- নিউরোসাইন্স? কঠিন হবে কিন্তু। টু ডিফারেন্ট সাবজেক্ট এরিয়া ব্লেন্ডেড ইন টুগেদার। লটস টু কিপ ইন য়ুর হেড। কি কি করতে হচ্ছে এ বছর?
- এনাটমি, ফিজিওলি, বায়োকেমিস্ট্রি আর সাইকোলজি।
- আচ্ছা! ফিজিওলি কঠিন হবে। সাইকোলজি তো তুমি পছন্দ করবা। কিন্তু আমি সবচেয়ে পছন্দ করছিলাম এনাটমি। প্র্যাকটিকেলগুলা মজা ছিল। শুধু যাওয়ার আগে কিছু খেও না।
- কেন?
- বডি পার্টসগুলা কেমিকেলে ডুবানো থাকে, বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে যায়...
- বডি পার্টস???!!! রিয়েল, হিউম্যান বডি পার্টস?
- ইয়াপ।
-
(আম্মাআআ)
*************
- আমার বোরহানী এত মজা হয় না ক্যান আন্টি? কি কি দ্যান?
- কোন দই দাও?
- আলদির দই।
- হ্যা, ওইটা আমিও দেই। গোল মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, কাচা মরিচ আর ধইন্যা পাতা বাটা, সরিষা বাটা...
- আচ্ছা! সরিষা বাটা দেই নি কখনও। ইহাই তীব্র স্বাদটার রহস্য! আমি তো রাঁধুনীর প্যাকেট মসলা ঢেলে দিয়েছিলাম।
- ওইটা দিলে তো কটা হয়ে যায়।
- হ্যা হয় তো! এইবার পুরা আন্টীয় রেসিপিতে কাজ চলবে!
*************
- আরে শোনই না, ও তো নাম বদলে ফেলেছে গত হপ্তায়। পুরা একশ সাতাশ ডলার দিয়ে। হি হি হি।
- কেন কেন?
- ওর পুরা নাম ছিল জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরি। জান্নাতুল অজি উচ্চারণে হয়ে যায় জেনেটল... হি হি হি।
- (তাহরিমার টারিমা, সাদিকার স্যাডিকা, আসাদের অ্যাজাড...)
*************
- ওই কিউট পিচ্চিটা নাকি উইল স্মিথের নিজের ছেলে?
- হ্যা! দেখতেই হবে পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস। কবে?
- পিচ্চিরা স্কুলে যাবা, আমরা যাবো মঙ্গলবার।
- উহু, আমরা ক্লাস ফাঁকি দিতো পারবো, নো প্রবস। ওরা যখন বাথরুমে রাত কাটায়, উইল স্মিথ হঠাৎ ছেলের দিকে তাকায় কাঁদে তখন তুমি তো কাঁদবা ফর শোর...
- হ্যা, কান্দা তো আমার খান্দানি রোগ!
- হি হি হি।
*******************
- একটু আগে কনফার্মেশন ইমেইল পেলাম। হয়ে গেছে।
- (ওহ আল্লাহ, শব্দরা সব কই?) হয়ে গেল? খুব লাফাচ্ছেন না? আমি তো দোআ করতেছিলাম আরেকটু পরে হয় যেন।
- আয় হায় বলে কি?! পিচ্চি, এখন থেকে উল্টা দোআ করবি, তাইলে লেগে যাবে। কিন্তু ক্যান?
- আমারে এক টাকা ষাট পয়সার গোলাব জাম খাওয়াবেটা কে শুনি?
- হা হা হা।
- (আর তীব্র বাতাসে স্পীড বোটে ছিটে আসা সামুদ্রিক লবণ পানি খাওয়ার সাথীটা হবে কে? দু'মাইল হেঁটে সাগর দর্শন আর টানা সাত ঘন্টা পানির দিকে তাকিয়ে রেকর্ড করার সঙ্গী হবে কে? যখন তখন গা ছেড়ে দিয়ে পড়ে গেলে ধরে উঠিয়ে দিবেটা কে শুনি?)
*************
- গলা ব্যাথা খুব। ঢোক গিলতে পারছি না। চোখ উঠেছে। সকালে চোখ খুলতে পারি নি। পেট ব্যাথা করছে।
- ইয়াক, তফাৎ যা, তফাৎ যা।
*************
প্রিয় আল্লাহ,
তোমাকে তো আঙ্গুল উঁচিয়ে দোষারোপ করা ছেড়ে দিয়েছি সেই কবে। দিতাম যখন, সেই সময়গুলোকে কি বোকা বোকা মনে হয়! কারণ জানি, ওদের হাতে আমাকে তুমি ছাড়তে না, যদি না আমাকে উঠে আসার ক্ষমতা দিতে। উঠে আসার কষ্টটুকু সহ্য করতে না পেরে কত কিই না বলেছি সেই পিচ্চি বয়সে! এখন তো জানি, সত্যিই জানি, তুমি জানো আমি জানি-- সব নি:স্ব হওয়ার পরেও তুমি, আগেও তুমি, আমাকে তীব্র ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকো। স্তম্ভিত করে দিয়ে ধারালো কেঁচি দিয়ে কেঁটে আলাদা করে যেই শূণ্যতা তৈরি করে দাও, তখনও তুমি থাকো... সুঁই সূতা আর তালির কাপড় হাতে। নি:শর্ত, নির্ভাবনার অক্সিজেনের সাপ্লাইওয়ালা জানালা বন্ধের প্রসপেক্টে হঠাৎ কষ্ট হচ্ছে, খুব! আমাকে অক্সিজেন দাও, প্লীজ!
তোমার একনিষ্ঠ ভক্ত,
আস্তমেয়ে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






