বালু ধরে একটু হাঁটলাম। প্রথমে শুকনো বালি, তারপরে ভেজা... তারপরে, হঠাৎই একটা দুষ্টু ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেল আমার বেশ খানিকটা। ব্যাস, আড় ভেঙে গেছে! এই বিকেলে হাঁটুর বেশি ভিজানো সম্ভব না বলে ওতটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।

একটু পরে, কনে দেখা আলোতে তীব্র বাতাসের ডাকাতির সাথে পাল্লা দিয়ে ওড়না সামলে দেখছিলাম সাগর। আমি বিমুগ্ধ। কয়েক ঘন্টায় চেহারা পাল্টে গেল যে! কনে দেখা আলোতে প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে সাগরকেও এত সুন্দর দেখায়! নীল সাগরটার উপরে কেউ সোনালী জরির গুড়ো ছিটিয়ে দিয়েছে... ঢেউয়ের তালে তালে সেগুলো নাচছে...

প্রথমে ঢেউ ঘেষে মীরার হাত জড়িয়ে অনেকদূর হাঁটতে হাঁটতে চললো গানের পালা।
"আমি শুনেছি সেদিন তুমি
সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ... " গানটার সুর সহ সব যেন এই মুহূর্তের জন্যই লিখা।
তারপরে, কাঠের বেঞ্চিগুলোতে বসে চললো প্রিয় মানুষদের ডাকার পালা, মনে মনে, মুঠো ফোনে।

এত ঠান্ডার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সন্ধ্যার আগে সবার যখন জমে যাওয়ার উপক্রম, তখন বাসায় ফিরলাম। উদ্দেশ্য, রাতে খেয়ে দেয়ে আবার আসবো বীচে। সেটা হলো না। মাহমুদ আঙ্কেল ভয় ধরিয়ে দিল, কিছুদিন আগে নাকি ওখানে খুন হয়েছে। ততক্ষনে রাত দশটা বাজে। খুন হওয়ার আদর্শ সময়।

রাতের না পাওয়াটা মিটাতেই পরের দিন সাগর দর্শনে গেলাম ফজর পড়ে সাথে সাথেই। সে এক অন্য রকম পরাবাস্তবতা। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সাগর অনেক শান্ত। বীচের মসৃণ বালু দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে দক্ষ কারিগরের হাতে সিমেন্টের ঢালাই করা প্রান্তর... একটুও ভাঁজ নেই, পদচিহ্ন নেই, পুরোপুরি ভার্জিন। কারো স্পর্শ পড়ে নি যে! পূব দিক থেকে একটু একটু সূর্য উঠে সাগরের রং বদলে দিচ্ছিল প্রতি মুহূর্তে। তেরছা আলোয় বিকেলের কনে দেখা আলোর সাগরের চেয়ে একদম অন্য রকম দেখাচ্ছিল সাগরটাকে।

হাঁটতে হাঁটতে এক পাশের পাথরে উঠলাম, জোয়ার উঠলেই যেগুলোতে যাওয়ার উপায় থাকে না। উঠেই চমক। সাগরের দুর্দান্ত ঢেউগুলো পাথরে এসে আছড়ে পড়ছে সাদা ফেনা তুলে। প্রান্তে দাঁড়ালেই সারা গা ভিজে যায় এক ঝলক পানিতে। সুখের শিহরনে গায়ে কাঁটা দেয়। সাথে সাগরের গান, পুরো ব্যাপারটাকে পূর্ণতা দেয়। ছবিগুলো দেখে কান্না পাচ্ছিলো... আসল ঘটনার সিকি ভাগও আসে নি। ভাষাকেও কেমন দুর্বল মনে হচ্ছে। পুরো কনটেক্সটা যদি কোন ভাবে প্যাকেট করে আনা যেত, তাহলে তাই যে এনে ব্লগে ভুস করে ছেড়ে দিতাম! এত সুন্দরকে একা একা দেখা যায়? না উপভোগ করা যায়?

সারা গা ভিজে গিয়েছিল তখনই। তবু পেটে টান পড়তেই বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। একটু পরে এসে সাগরে আদরে ডুবাবো নিজেকে! সে গল্প হবে পরের পর্বে...

(ওহ, সৌন্দর্যে অবগাহনে এত ব্যস্ত ছিলাম, যে ক্যামেরা হাতে নিতে ইচ্ছাই করছিল না। বেশির ভাগ ছবি মীরা আর ভাইয়ার তোলা। তাই কোন ছবির কপি রাইট মামলায় হেরে গেলে নামিয়ে ফেলতেও হতে পারে। আগাম ক্ষমাপ্রার্থী।)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৪১
৩৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×